হতাশ সাইফউদ্দিন, করলেন বিশেষ অনুরোধ

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন
Vinkmag ad

করোনা সংক্রমণের প্রভাবে থমকে আছে গোটা বিশ্ব, বাড়ছে রোগী ও মৃতের হার। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে রোগী ও মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। কিন্তু এখনো সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে অবস্থান না করা মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিশেষ করে দিনের বেলায় বাজার থেকে শুরু করে অন্যান্য কার্যক্রম চলছে অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মেই। সরকারি নির্দেশনায়ও অবশ্য বলা আছে সন্ধ্যা ৬ টার পর বাসা থেকে বের হলেই নেওয়া হবে কঠিন ব্যবস্থা।

আর এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে দিনের বেলায় বেশ স্বাভাবিকভাবেই চলছে মানুষের নিয়মিত কাজ। করোনা সংক্রমণ প্রতিহতে সবধরণের ক্রিকেট স্থগিতের পর গৃহবন্দী সময় কাটছে ক্রিকেটারদের। নিজেরা সচেতনতা মেনে চললেও বাইরে জনগণের এমন অবাধ বিচরণে হতাশ জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নিজ শহর ফেনীর পরিস্থিতি অবলোকন করে ফেসবুক লাইভে এসে জনসাধারণের জন্য দিয়েছেন বার্তা, কঠোর হওয়ার অনুরোধ করেছেন প্রশাসনকেও।

নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই অলরাউন্ডার বলেন-

‘আসসালামু আলাইকুম, আমি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আশাকরি সবাই ভালো আছেন, যদিও জানি ভালো থাকার কথাটা বলার জন্য বলা। আসলে আমাদের দেশে এবং সারা বিশ্বে যে পরিস্থিতি তাতে ভালো থাকাটা কঠিন। প্রায় এক মাসের মত আমরা সবাই লকডাউন বা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। তো অনেকদিন ধরেই কিছু কথা বলবো বলবো ভাবছি, দ্বিধায়ও ছিলাম বলাটা ঠিক হবে কিনা। আমাদের অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার, বড় ভাইরা লাইভে এসে বলছে সবগুলো শুনছি এবং খবর দেখছি যেহেতু বিগত এক মাসের বেশি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। কিছু কথা আসলে মনের ভেতরে ছিল না বলে পারছিলাম না।’

‘আমি আমার ব্যক্তিগত কথাই বলি যেহেতু ৬ মাস আগে আমি ইনজুরিতে পড়ি সেহেতু ক্যালসিয়াম ঔষধ খাওয়াটা আমার অভ্যাস হয়ে যায়। ঢাকা থেকে ফেনীতে আসার সময় এক মাসের পরিমান সাথেই ছিল। গতকাল রাতে আমার ঔষধ শেষ হয়ে যায়, তো বাসার পাশেই যেহেতু মেডিসিনের দোকান তাই আমি যাই ক্যালসিয়ামের ঔষধ নিয়ে আসতে।’

‘আমি যেহেতু ফেনীর ছেলে তাই ফেনীর জন্য কিছু করা, বলা আমার কাছে গর্বের। আজ যেটা দেখে সত্যি হতাশ হয়েছি। আমি ৫-৭ মিনিট বাইরে ছিলাম যা দেখলাম, মনে হয়না আমরা খুব বেশি মেনে চলছি হোম কোয়ারেন্টাইন। প্রচুর মানুষের আনাগোনা, ট্রাংক রোড বা আশেপাশের যে সড়কগুলো আছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে সব। হ্যাঁ, গাড়ির চাপ কিছুটা কম ছিল কিন্তু মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিকই ছিল। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এখানে মানুষের সমাগম হচ্ছে আগের মতই। সন্ধ্যার পর হয়তো লকডাউন, শুনশান নিরবতা, ভূতুড়ে পরিবেশ।’

‘তাহলে কি করোনা ভাইরাস… আমি আসলে ফেনীর যে প্রশাসন বা অন্য যারা কাউকে নির্দিষ্ট করে বলছিনা। এটা কেমন যে সন্ধ্যায় কড়াকড়ি, দিনের বেলায় সবকিছু স্বাভাবিক, মানুষ ঘুরাফেরা করছে। এটার মানে আসলে আমার জানা নেই। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো আপনারা আরেকটু কঠোর হন। নাহলে আমাদের প্রতিদিন যে খারাপ অবস্থা, রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন ৩ জন ৫ জন করে মারাই যাচ্ছে। এখন সচেতন না হলে আমাদের জন্য ভয়াবহ বিপদ নিয়ে আসবে শুধু ফেনী না আমাদের পুরো দেশের জন্য।’

‘আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী দেশ হিমশিম খাচ্ছে করোনা মোকাবেলায়। আমরাতো তাদের তুলনায় কম শক্তিশালী। এখনই যদি সচেতন না হই এ জিনিসটা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সরকারের পক্ষে একা এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় যদি আমরা নিজের অবস্থান থেকে সচেতন না হই।’

‘হ্যাঁ, হয়তোবা সবারই জরুরী কাজ থাকবে, সবাই স্বাবলম্বী না তবে বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত যেমন সকাল থেকে দুপুর একটা/দুইটা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেওয়া। কিন্তু ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত যথারীতি মানুষ ঘুরাঘুরি করছে, শপিং করছে। এরকম হলেতো আমরা এই ভাইরাস থেকে প্রতিকার পাবোনা। আমাদের জন্যতো এটা ভয়ংকর হয়ে আসবে। এখন আগামী এক-দুই মাস যদি আমরা সচেতন না হই সারা জীবন কীভাবে এটা টেনে নিব? আর আমরা বাঙালি জাতি যতক্ষণ না নিজের কাঁধে বিপদ আসে ততক্ষণ পর্যন্ত সচেতন হইনা। হয়তো খবরে দেখি, আফসোস করি এরপর আবার অসেচতনভাবে চলাফেরা করি।’

‘জিনিসটা আসলে কষ্টদায়ক, আমার কথায় আপনারা কেউ কিছু মনে করেন না। আমি হয়তো বয়সে ছোট। তবুও চেষ্টা করেন আগামী দুই মাস নিজেকে গুছিয়ে জীবনটাকে নিরাপদ রাখার। এরকম আরও ১-২ মাস থাকতে হবে। সচেতন থাকলে হয়তো প্রতিকার পাবো কিন্তু স্বাভাবিক চলাফেরা করলে আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। সবার কাছে আমার অনুরোধ আপনারা বাসায় থাকুন, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। হয়তো প্রয়োজনে বের হন সাময়িক অল্প সময়ের জন্য। তো এই বার্তাটা দেওয়ার জন্যই আমার লাইভে আসা। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘খাদ্য সমস্যার সমাধান হলেই ঘরে থাকবে মানুষ’

Read Next

টেস্ট অধিনায়ক করা হচ্ছে না ডি কককে, জানালেন স্মিথ

Total
10
Share