অশ্বিন-জাদেজাদের মত রোল প্লে করতে চান নাইম

নাইম হাসান
Vinkmag ad

সাদা-পোশাক আর লাল বলে জাতীয় দলের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন তরুণ অফ স্পিনার নাইম হাসান। ৫ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৪ ম্যাচে বল হাতে নিয়ে উইকেট নিয়েছেন ১৯ টি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও ওভারের পর ওভার বল করেন ক্লান্তিহীনভাবে, ফল হিসেবে নিচ্ছেন উইকেটের পর উইকেট। তবে শুধু সাদা পোশাকে নয় জাতীয় দলের হয়ে রঙিন পোশাকেও নিজেকে মেলে ধরতে চান চট্টগ্রামের এই স্পিনার। আর সে কারণেই ব্যাট হাতে শেষদিকে যোগ করতে চান বাড়তি কিছু রান, দলের লাভের সাথে সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও যেন ডাক দেন নির্বাচকরা।

ঘরোয়া ক্রিকেটে লংগার ভার্সন ক্রিকেটের সাথে সীমিত ওভারের সংস্করণেও পারফরম্যান্স করেন সমান তালে। ঢাকা লিগেও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় থাকেন উপরের দিকেই। এদিকে বয়সভিত্তিক থেকে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন নাইম। শেষদিকে তার উপর যেন আস্থা রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট সেই চেষ্টাই করছেন।

ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে সব ফরম্যাটেই খেলতে চান উল্লেখ করে নাইম বলেন,

‘ইচ্ছেতো করে সব ফরম্যাটই খেলবো। তবে সেটার জন্য চিন্তা করি রান কম দিয়ে উইকেট নেওয়ার, এদিকে চেষ্টা করছি ব্যাটিং যদি আমি ভালো করতে পারি। ব্যাটিং নিয়েও অতিরিক্ত কাজ করছি। আমি যদি টেস্টে শেষের দিকে কিছু রান করে দিতে পারি অশ্বিন, জাদেজাদের মত। ঐ রানগুলোই ম্যাচ জয়ী রান হয়ে যেতে পারে। আমাদের কিন্তু শেষের দিকে রান হয়না, চেষ্টা আছে যদি আমি রান করি সেটা দলের জন্য বাড়তি কিছু। আমি বোলিংয়ের সাথে ব্যাটিং টেকনিকেও উন্নতি করার জন্য সময় দিচ্ছি। সুযোগ পেলে রান করার লক্ষ্য রাখছি।’

‘বোলিং করতে করতেতো এখন বিশ্বাস আসছে যে আমি বোলিং করলে উইকেট পাবো। তাই ব্যাটিংয়ে এখন যদি আমি ৫০ বা ১০০ মারতে পারি, নিজেকে প্রমাণ করতে পারি সবাই আমার উপর আস্থা রাখবে যে ও ব্যাটিংয়েও কিছু রান করতে পারবে। আর তখনই ওয়ানডেতে আমাকে নিয়ে ভাবতে পারে শেষের দিকে রান করতে পারবো বলে। তাই আমার কাজ হল এখন বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে টেস্টে দলকে সমর্থন দেওয়া।’

২০১৬ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ অটো চয়েজ হয়েই খেলেছেন বাংলাদেশ দলে। তবে নাইম হাসানের আবির্ভাবে একাদশে টিকে থাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, ক্ষেত্র বিশেষ দুজনের যেকোন একজনকেই খেলতে হবে। সবশেষ জিম্বাবুয়ে টেস্টে নাইমকে একাদশে সুযোগ দিতে জায়গা ছাড়তে হয়েছে মিরাজের। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ভবিষ্যতের জন্যও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে নাইম।

যদিও বিষয়টাকে ভিন্নভাবে দেখছেন নাইম, তার মতে কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বি না ভেবে লড়াইটা নিজের সাথে করাই ভালো। দলে টিকে থাকতে পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই নিজেকে এই চ্যালেঞ্জ জানানোতেই মনযোগ এই তরুণ অফ স্পিনারের,

‘মিরাজ ভাই ওয়ানডে খেলছেন। আমি আসলে ওভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চিন্তা করিনা, এমন না করাই ভালো। আপনার যদি নিজের জায়গা থেকে চিন্তা করে যে আমি ভালো পারফর্ম করবো, আমার সাথে আমার চ্যালেঞ্জ তাহলে ব্যাপারটা ভালো।’

‘ধরেন মিরাজ ভাই খেলছেন, পারফর্ম করছেন। আমার চেষ্টা থাকবে যে আমি যদি উনার থেকে ভালো খেলি তাহলে আমি সুযোগ পাবো। লড়াইটা হচ্ছে নিজের সাথে নিজের। তখন চেষ্টা থাকবে আমি সেরা খেলোয়াড় হব দলের, সবার চিন্তাটা ওরকম থাকলে যে আমি সেরা হব, ১১ জন এই চিন্তা করলে বাংলাদেশের ক্রিকেটটাই অন্যরকম হবে। এজন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হবে। শুধু চিন্তা করলে হবেনা চিন্তার সাথে কাজও করতে হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আফ্রিদির ইটের বদলে গম্ভীরের পাটকেল

Read Next

নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে আফ্রিদি ও রশিদ লতিফকে

Total
5
Share