নিজেকে আলাদা রেখেছেন সাকিব, দেখা করেননি মেয়ের সঙ্গে

সাকিব আল হাসান
Vinkmag ad

করোনা ভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী সবার মাথাব্যাথার কারণ। এই ভাইরাসের প্রভাব দুনিয়াজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে মহামারী আকার ধারণ করা এই ভাইরাসের প্রভাব আছে বাংলাদেশেও। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কিসব সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে তা জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন নিজেকে আইসোলেটেড করে রাখার খবরও।

নিজের অফিশিয়াল ভেরিফাইড পেইজে এক ভিডিও বার্তায় সাকিব বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসকে মহামারী রোগ হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আপনারা ইতোমধ্যেই জেনে গিয়েছেন বাংলাদেশে বেশ কিছু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছে। আমাদের এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের সতর্কতাই পারে আমাদের দেশকে সুস্থ রাখতে, আমাদেরকে সুস্থ রাখতে।’

‘কিছু সিম্পল স্টেপ ফলো করলে আমার ধারণা আমরা এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবো। এবং আমাদের দেশকেও মুক্ত রাখতে পারবো। যেমন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সোশ্যাল ডিসটেন্স মেন্টেইন করা, হাঁচি ও কাশি দেবার সময় সঠিক শিষ্টাচার মেনে চলা। এবং যদি কেউ বিদেশ ফেরত থাকেন তাহলে অবশ্যই নিজেকে ঘরে রাখা এবং ঘর থেকে যাতে বাইরে না যাওয়া হয় সে সম্পর্কে খেয়াল রাখা। অ্যাট দ্যা সেম টাইম আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে কোন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী এসে যেনো আপনার সঙ্গে দেখা করতে না পারে। ১৪ দিন আপনাকে ঘরে থাকতে হবে, যেটা খুবই জরুরি।’

‘আমি নিজের একটা এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করছি। আমি মাত্রই ইউএসএ এসে পৌছালাম। যদিও প্লেনে সবসময়ই ভয় কাজ করেছে একটু হলেও। তারপরেও চেষ্টা করেছি নিজেকে হাইজিন রাখা যায়, পরিস্কার রাখা যায় এবং জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। তারপরে যখন আমি ইউএসএতে ল্যান্ড করলাম, আমি সোজা একটি হোটেলের রুমে উঠেছি। এবং আমি ওদেরকে অবগত করেছি, আমি এখানে থাকবো কিছুদিন। আমি যেহেতু ফ্লাই করে এসেছি, আমার একটু হলেও রিস্ক আছে। এবং এজন্য আমি নিজেকে আইসোলেটেড করে রেখেছি।’

‘যেকারণে আমি আমার বাচ্চার সঙ্গেও দেখা করিনি। এখানে এসেও আমার বাচ্চার সাথে দেখা হচ্ছেনা, অবশ্যই আমার জন্য কষ্টকর একটা ব্যাপার। তারপরেও আমার কাছে মনে হয় এই সামান্য স্যাক্রিফাইসটা করতে পারলে আমরা অনেকদূর এগোতে পারবো।’

‘একারণেই আমাদের দেশে এখন যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, অনেকেই এসেছেন আমি জানি। নিউজের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আমাদের দেশে অনেক মানুষ এসেছে বিদেশ থেকে। আমাদের দেশেরই মানুষ তারা। যেহেতু তাদের ছুটির সময় কম থাকে, অনেকসময় চায় তারা আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, ঘোরাফেরা করতে, খাওয়া-দাওয়া করতে, আড্ডা দিতে বা কোন অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে।’

‘যেহেতু আমাদের সময়টা অনুকূলে না। আমি বলবো বা রিকুয়েস্ট করবো সবাইকে, সবাই যেনো এই নিয়মগুলি মেনে চলেন। কারণ, আমাদের এই সামান্য স্যাক্রিফাইসই পারে আমাদের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে, সুস্থ রাখতে এবং আমাদের নিজেদেরকেও সুস্থ রাখতে। আশা করি আপনারা আমার এই কথাগুলো শুনবেন এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ গভমেন্ট, স্বাস্থ্য সংস্থা এদের থেকে যেসব দিক-নির্দেশনা দিয়েছে সেসব সম্পর্কেও একটু অবগত হবেন। এবং সেভাবে ব্যবস্থা নেবার চেষ্টা করবেন।’

‘আর একটা কথা আমি অবশ্যই বলতে চাই, কেউ প্যানিকড হবেন না। প্যানিক হওয়াটা আমার কাছে মনে হয়না ভালো কোন ফল বয়ে আনবে। সো আমরা প্যানিক যেনো না হই। নিউজে দেখলাম অনেকে আছে ৩ মাস, ৪ মাস, ৬ মাস পর্যন্ত খাবার সংগ্রহ করছে। আমার ধারণা, খাবারের ঘাটতি কখনোই হবে না ইন শা আল্লাহ। আমরা কেউ না খেয়ে মারা যাবো না। সো আমরা এরকম প্যানিক না করি। আমাদের কিছু সঠিক সিদ্ধান্তই পারে এই বিপদ থেকে মুক্ত করতে। এবং সেটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব।’

‘আশা করি সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আরেকটা ইম্পরট্যান্ট কথা বলতে ভুলে গিয়েছি, খুব প্রয়োজন ছাড়া এই সময়ে আপনারা ট্রাভেল বা ঘরের বাইরে বের হবেন না। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, নিজের যত্ন নিবেন। আপনার পরিবারের যত্ন নিবেন এবং আপনার পরিবার ও নিজের সম্পর্কে খেয়াল রাখবেন। ধন্যবাদ সবাইকে, আসসালামু আলাইকুম’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘লোভী ও নির্মম জাতি আমরা’

Read Next

করোনা ভাইরাস এর সাথে জিততে তামিমের যত পরামর্শ

Total
58
Share