লকডাউনের পর ক্রিকেটাররা ম্যাচ মোডে আসবে যেভাবে

জাসপ্রীত বুমরাহ ভিরাট কোহলি ভারত
Vinkmag ad

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ক্রিকেটারদের ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে ৩ সপ্তাহ সময় লাগবে বলে মনে করেন ভারতীয় ট্রেনাররা। ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় ট্রেনারদের মতে শুধু ক্রিকেটার নয় বরং সবধরণের ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেই লকডাউন শেষে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে লাগবে এই সময়টুকু।

ভারতীয় জনপ্রিয় একটি গণমাধ্যমকে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ট্রেনার রমিজ শ্রীনিবাসন বলেন, ‘ব্যাপারটা এমন নয় যে তারা ঘরে অলস সময় কাটাচ্ছে। তাদের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে আমরাও ওয়ার্কআউট সূচী ঠিক করে দিচ্ছি কিন্তু এটা কোনভাবেই আউটডোর ট্রেনিং সেশনের বিকল্প নয়।’

২০১১ বিশ্বকাপে দলটির ট্রেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রমিজ জানান বাসায় ট্রেডমিলে কার্ডিও ভাসকুলার ট্রেনিং করছে বেশিরভাগ ক্রীড়াবিদ কিন্তু যা মাঠে দৌড়ানোর চেয়ে বেশ ভিন্ন, ‘ট্রেনিংয়ের সময়টায় মাঠের প্রতিক্রিয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঠে দৌড়ানো আর বাসায় দৌড়ানর মধ্যে বেশ তফাৎ আছে। ট্রেডমিলের দৌড়টাকে খুব বেশি হলে টপ আপ এক্সারসাইজ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।’

২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় দলের ট্রেনার হিসেবে কাজ করা সুদর্শন বলেন, ‘পেসারদের জন্য কার্ডিও ভাসকুলার এবং জাম্পিং, রান আপে ল্যান্ড করা বেশ কঠিন কাজের মধ্যে পড়ে। পর্যায়ক্রমে এসব লোড যুক্ত করতে হবে নাহয় চোটে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এসব চালিয়ে নিয়ে অন্ত ২১ দিন সময় লাগবে ম্যাচ ফিট হতে।’

ভারতের সাবেক পেসার ও বর্তমানে চেন্নাই সুপার কিংসের বোলিং কোচ বালাজি নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারেও চোটে পড়েন বেশ কয়েকবার। আর সেসব বিবেচনায় নিয়েই বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে এই বিরতিটা ক্রিকেটারদের বিশ্রামের কাজে লাগছে যা সত্যিকার অর্থেই ভুল। এটা অনেকটা এমন যে একটা চলন্ত গাড়ি হুট করে থমকে যাওয়ার মত। ব্যাটারির যেমন চার্জ প্রয়োজন, ক্রিকেটারদের জন্যও এটা অনেকটা সেরকম বিষয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ক্রিকেট খেলছে। সুতরাং ভালোভাবে পর্যবেক্ষণে থাকাটা বোলারদের ফিরে আসার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ যেমন জাসপ্রীত বুমরাহ যার কিনা চোটের ইতিহাস আছে।’

‘মাঠে ৬-৭ চক্কর দৌড়ানো লাগে একজন বোলারে যা ট্রেডমিল বা ইনডোর সেশনে কখনোই সম্ভব না। এটা এককথায় পেসারদের জন্য অসম্ভব যে ইনডোর অনুশীলন দিয়ে পুরোপুরি ফিট হওয়া।’ যোগ করেন বালাজি।

রঞ্জি ট্রফির এবারের আসরের ফাইনাল খেলা দল বেঙ্গলের ট্রেনার সঞ্জীব দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনুশীলন রুটিন একদম যথাযথভাবে মেনে চলতে হয়। মূল বিষয় হল তারা যখন বাসায় ট্রেনিং করে আমরা তাদের সাথে থাকতে পারছিনা যেটা সাথে থাকলে কৌশলী ও সচেতন হতে সাহায্য করে। তারা সবকিছু সম্পর্কেই অবগত যে কি খেতে হবে কিন্তু যখন আপনি ট্র্যাকের বাইরে থাকবেন লম্বা সময়ের জন্য সেটা ঠিকঠাক মেনে চলা কঠিন। সুতরাং ডায়েটটা বেশ সাবধানে মেনে চলতে হবে।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

নিলামে উঠবে সাকিবদের জার্সি, ব্যাট…

Read Next

যেভাবে নাইম লম্বা স্পেলে বল করার অভ্যাস গড়েছেন

Total
15
Share