যেসব আলোচনা হল আইসিসির সিইসি সভাতে

আইসিসি মানু সাহনি
Vinkmag ad

করোনা ভাইরাস প্রভাবে থমকে আছে সবধরণের ক্রিকেট। মাঠের খেলা বন্ধ হলেও পুনরায় খেলাটি মাঠে ফেরানো, আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সদস্য দেশগুলোতে করোনার প্রভাব ইত্যাদি বিষয়ে বোর্ডগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে আজ (২২ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সে সম্পন্ন হয় সিইসি (চীফ এক্সিকিউটিভ কমিটি) সভা। সভা শেষে বিসিবির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বরং বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতে কীভাবে এগোনো যায় তার কিছুটা ধারণা ভাগাভাগি করেছে প্রধান নির্বাহীরা।

আইসিসির ১২ টি পূর্ণ সদস্য ও ৩ টি সহযোগী সদস্য দেশের প্রতিনিধি হিসেবে টেলি কনফারেন্সে অংশ নেন বোর্ডগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন,

‘কোভিড-১৯ এর প্রভাব বিস্তার করেছে বিশ্বজুড়েই, তো আইসিসির ১২ টি পূর্ণ সদস্য ও ৩ টি সহযোগী দেশের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান ধরণের একটা টেলি কনফারেন্স ছিল। মূলত কোন দেশে কেমন প্রভাব পড়ছে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসবই আমরা একে অপরের সাথে আলোচনা করেছি। এর সাথে প্রাসঙ্গিক যেসব জিনিস জড়িত ছিল সেসব নিয়েও কথা হয়েছে।’

করোনার প্রভাবে বেশ ভালোভাবেই সংশয় জাগছে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। সভায় এমন কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন,

‘প্রাসঙ্গিকভাবেই চলতি বছর যেহেতু অস্ট্রেলিয়াতে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা রয়েছে সেহেতু কথাতো উঠেই। তবে আয়োজক দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল সভাতে, এর বাইরে তেমন কিছুনা।’

ইতোমধ্যে করোনার কারণে স্থগিত হওয়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর সূচীও নির্ধারিত হবে পরবর্তীতে। এ প্রসঙ্গে বিসিবি প্রধান নির্বাহী বলেন,

‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজতো কেবল আমাদেরই স্থগিত হয়নি, সবারই হয়েছে। সেক্ষেত্রে এসব নিয়ে পরে সরাসরি বৈঠকে হয়তো সিদ্ধান্ত কবে কীভাবে পুনরায় সূচী নির্ধারণ করা যায়।’

সভা শেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি প্রধান নির্বাহী মানু সোহনি বলেন, ‘আমি আমার সকল প্রধান নির্বাহীর কাছে তাদের প্রতিশ্রুতির জন্য কৃতজ্ঞ, তারা এই মহামারী থেকে উতরানর পর ক্রিকেট মাঠে ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ। আমরা একসাথে কাজ করবো আইসিসি ইভেন্ট ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো যথাযথভাবে মাঠে ফেরানোর জন্য।’

‘খেলা মাঠে ফেরানোর ক্ষেত্রে ভালোভাবে বুঝেশুনে, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। আইসিসি ইভেন্টের সাথে জড়িত প্রতেক্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ও খেলাটির স্বার্থ রক্ষায় যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করবো।’

এদিকে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আইসিসির সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে, ২০২০ সালের বিশ্বকাপ যথাসময়ে আয়োজনে স্থানীয় আয়োজক কমিটি ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাথে আমাদের পরিকল্পনা সাজানোই আছে। এমন সিদ্ধান্তই নিব সবাই মিলে যেন খেলাটা মাঠে ফেরা দুর্দান্তভাবে উদযাপন করা যায় এবং সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে পারি।’

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান সভা শেষে জানান, ‘খেলাটি মাঠে ফেরানোর ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সিদ্ধান্তের প্রথম ধাপ ছিল আজকের সভাব। আসলে এই মহামারী থেকে মুক্ত হওয়ার পর কীভাবে খেলা মাঠে ফেরানো যেতে পারে সে সম্পর্কে একটা ধারণা মাত্র।’

‘বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট সম্প্রদায় এর আগে এতটা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। খেলাটির স্বার্থে সম্মিলিতভাবে সেরা সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ করার ব্যাপারে সহকর্মীরা (বিভিন্ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহীরা) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

প্রতিপক্ষের হৃদয় ভেঙে অন্তিম জুটির বীরত্বগাথা

Read Next

‘ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সেঞ্চুরি করলে নিজের জন্য করত’

Total
27
Share