যেকারণে উমর আকমলের শাস্তির মেয়াদ এত বেশি

উমর আকমল
Vinkmag ad

কোন জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর বা কোন দুর্নীতির প্রস্তাব পেলে সাথে সাথে সেটা ক্রিকেট বোর্ড মারফত আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) এন্টি করাপশন ইউনিটকে জানানো আবশ্যক। এটা সকল পেশাদার ক্রিকেটারকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও প্রস্তাব পেয়ে যারা চুপ থাকেন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। ম্যাচ ফিক্সিং করা আর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে আড়াল করা- দুইই শাস্তিযোগ্য।

ভুরিভুরি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনা ঘটে পাকিস্তানে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সরাসরি জড়িয়ে শাস্তি পেয়েছেন অনেকেই। এছাড়া ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়ে তা আড়াল করে যাওয়াতেও শাস্তি পেয়েছেন একাধিক পাকিস্তানি। ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন মোহাম্মদ ইরফান। ২০১৭ সালে মোহাম্মদ নওয়াজ পেয়েছিলেন ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা।

গোটা ক্রিকেট দুনিয়া তোলপাড় করে দেওয়া ঘটনা ঘটে গেলবছরের অক্টোবরে। বাংলাদেশের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়ে তা আড়ল করেন বলে আইসিসির কাছ থেকে শাস্তি পান। ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা (১ বছর স্থগিত) জোটে সাকিবের কপালে।

তবে ২৯ বছর বয়সী পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান উমর আকমল পেলেন বড় মেয়াদের শাস্তি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের এন্টি করাপশন কোডের অনুচ্ছেদ নম্বর ২.৪.৪ ভঙ্গ করায় অভিযুক্ত করেছিল উমর আকমলকে। দুইটি সম্পর্কবিহীন ঘটনায় দুইবার এই কোড অব কন্টাক্ট ভঙ্গ করেছিলেন উমর আকমল।

আকমল নিজের কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ করার কথা স্বীকার করে। ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় দুইজনের কাছ থেকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

অ্যান্টি করাপশন ট্রাইব্যুনালে উমর আকমল কোন ব্যাখ্যা না দেওয়ায় কেস চলে যায় পিসিবির ডিসিপ্লিনারি প্যানেলে।

সেখানে কোন উকিল ছাড়া হাজির হন উমর আকমল। নিজে অপরাধ স্বীকার করলেও সেটা জাস্টিফাই করতে ছলনার আশ্রয় নেন আকমল। তার ওপর আরোপিত অভিযোগ মেনে নিলেও তার মধ্যে কোন অনুশোচনা দেখা যায়নি, তাই শাস্তির পরিমাণটাও বেশি হয়। তার দেওয়া জাস্টিফিকেশন পিসিবি ডিসিপ্লিনারি প্যানেলের কাছে অপ্রত্যয়যোগ্য ও হাস্যকর বলে বিবেচিত হয়েছে।

শুনানী শেষে পিসিবি কর্তা তফাজ্জল রিজভি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘সে বারবার তার মূর্খতাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছিল। তার উত্তর একই রকম ছিল না। সে তার অবস্থান মেনে নিচ্ছিল না আবার এটা অস্বীকারও করছিল না।’

তার মতে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা যথাযথ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এই তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা যথাযথ। পিসিবি শক্ত কোন শাস্তি চেয়েছিল। সাজার মেয়াদ বাড়ানোর এটাই সঠিক সময়, কারণ খেলোয়াড়েরা যতটা শেখার কথা ততটা শিখছে না।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

হোল্ডিং ও ওয়াকারের কণ্ঠে একই সুর

Read Next

হার্শা ভোগলের কাছে আশরাফুল ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি ট্যালেন্ট’

Total
4
Share