নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লিটন-সঞ্চিতার উদ্যোগ

লিটন দাস সঞ্চিতা দেবশ্রী
Vinkmag ad

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই কঠিন সময়ে পুরো বিশ্বই যেন থমকে আছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও অসহায় দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছেন ক্রীড়াবিদরা। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও সম্মিলিতভাবে করোনা প্রতিরোধ লক্ষ্যে দান করেছেন ৩০ লাখ টাকার বেশি। দলের নিয়মিত মুখ লিটন দাস ও তার স্ত্রী নিজস্ব উদ্যোগেও পাশে দাঁড়াচ্ছেন অসহায়দের।

উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যানের সহধর্মিণী সঞ্চিতা দাস দুপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বেশ কয়েকটি প্যাকেট সম্বলিত একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লিখেন, ‘এই মুহূর্তে আমার পক্ষে এর চাইতে বেশি হয়তো করা সম্ভব নয়। আপাতত আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই (প্যাকেট করার কাজে)। শেষ সময়ে এসে আমরা যতটুকু পেরেছি কিনেছি। কিছুটা ঝুঁকি ছিলই কারণ এটা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময়।’

তাদের মত অন্যদেরও এমন সমাজ সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান লিটন পত্নীর, ‘প্লিজ কিছু করুন। যতটুক সম্ভব অন্যের পাশে দাঁড়ান। আপনার ছোট্ট সাহায্য অন্য কারও বেঁচে থাকার পথে আশীর্বাদ হবে।’

‘লিটন দাস এই সংকটময় সময়ে যেভাবে তুমি আমাকে সাহায্য করেছো তা ভুলার নয়। ধন্যবাদ।’-পুরো আয়োজনে সাহায্য করায় স্বামী লিটন দাসকেও ধন্যবাদ দিতে ভুলেননি সঞ্চিতা।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সম্মিলিত অনুদানে লিটন দাস দিচ্ছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। যা চুক্তিমোতাবেক লিটনের বেতন ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অর্ধেক। এই নিয়ে নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড আইডি থেকে লিটন দাস লেখেন,

‘সবাইকে আদাব ও সালাম ,
আপনারা সবাই জানেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চারদিকে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯ রোগ। এই রোগ প্রতিরোধে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে যার যার জায়গা থেকে।’

‘সেটির অংশ হিসেবে আমরা ক্রিকেটাররা একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি, যেটি হয়তো অনুপ্রাণিত করতে পারে আপনাদেরও। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থাকা ও গত তিন মাসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আমরা মোট ২৭ ক্রিকেটার এক মাসের বেতনের ৫০ শতাংশ দিয়ে একটা তহবিল গঠন করেছি। এই তহবিল ব্যয় হবে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ও সাধারণ মানুষ, যাদের গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় জীবন চালিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়।’

‘আমাদের তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো। কর কেটে থাকবে ২৬ লাখ টাকা। করোনার বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের এই উদ্যোগ হয়তো যথেষ্ট নয়। কিন্তু যাদের সামর্থ্য আছে সবাই যদি এক সঙ্গে এগিয়ে আসেন কিংবা ১০জনও যদিও এগিয়ে আসেন, এই লড়াইয়ে আমরা অনেক এগিয়ে যাব।’

‘হ্যাঁ, এরই মধ্যে করোনা মোকাবিলায় অনেকে এগিয়ে এসেছেন। তাদের অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বৃহৎ পরিসরে যদি আরও অনেকে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা এই লড়াইয়ে জিততে পারব । সেই সহায়তা হতে পারে ১০০, ৫০০০ কিংবা ১ লাখ টাকা দিয়ে। টাকা দিয়ে না হোক, হতে পারে দুস্থ মানুষকে খাবার কিনে দিয়ে। আসুন পুরো দেশকে আমরা একটা পরিবার ভেবে চিন্তা করি এবং এই বিপদে সবাই সবাইকে সহায়তা করি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হাসপাতালের সরঞ্জামাদি কিনতে লঙ্কান ক্রিকেটারদের অনুদান

Read Next

করোনা ইস্যুতে ২৫ লাখ রুপি অনুদান দিচ্ছে সিএবি

Total
42
Share