‘খাদ্য সমস্যার সমাধান হলেই ঘরে থাকবে মানুষ’

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত
Vinkmag ad

করোনা সংক্রমণের প্রভাব শুরুর পর থেকেই অসহায় মানুষদের পাশে অবস্থান নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। সম্মিলিত প্রচেষ্টার বাইরে নিজ অবস্থান থেকে কর্মহীন মানুষের খাবারের যোগান দিতে দেখা যায় মোসাদ্দেক হোসেনকে। নিজ এলাকার অসহায়দের বাইরে তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়কেও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। সংকটময় এই সময়ে সামগ্রিকভাবে কিছু করতে না পারলেও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ক্রিকেটাররা, জানালেন মোসাদ্দেক।

এই পরিস্থিতিতেও মানুষের বাইরে বেরোনোর মূল কারণ হিসেবে খ্যাদ্যের সমস্যাকেই দায়ী করছেন মোসাদ্দেক। তার মতে খাবারের সমস্যা সমাধান হলেই কেবল মানুষকে প্রকৃতপক্ষে গৃহবন্দী করা সম্ভব হবে। নিজেও তরুণ, তার মত যারা কাজ করছে তাদের সুরক্ষায়ও বার্তা দিয়েছেন।

সমাজের কল্যাণে ক্রিকেটারদের এগিয়ে আসা এবারই প্রথম নয় উল্লেখ করে মোসাদ্দেক বলেন, ‘এমন কিছু কিন্তু এবারই প্রথম নয়। এর আগেও যেকোন সমস্যায় আমরা এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। কিছুদিন আগে দেখলাম সাকিব ভাই তার ফাউন্ডেশন থেকে সাহায্য করছে, মাশরাফি ভাই প্রতিনিয়ত কাজ করছে, তামিম ভাইও অন্য দুই অধিনায়ককে নিয়ে চেষ্টা করছে কতটুকু ভালো কাজ করা যায়। আসলে আমরা যে যার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি যতটুকু দাঁড়ানো যায় মানুষের পাশে। এর বাইরে অনেক কিছু হয়তো আমাদের হাতে নেই বা চাইলেও কিছু করতে পারবোনা। তো আমরা শুধু চেষ্টাটা করতে পারি।’

প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, মৃতের কাতারেও যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সংখ্যা। এই কঠিন সময়েও এক শ্রেণির লোককে বাইরে বেরোতে হচ্ছে। ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের দাবি ইচ্ছে করে নয় বরং পেটের দায়েই বের হচ্ছে এসব মানুষ,

‘যে পেশার মানুষগুলোকে বাইরে যেতে হচ্ছে এরা আসলে ইচ্ছে করে যাচ্ছেনা, পেটের তাগিদে পড়ে যেতে হচ্ছে। এটা যেভাবে ছড়াচ্ছে থামানো কঠিন, আমি আপনি হয়তো সচেতন আছি কিন্তু সবাইতো না। মানুষ সচেতন হবে তখনই যখন তাদের খাদ্যের সমস্যাটা শেষ হবে। সুতরাং এটা যতদিন না হচ্ছে ততদিন থামানো কষ্ট হবে।’

দেশের এই ক্রান্তিকালে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের তরুণদের এগিয়ে আসা প্রশংসা কুড়াচ্ছে দারুণভাবে। এছাড়া প্রশাসন, চিকিৎসকরা করোনা প্রতিহতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মোসাদ্দেক স্যালুট জানিয়েছেন তাদেরও, ‘এই মুহূর্তে প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও চিকিৎসকরা হচ্ছে আমাদের মূল নায়ক। চিকিৎসকরা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে তাদের স্যালুট জানাই। এর বাইরে কিছু বলার ভাষা নাই।’

মাঠ পর্যায়ে অসহায়দের ত্রান বিতরণসহ নানা সামাজিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বহু স্বেচ্ছাসেবক তরুণ। তাদের জন্য বার্তা দিতে গিয়ে মোসাদ্দেক যোগ করেন,

‘আসলে আমি নিজেও তরুণের বাইরে না। তরুণদের জন্য বার্তা বলতে সবার জন্যই একটা কথা বলতে চাই। তরুণ যারা মাঠে কাজ করছে তারা বড় মনের পরিচয় দিচ্ছে আসলে। করোনা মুক্ত করতে যারা কাজ করছেন তাদেরও অতিরিক্ত সচেতন থাকতে হবে। অনেককে দেখছি ১০-১২ জনের গ্রুপ হয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছে, বাজার দিয়ে আসছে। এই সময়টায় যা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। তবে নিজের সচেতনতাও দেখতে হবে তাদের। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাদের কাছে অনুরোধ নিজেও সচেতন থাকবেন।’

করোনা প্রতিহতে বাসায় থাকার বিকল্প নেই বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সরকারি নির্দেশে সব দেশেই চলছে লকডাউন, শাটডাউন কার্যক্রম। তাই পরিবার তথা দেশের সুরক্ষা নিশ্চিতে ঘরে থাকার অনুরোধ এই ক্রিকেটারের, ‘প্রায় একমাসের মত আমি বাসায়। এটা আসলে মানা সত্যি কঠিন। সবসময় যে যার কাজে ব্যস্ত থাকে। সেখান থেকে অফ করে একটা মানুষ যখন পুরোপুরি বাসায় বসে থাকে সেটা একটু বিরক্তিকর ও কষ্টকর। কিন্তু এখানে শুধু আমার জীবন নয়, আমার পরিবারও জড়িয়ে আছে।’

‘এভাবে চিন্তা করতে গেলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমি যদি বাইরে না যাই আমার পরিবার নিরাপদ থাকলো। আমার পরিবারের অন্যরাও যদি বাইরে না যায় পুরো পরিবারটা নিরাপদ থাকলো। সুতরাং সবাই নিজের পরিবারের চিন্তাটা আগে করবেন। সবাই যদি নিজের পরিবারের চিন্তা করি মূলত তা পুরো বাংলাদেশের চিন্তা করা হচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি বাসায় থাকার। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া যাইনি, গেলেও খুব বেশি সুরক্ষিত ছিলাম।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

স্মিথকে ‘ডিরেক্টর অব ক্রিকেট’ পদে নিয়োগ দিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা

Read Next

হতাশ সাইফউদ্দিন, করলেন বিশেষ অনুরোধ

Total
11
Share