যেভাবে নাইম লম্বা স্পেলে বল করার অভ্যাস গড়েছেন

নাইম হাসান
Vinkmag ad

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তরুণ অফ স্পিনার নাইম হাসান শিকার করেন ৯ উইকেট। উইকেটের চাইতে একপাশ থেকে লম্বা সময় বল করে যাওয়ার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে নজর কাড়লেন। প্রথম ইনিংসে ৩৬ ওভারের মধ্যে ৩২ ওভারই করেছেন টানা! লাল বলে টানা ওভার করতে পারার এই অভ্যাসটা ঘরোয়া লিগ থেকেই গড়ে উঠেছে জানিয়েছিলেন ঐ দিন সংবাদ সম্মেলনেই। এবার জানালেন কাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন কিংবা কার সাথে জুটি গড়ে বল করে রপ্ত করেছেন এই বিশেষ গুণটি।

১৩৭ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে আব্দুর রাজ্জাককে করতে হয়েছে ৬ হাজারের বেশি ওভার। বাঁহাতি স্পিনে উইকেট নিয়েছেন ৬৩৪ টি, যা বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর কোন বাংলাদেশি বোলারের যে নেই ৫০০ প্রথম শ্রেণির উইকেটও। এমন একজন অভিজ্ঞের কাছ থেকে নাইমের মত তরুণদের না শিখে উপায় নেই। বিসিএলে একসাথে খেলার সুবাদে নাইমও লুফে নেন রাজ্জাকের সান্নিধ্য।

‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে তরুণ এই অফ স্পিনার জানান লম্বা স্পেলে বল করার ক্ষেত্রে রাজ্জাকের ভূমিকা সম্পর্কে, ‘লম্বা সময় ধরে বল করার অভ্যাসটা আসলে বিসিএলে রাজ্জাক ভাইয়ের সাথে যখন খেলি তখন দেখলাম রাজ্জাক ভাই অনেক লম্বা সময় বল করত। উনার সাথে এক দলে খেলেছি, একপাশ থেকে উনি করতো অন্য পাশ থেকে আমি করতাম। উনার সাথে দুইটা ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছে, উনি একপাশ থেকে ধৈর্য্য ধরে এক জায়গায় বল করে যেত। এখন দেখা যায় আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই, উইকেট না পেলে মনযোগ হারিয়ে ফেলি তখন কিন্তু রান হয়ে যায়।’

‘ঐ সময়টায় যদি মনযোগ দিয়ে বল করা যায় তখন উইকেট পাওয়া যায়। টেস্ট খেলাটা এমন যে যখন পাবেন তখন তিন-চারটা উইকেট একসাথে পাবেন। আর না পেলে ২০-৩০ ওভার বল করেও উইকেট পাবোনা। মানে উইকেট পাওয়ার একটা সময় আছে, সেটার জন্য অপেক্ষা করে মনযোগ দিয়ে বল করে যেতে হবে। এটার জন্য অনুশীলনে আমি অনেক বেশি বল করি, লম্বা সময় বল করি সাধারণত।’ যোগ করেন ১৯ বছর বয়সী এই স্পিনার।

জাতীয় দলের হয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন নিয়মিত, ঘরোয়া লিগে উইকেট নিচ্ছেন মুড়ি মুড়কির মত। সবশেষ মৌসুমে এনসিএল, বিসিএল মিলিয়ে চার ম্যাচেই উইকেট নিয়েছেন ৩১ টি। সবশেষ দুই মৌসুমে ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনবার। জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ কিউই কিংবদন্তী ড্যানিয়েল ভেট্টোরির কাছ থেকেও প্রশংসা আদায় করে নিয়েছেন। এমন বিশ্বমানের অফ স্পিনার হওয়ার সব গুণাগুণ সমৃদ্ধ নাইম নিজের শক্তির জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন টানা বল করতে পারা ও উচ্চতা কাজে লাগিয়ে বাউন্স আদায় করাকে।

৬ ফুট উচ্চতার নাইম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘লক্ষ্য থাকে একটা জায়গায় টানা বল করে যেতে, উইকেট থেকে কিছুটা বাউন্স পাই উচ্চতার জন্য। আর চেষ্টা করি নিজের দক্ষতাটা প্রত্যেকদিন উন্নত করতে। অন্যদের থেকে আলাদা বলতে এখনোতো হই নাই। নিজেকে আলাদা করতে হলে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হবে, সে যেই হোক না কেন। এক্সট্রা অর্ডিনারি হতে হলে পরিশ্রমটাও সেভাবে করতে হয়। আমি চেষ্টা করছি ওরকম হওয়ার।’

অতিরিক্ত পরিশ্রমের বিকল্প নেই জেনে গেছেন নাইম হাসান, জাতীয় দলের সতীর্থরাই এ ক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণা, ‘সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই জাতীয় দলের সবাই অতিরিক্ত পরিশ্রম করে বড় ভাইরা। উনাদের থেকে দেখে চেষ্টা করছি। তামিম ভাই, সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই, মুমিনুল ভাই , রাহি ভাই, এবাদত ভাই এমনকি সাইফ হাসান, শান্ত ভাইরা দলের কাজ শেষ করে অতিরিক্ত কাজ করে। যেমন তাইজুল ভাই, দলের সাথে বোলিং শেষ নিজে গিয়ে আলাদা বোলিং করে। সবাই নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করছে, আমিও সেটাই করছি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

লকডাউনের পর ক্রিকেটাররা ম্যাচ মোডে আসবে যেভাবে

Read Next

শ্রীলঙ্কায় আইপিএল আয়োজন নিয়ে বিসিসিআইয়ের ভাষ্য

Total
9
Share