‘সাকিব কিছু জানত না, আমরাই দেখভাল করতাম’

সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড
Vinkmag ad

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার বন্ধু সগির হোসেন পাভেলকে নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’নামে কাঁকড়া হ্যাচারি ব্যবসা চালু করেন বাংলাদেশের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান। করোনা প্রভাবে দেশের এই সংকটময় সময়ে গতকাল (২০ এপ্রিল) বেশ আলোচনায় আসে খামারটি। বকেয়া বেতনের দাবিতে খামার এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভই আলোচনার মূল কারণ।

তবে খামারের অংশীদার সাকিবের বন্ধু পাভেল জানান শ্রমিকদের করা অভিযোগ অনেকটাই মিথ্যা, তাদের বেতন দেবার নির্ধারিত তারিখের আগেই রাস্তায় নেমে পড়ে শ্রমিকরা। চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে অন্তত ২০০ শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন বলে জানা গেলেও পাভেল জানিয়েছেন মাত্র ৫-৬ জন শ্রমিক বিগত চার মাসের বেতন পাবেন, বাকিরা এক মাসের।

একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপে পাভেল বলেন, ‘প্রথমত বেতন বাকি শুধু জানুয়ারি মাসের। এরপর থেকে আমরা প্রতি মাসেই রিলিজ দিয়ে দিচ্ছিলাম। কারণ কোনো কাজ ছিলো না। যারা ফার্মে ছিলো, তারাই শুধু চার মাসের বেতন পাবে। মাত্র পাঁচ-ছয় জন চার মাসের বেতন পাবে। ৩০ তারিখের মধ্যে আমরা বেতন পরিশোধ করে দেব। এটা আন্দোলন না হলেও আমরা অবশ্য দিতাম।’

নানা যুক্তির আড়ালেও সাকিব আল হাসানের নাম জড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান বলেই বকেয়া বেতন ইস্যুতে সাকিবকেও সমালোচনায় পড়তে হয়। কারণ এই সংকটময় সময়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার অথচ তার নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই বেতন পাচ্ছেন না। সাকিব ব্যাপারটি জানতেন কিনা এমন একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল ভালোভাবেই।

৯৯ টি প্রথম শ্রেনির ম্যাচ খেলা বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার সগির হোসেন পাভেল অবশ্য খোলাসা করেছেন সেটিও, ‘বেতন আমাদের ৩০ তারিখের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিলো আমরা সেভাবেই আয়োজন করে রেখেছি। সাকিব ও তো ব্যস্ত ছিলো। সাকিব যখনই শুনেছে বলেছে দ্রুত বেতন দিয়ে দিতে। আমাদের পরিকল্পনাও ছিল ৩০ তারিখের ভেতর দেওয়ার জন্য।’

‘সাকিব এসব কিছু জানত না। আমরাই দেখভাল করতাম। করোনা ভাইরাসের কারণে এই সমস্যা হয়েছে। যখন বিক্ষোভের বিষয়টি সাকিব শুনেছে তখন সে তার ব্যাক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এমন একটা লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্বেও কেন বেতন বিলম্ব হওয়া কিংবা এমন একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া? এমন প্রশ্নের জবাবে পাভেল বলেন,

‘মূলত রপ্তানি হচ্ছে না, করোনা ভাইরাসের জন্য ব্যবসা প্রায় বন্ধ এজন্য সমস্যাটা হচ্ছিল। চার বছর ধরে আমরাতো চালিয়ে আসছি। যারা শ্রমিক ছিলো, তারা তো আমাদের সাথে চার বছর ধরে কাজ করছে। ওদেরকে তো আবার আমরাই নেব।’

তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও আন্দোলনে নামার পেছনে অবশ্য ইন্ধন খুঁজছেন সাকিবের ব্যবসায়িক অংশীদার, ‘কেন এটা ২০ তারিখে (আন্দোলন) করলো আমাদের বুঝে আসতেছে না। আমাদের যেহেতু বেতন দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল। আমার মনে হয় কেউ ইন্ধন বা কেউ কিছু করছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দুস্থদের সাহায্যার্থে বিশ্বকাপের ব্যাট নিলামে তুলছেন সাকিব

Read Next

ক্যারিয়ারে ওয়াসিম ও জহিরের অবদানের কথা সামনে আনলেন শামি

Total
26
Share