তাসকিনকে পেটানোর গল্প শোনালেন তার পিতা

তাসকিন আহমেদ ও তার পিতা
Vinkmag ad

ছোটবেলায় খুব কম মা-বাবাই চান তার সন্তান খেলোয়াড় হবে। আজ থেকে আরও কয়েকবছর আগে বাংলাদেশে এমন স্বপ্ন দেখাকে রীতিমত অপরাধের চোখেই দেখা হত। কিন্তু প্রায় সব ক্রিকেটারই আবার জানিয়েছেন পরিবারের সাহায্য, অনুপ্রেরণা ছাড়া তাদের ক্রিকেটার হওয়া সম্ভব হতনা। সমর্থন পাওয়ার আগে নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেট খেলাতে বেশ বাধা আসতো পরিবার থেকেই।

জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদের ক্রিকেটে আসার পেছনে বড় অবদান তার বাবা আব্দুর রশিদের। তবে শুরুর দিকে ছেলের ইচ্ছেকে এতটা গুরুত্ব দিতেন না, ভেঙে ফেলেছিলেন তাসকিনের একটি ব্যাটও।

ছোটবেলা থেকেই তাসকিনের ঝোঁক ক্রিকেটে। অন্যান্য ছেলেমেয়েরা মেলায় গিয়ে বায়না ধরতো গাড়ি বা অন্য খেলনার জন্য সেখানে তাসকিনের চাই ব্যাট-বল। বাবাও ছেলের আবদার পূরণে কার্পণ্য করতেন না, কিন্তু বিপত্তিটাও ঘটলো এই ব্যাট-বল নিয়েই। যখন সারাদিন মাঠে পড়ে থাকতেন তাসকিন। রাগে ছেলেকে কিনে দেওয়া সেই ব্যাট নিজেই ভাঙেন আব্দুর রশিদ, তাসকিনকে খেতে হয় পিটুনিও।

সময়ের বিবর্তনে বাবাই তাসকিনের ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে বড় বন্ধু বনে যান, এখনো দুঃসময়ে বাবাই সবার আগে হাতটা কাঁধে রাখেন। করোনা সংকটে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৭ সালে হ্যাটট্রিক করা বলটি নিলামে তোলেন তাসকিন। নিলাম আয়োজক ‘অকশন ফর অ্যাকশনের’ ফেসবুজ পেইজে লাইভে এসে তাসকিনের বাবা শোনালেন ব্যাট ভেঙে ফেলা ও ছেলেকে বেধড়ক পিটুনি দেওয়ার গল্প।

আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ছোটবেলায় তাসকিনকে নিয়ে গিয়েছিলাম আগারগাওয়ে, বানিজ্য মেলা হত সেখানে। অন্য বাচ্চারা মেলায় গেলে গাড়ি বা অন্যকিছু কিনতে চাইতো। কিন্তু ওর টার্গেটই ছিল ব্যাট বল। আমি কিনেও দিয়েছি কিন্তু বাসায় আসার পর হল কি ও এসব নিয়েই মাঠে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৬ ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতো।’

‘একদিন আমার ব্যবসায়িক কাজ সেরে বাসায় ফেরার পথে দেখি রোদের মধ্যে ও খেলছে। তো আমি আমার বাইকটা বাসার নিচে রেখেই মাঠের দিকে গেলাম প্রচন্ড রাগ নিয়ে, তো ও আমাকে দেখেই বুঝেছে বাবা রেগে আছে। তাকে ধরে আমি ঐ ব্যাট দিয়েই পেটাতে পেটাতে বাসায় আনি। আর ব্যাটটা তখনই ভেঙে ফেলি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

তামিমদের কথা বুঝলেও মুমিনুলের কথা বোঝেন না মাহমুদউল্লাহ

Read Next

তামিমের শঙ্কা, ‘মরে’ যেতে পারেন মুশফিক!

Total
10
Share