হোল্ডিং ও ওয়াকারের কণ্ঠে একই সুর

মাইকেল হোল্ডিং ওয়াকার ইউনুস
Vinkmag ad

করোনা ভাইরাসের প্রভাব কেটে গেলে ফের ২২ গজে ক্রিকেট ফিরলে পরিবর্তন আসতে পারে বেশ কিছু পুরোনো প্রথায়, এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে আইসিসি। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল বল শাইনিং করার ক্ষেত্রে বোলারদের থুতু বা লালা ব্যবহার। এটিতে নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা খুব বেশি। মূলত ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতেই এমন কিছুর ভাবনা ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

বর্তমানে যেসব বাহ্যিক পদার্থ যেমন ভ্যাসলিন বা অন্য কিছু ব্যবহার করে বল শাইনিং করাকে অবৈধ বলে গন্য করা হয়। বলের আকৃতি পরিবর্তন বা উজ্জ্বলতা বাড়াতে মুখের লালা ও ঘামের বাইরে কিছু ব্যবহার করলেই বল টেম্পারিং করার অপরাধে পড়তে শাস্তির মুখে। ২০১৮ সালে কেপটাউন টেস্টে এমন কান্ড ঘটিয়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরুন ব্যানক্রফট।

আইসিসির সবশেষ নির্বাহী সভায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখেই থুথুর পরিবর্তে বাহ্যিক পদার্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। আর এমন কিছুর পুরো বিপরীতে অবস্থান ক্যারিবিয়ান সাবেক পেসার মাইকেল হোল্ডিংয়ের, তার মত বিষয়টি অযৌক্তিক।

৬৬ বছর বয়সী এই ক্যারিবিয়ান বলেন, ‘আমি পড়েছি যে আইসিসি কোভিড-১৯ এর কারণে ক্রিকেটারদের বলের উপর লালা ব্যবহার থেকে বিরত রাখার চিন্তা করছে এবং বলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে আম্পায়ারের সামনে বাহ্যিক পদার্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আমি এর পেছনে কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা।’

খেলা শুরুর আগেই ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে, সিরিজ চলাকালীন সময়ে সবচেয়ে সুরক্ষিত আবাসনে থাকলে ও একজন সুস্থ ক্রিকেটারকেই মাঠে নামানো হলে লালা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অসুবিধা থাকার কথা না। এমনটাই মনে করেন সাবেক ক্যারিবিয়ান তারকা পেসার।

এদিকে পাকিস্তানি পেস বোলিং কিংবদন্তী ওয়াকার ইউনুসও বল শাইনিংয়ের পুরোনো পন্থার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন। লালা ও ঘাম ব্যবহারকে প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন পেসার হিসেবে আমি ব্যাপারটিকে (লালা ব্যবহার না করে বাহ্যিক পদার্থ ব্যবহার) প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ এটি (লালা ও ঘাম ব্যবহার) একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এটা একটা অভ্যাস, এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করাও অসম্ভব।’

যাদের মাথা থেকে এমন নতুন পরিকল্পনাটি এসেছে তারা হতাশা থেকে এমন কিছু চিন্তা করেছে বলেও মনে করেন পাকিস্তানি সাবেক তারকা পেসার, ‘আমি জানিনা এ আলোচনা কিভাবে এসেছে? কিন্তু আমি অনুভব করি খেলাটি যারা খেলতে চায় তারা লকডাউনে হতাশ। তারা এটি নিয়ে বেশি ভাবছে। লালার পরিবর্তে বাহ্যিক কৃত্রিম পদার্থে ব্যবহারের নতুন ধারণাটি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।’

পাকিস্তানের বর্তমান বোলিং কোচ তুলে আনেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ৪৮ বছর বয়সী ওয়াকার বলেন, ‘আপনি হয়তো পূর্বনির্ধারিত পদার্থ ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন বোলারকে। কিন্তু একই সাথে বাস্তবিকভাবে তাকে লালা ও ঘাম ব্যবহার থেকে বিরত রাখাটাও খুব একটা সহজ হবেনা।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

‘উমর আকমলকে আজীবন নিষিদ্ধ করা উচিৎ ছিল’

Read Next

যেকারণে উমর আকমলের শাস্তির মেয়াদ এত বেশি

Total
5
Share