সাকিব শোনালেন ফাউন্ডেশন তৈরির পেছনের গল্প

সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন
Vinkmag ad

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়ছে বিশ্বজুড়ে। প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী ও মৃতের সংখ্যা। অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের মত এমন সংকটময় সময়ে এগিয়ে এসেছেন দেশের ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান। নিজের প্রতিষ্ঠিত সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম শুরু হয় আরও আগেই।

আজ (১৭ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হল সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটের। নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে ওয়েবসাইট যাত্রার দিনে সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্প শোনালেন সাকিব।

সাকিবের মূলত ক্রীড়া সম্পর্কিত ফাউন্ডেশন করার পরিকল্পনা ছিল, যার মাধ্যমে কাজ করার ইচ্ছে ছিল দেশের মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে। করোনা ভাইরাস মহামারীর বদলৌতে ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু করতে হয় পরিকল্পিত সময়ের আগেই।

এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘প্রথমে স্পোর্টস রিলেটেড চিন্তা ছিল যেটা পরবর্তীতে হেলথ ও এডুকেশন নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে ছিল। আসলে ঐ কারণেই এটা শুরু করা, যদিও আমি এটার যাত্রা আরও পরে করবো ভেবেছি, সময় যখন হয় এবং সবকিছু মনমত প্রস্তুত করতে পারি তখন।’

‘কিন্তু এই মহামারীর কারণে আসলে সব পরিস্থিতিই বদলে যায় এবং এই সময়ে যদি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানুষের সাহায্যে কিংবা স্বাস্থ্য খাতে কোন সাহায্য করা যায় কিনা এই চিন্তায় শুরু করা। সবাই সবার জায়গা থেকে সাহায্য করছে আমি নিশ্চিত এই বিপদের সময়ে আমাদের দেশে, শুধু আমাদের দেশে নয় সবদেশেই এই বিপদটা এখন। ঐখান থেকেই আসলে চিন্তাটা শুরু, কাজ করার ইচ্ছে জাগে।’

এই ফাউন্ডেশনে অনুদান দিতে পারবেন যে কেউই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে যে ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনুদান দেওয়া যাবে। করোনা ভাইরাসের এমন ভয়াবহতার মধ্যেও দেশের মানুষের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা খুব একটা কমেনি। সাকিব মনে করেন এদের বেশিরভাগই পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন, ‘

স্বাভাবিকভাবে অনেকেই বলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কি কারণে বাইরে যাচ্ছে। আমরা ঠিক জানছিনা কি কারণে বা কতটা প্রয়োজনে বের হচ্ছে যতক্ষণ পর্যন্ত জানছিনা ততক্ষণ বলাটা খুব সহজ আমাদের জন্য যারা স্বচ্ছল আছি। আমার মনে হয় এ ব্যাপারটা আমাদের সবারই চিন্তা করা উচিৎ, হ্যাঁ সবাই যে খুব প্রয়োজনেই বের হচ্ছে তা না। কিছু সংখ্যক মানুষ আছে যারা অত প্রয়োজন ছাড়াও বের হচ্ছে।’

‘অনেকেই আছে আমি যদি বিশেষ করে ঢাকার কথাই বলি যে পরিমান বস্তি আছে তারাতো ঘরের ভেতরেই সামজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারছেনা। তারা বাইরে এটা কীভাবে মেনে চলবে তাদের জন্য এটা বড় মুশকিল যাদের একদিন বাইরে না গেলে খাবারটা আনতে পারেনা। এ জায়গায়াটায় আমরা সবাই মিলে যদি সাহায্য করতে পারি অবদান রাখতে পারি। আমার কাছে মনে হয় সাময়িকভাবে এই বিপদ থেকে উতরাতে পারবো।’

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিনে এনে দিনে খাওয়া লোকজন কঠিন সময় পার করছে উল্লেখ করে সাকিব আহ্বান জানান অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, ‘আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন যে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জন্য খুবই দুর্বিসহ ব্যাপার। তাদের জন্য ঘরে বসে থাকাটা খুবই কষ্টকর। আমাদের জন্য বোঝা কঠিন যে তারা কী কারণে বাইরে যাচ্ছে বা বের হচ্ছে।’

‘কিন্তু আমাদের সবারই চেষ্টা করা উচিৎ যে এই মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়া। সে জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আমাদের সাহায্য করতে পারে। সুতরাং আলহামদুলিল্লাহ আমরা যারা স্বচ্ছল মানুষ আছি তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি যারা সুবিধাবঞ্চিত আছে তাদের যেন সাহায্য করে এই মহামারী থেকে উতরাতে পারি এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরতে পারি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

করোনার কারণে বাতিল হল ম্যাক্সওয়েলদের চুক্তি

Read Next

পেছনের যোদ্ধা হবার আহ্বান জানালেন সাকিব

Total
18
Share