‘বেঁচে থাকলে অনেক ক্রিকেট খেলতে পারবো’

মেহেদী হাসান মিরাজ
Vinkmag ad

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে থমকে আছে পুরো বিশ্বের খেলাধুলা। বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দিন দুয়েক আগে ঘোষণা দিয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সবধরনের ঘরোয়া খেলাধুলা স্থগিত, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আবার পুরো এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু এমন ঘোষণার পরেও বেশ দোটানায় সময় পার করতে হচ্ছে ঢকা প্রিমিয়ার লিগের ক্রিকেটারদের। সরকারি নির্দেশনার পরও মাত্র এক রাউন্ডের (১৮ ও ১৯ মার্চ) খেলা, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরের রাউন্ডগুলোও হয়তো হতে পারে স্থগিত।

ক্রিকেটার, ক্লাবগুলো চাইছে খেলতে, অন্যদিকে সরকারি নির্দেশনা ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের ঘরোয়া খেলাধুলা স্থগিত। বিসিবিও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যত নিয়ে দিতে পারছেনা কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে শোনা যাচ্ছে আগামীকাল (১৯ মার্চ) ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ লম্বা সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ আসতে পারে।

খেলা নেই, আনুষ্ঠানিক অনুশীলনও নেই তবে বেশ কিছু ক্রিকেটার নিজ উদ্যোগে ফিটনেস ধরের রাখার কাজ করতে আজ (১৮ মার্চ) হাজির মিরপুর একাডেমি মাঠে। করোনা শঙ্কায় বেশ ভয়ে আছেন ক্রিকেটারদের অনেকেই। খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির মেহেদী হাসান মিরাজতো বলেই দিলেন, ‘আমি আমার জীবনে এরকম কখনো দেখিনি যে, পৃথিবী বন্ধ হয়ে গেছে পৃথিবীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পৃথিবীর সব মানুষ ভয়ের ভেতরে আছে, এটা একটা অস্বস্তিকর।’

জীবনের চাইতে ক্রিকেট বড় নয় উল্লেখ করে এই অলরাউন্ডার আশা করেন বিসিবি ও সরকার সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা রেখেই সিদ্ধান্ত নিবে। মিরাজ বলেন, ‘আসলে একটা জিনিস দেখেন সবার আগে কিন্তু জীবন মরণ জীবন মরণের চেয়ে তো আর বড় কোন কিছুই হতে পারে না। তারপরও আমি যেটা বলতে চাই আগে নিরাপত্তা তারপর সবকিছু।’

‘আমরা আগে যদি বাঁচতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা ক্রিকেট খেলতে পারব। তারপরও ক্রিকেট বোর্ড আছে বাংলাদেশের সরকার আছে তারা যে সিদ্ধান্তটা দিবেন অবশ্যই মানুষের ভালোর জন্যই দিবেন। সবাই নিরাপদ থাকে সেই সিদ্ধান্তটাই তারা দিবেন।’

খেলাধুলা বন্ধ কিন্তু ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে আসলেও দেখা হচ্ছে পরিচিত ক্রিকেটারদের সাথে। সতর্কতার খাতিরে সামাজিক শিষ্টাচার হ্যান্ডশেক, কোলাকুলিও এড়ানোর চেষ্টা করছে ক্রিকেটাররা। জাতিগতভাবেই সৌজন্যতার কিছু বিষইয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় সেখান থেকেও বের হওয়া কঠিন বলছেন মিরাজ, ‘মাঠ আসতেছি সবাই একটু ভয়ের মধ্যে আছি। একটা মানুষের সাথে দেখা হলে তো আমাদের স্বাভাবিক আচরণ যেটা হ্যান্ডশেক করা জড়িয়ে ধরা, হয়তো এই জিনিসটা এখন হচ্ছে না, কম হচ্ছে।’

‘কিন্তু তারপরও তো আমরা বাঙালি আবেগের জায়গা থেকে আমরা জড়িয়ে ধরি হাত হ্যান্ডশেক করি। তারপরও আমি মনে করি যে যতটুকু নিরাপদ থাকা যায়, যতটুকু একটু দূরে থাকা যায়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

করোনা ইস্যুতে মাশরাফি-মুশফিকদের বার্তা

Read Next

ইংরেজী শেখার প্রশ্নে মুস্তাফিজের ‘না’

Total
9
Share