‘২’ বিষয়ে তামিমকে নিজের চাইতে এগিয়ে রাখলেন বড় ভাই নাফিস

নাফিস ইকবাল তামিম ইকবাল
Vinkmag ad

‘তোমার হল শুরু, আমার হল সারা’। নাফিস যে বছর (২০০৬) দেশের জার্সিতে শেষবারের মত মাঠে নেমেছেন, তার পরের বছরই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন তার ছোট ভাই তামিম ইকবাল। ক্যারিয়ারের শুরুতেই তামিম ইকবাল স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে বলেছেন বড় ভাই নাফিস ইকবালের সাথে জাতীয় দলের জার্সিতে ওপেন করতে চান। না, সে সুযোগ আর হয়ে উঠেনি দেশের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়কের।

২০১৮ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া লিগ চালিয়ে গেলেও অমিত সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় দলে আসা নাফিস ইকবাল জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি। ততদিনে ছোট ভাই তামিম ইকবাল নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ব্যাটিংয়ে দেশের হয়ে সিংহভাগ রেকর্ডই তার দখলে। চাচা আকরাম খান, বড় ভাই নাফিস ইকবালের পর চট্টগ্রামের খান পরিবার থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার এখন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের নব নিযুক্ত কাপ্তান।

খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানলেও নাফিস ইকবাল আছেন ক্রিকেটের সাথেই। কখনো ব্যাটিং পরামর্শক তো কখনো ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্লাবগুলোর। মাত্র এক রাউন্ড পর স্থগিত হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। খেলা স্থগিত হওয়ায় চট্টগ্রামে নিজ বাসায় সময় কাটাচ্ছেন সাবেক এই ওপেনার।

ছোট ভাই তামিম ২২ গজে দাপুটে পারফরম্যান্সে যেমন নিজেকে অন্য অনেকের চাইতে আলাদা করে নিয়েছেন তেমনি মাঠের বাইরেও ব্যক্তি তামিম হৃদয় জিতেছেন ভক্ত সমর্থকদের। করোনার এই সময়টায় নিজ উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু মানুষের, এমন নজিরও গড়েছেন যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এর আগে কেউ করেনি। ক্রিকেটার হয়েও দেশের সবধরণের খেলাধুলা ইভেন্টের অসহায় প্রায় শ খানেক ক্রীড়াবিদের সাহায্যার্থে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তামিমের এমন প্রশংসনীয় কার্যক্রমের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নিজের চাইতে নাফিস এগিয়ে রাখলেন দুই জায়গায়, ‘আমি তামিমকে দুটি জায়গায় এগিয়ে রাখবো। প্রথমে তাকে মানুষ হিসেবে এক নম্বরে রাখবো। সে একজন সন্তান, ভাই, পিতা হিসেবেও অসাধারণ। যা নিয়ে আমরা গোটা পরিবার গর্ববোধ করি। দ্বিতীয়ত, ক্রিকেটার হিসেবে সে আমার চেয়ে অনেক অনেক ভালো। ওর ক্রিকেট সেন্সটাই অন্যরকম। ও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে ক্রিকেটার তামিমের চেয়ে মানুষ তামিকেই আমি বেশি এগিয়ে রাখবো। এ বিষয় দুটিতেই আমি ওকে আমার চেয়ে আলাদা রাখতে চাই।’

ক্রিকেটের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি নাফিসের আছে কিছু ব্যবসাও। লকডাউনের সময়টা নিজের মত করে উপভোগ করতে পারছেন জানিয়ে নাফিস বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমরা অনেক বড় পরিবার। সবাই একই সঙ্গে থাকি। এখানে আমরা ছাড়াও চাচাতো ভাইবোনরা আছে। সবাই মিলে সময় কাটাচ্ছি। রোজা এসেছে, সবাই একসঙ্গে বাসায় জামাতে নামাজ পড়ি, রোজা রাখি। পরিবারকে এমন সময় দেয়াটা কঠিন ছিল। এখন করোনা ভাইরাসের কারণে সেই সুযোটা অনেক বেশি হয়েছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মাইক হাসির চোখে সেরা ‘শত্রু’ একাদশ

Read Next

র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, দুই ফরম্যাটে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া

Total
39
Share