বিশ্বের এক নম্বর বোলার হতে চান নাইম

লিটন দাস নাইম হাসান মুশফিকুর রহিম
Vinkmag ad

২০১৮ সালে ঘরের মাঠ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক অফ স্পিনার নাইম হাসানের। চেনা আঙিনায় অভিষেকটা রাঙিয়েছিলেন রেকর্ড গড়ে। সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে অভিষেকেই ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন সেদিন। সবশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও নিয়েছেন ৯ উইকেট। ঘরোয়া লিগেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করা নাইম হতে চান বিশ্বের এক নম্বর বোলার।

৫ টেস্টের ৪ টিতে বল হাতে নিয়ে উইকেট ১৯ টি, ঘরোয়া লিগের সবশেষ মৌসুম কাটিয়েছেন দুর্দান্তভাবে। ২০১৯ সালে এনসিএল, বিসিএল মিলিয়ে ৪ ম্যাচেই শিকার করেছেন ৩১ উইকেট। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে থমকে আছে দেশের সব ধরণের ক্রিকেট। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ এক রাউন্ড মাঠে গড়িয়েই স্থগিত হয়েছে, গৃহবন্দী সময় কাটছে ক্রিকেটারদের।

লিগ স্থগিত হতেই নিজ শহর চট্টগ্রাম চলে যান প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের অফ স্পিনার নাইম হাসান। সেখান থেকেই মুঠোফোনে ‘ক্রিকেট৯৭’ কে তরুণ এই অফ স্পিনার জানান নিজের লক্ষ্যের কথা,

‘ছোট বেলার স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়া। এখন ইচ্ছে হল বিশ্বের এক নম্বর বোলার হওয়া। বিশ্বমানের একজন স্পিনার হতে চাই। আমি সেভাবে পরিশ্রম করতে পারলে আর সৃষ্টিকর্তা চাইলে এক নম্বর বোলার হতে চাই।’

অফ স্পিনের শুরুটা ইংলিশ অফ স্পিনার গ্রায়েম সোয়ানকে দেখে, তবে তার অবসরের পর অনুসরণ করতে শুরু করেন বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম স্পিন ভরসা নাথান লায়নকে। এ প্রসঙ্গে নাইম বলেন, ‘প্রথম যখন অফ স্পিনে আসছি তখন সোয়ানকে অনুসরণ করতাম। সে অবসরে যাওয়ার পর নাথান লায়নকে অনুসরণ করি। অ্যাকশনতো একরমক না, তবে চেষ্টা করি তার মত বল করার।’

বাবা মাহবুবুল আলম ছিলেন ফুটবলার। নিজে চট্টগ্রামের ফুটবলের পরিচিত মুখ হলেও ছেলের ক্রিকেট প্রতিভা দেখে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন জাতীয় দলে খেলবে একদিন। নাইমের ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে কেবল বাবাই নয়, মায়েরও ছিল বড় অবদান। নাইম স্বপ্ন পূরণ করেছেন, দেশের হয়ে খেলছেন ক্রিকেটে গৌরবের সংস্করণ টেস্ট। পরিবারের সমর্থনের কথা জানাতে গিয়ে তরুণ এই স্পিনার বলেন,

‘ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে পরিবারের সমর্থনের আব্বু অনেক সমর্থন করতেন, আব্বু নিজেই নিয়ে যেতেন মাঠে, ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। ক্রিকেটের শুরুতেই উনার সমর্থন খুব ভালো ছিল। আব্বুই আমাকে ব্যাট কিনে দিয়েছেন আমি যখন অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগীয় দলে ডাক পাই।’

‘ঐ সময়টাতে আমি ভোরে উঠতাম, ৭ টার দিকে বের হতাম এর আগেই আম্মু খাবার রেডি করে রাখতেন। আমি শুধু উঠে খেতাম, মাঠে নিয়ে যাওয়ার জন্যও খাবার রেডি করে দিতেন। এইভাবে সবসময়ই উনি ঘুম থেকে উঠে আগে আমার জন্য সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখতেন। সারাদিন খেলে বিকালে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে আমি স্যারের কাছে যেতাম। এই ফাঁকে আম্মু আবার আমার জার্সি, ট্রাউজার এসব ধুয়ে রাখতেন। সবমিলিয়ে তাদের অবদান অনেক বেশি, তাদের সাহায্যই আমাকে সামনে নিয়ে গেছে।’

চট্টগ্রামের স্থানীয় কোচ মোমিনুল হকের কাছে নাইমের স্পিন হাতেখড়ি। এখনো সমস্যায় পড়লে তার কাছে ছুটে যান বলেও জানান ১৯ বছর বয়সী এই স্পিনার, ‘আমার কোচ আছে মোমিন ভাই, মোমিনুল হক। উনি আমার ছোট বেলার কোচ, উনার হাত ধরেই আমার স্পিন বোলিং করা। উনিই সবকিছু শিখিয়েছেন ছোটবেলায়। তখন হাতে ধরে বল করাতেন। এখনো কোন সমস্যা হলে উনার কাছে যাই। এছাড়া সোহেল স্যার , সালাউদ্দিন স্যার আছেন। অ্যাকশনে কোন সমস্যা হলে আমার কোচ (মোমিনুল হক) সহজেই বুঝে যান। টেকনিকাল কোন সমস্যা হলে সোহেল স্যার ও সালাউদ্দিন স্যারের কাছে যাই। ভেট্টোরি আছেন, তিনিও অনেক সাহায্য করেছেন। বিশেষ করে বৈচিত্র আনার ক্ষেত্রে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পেসার থেকে স্পিনার হবার গল্প শোনালেন নাইম

Read Next

ভাঙা আঙুল নিয়েই টেস্টে বল করেছিলেন নাইম

Total
36
Share