মাহমুদউল্লাহদের হারিয়ে তামিমদের শুভ সূচনা

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব
Vinkmag ad

বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে মিরপুরে মুখোমুখি হয়েছিল তামিম ইকবালের প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে রনি তালুকদার ও নাহিদুলের জোড়া ফিফটির সাথে নাইম হাসানের কার্যকরী এক ইনিংসে ২৫১ রানের পুঁজি পায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। জয়ের জন্য এই রানকেই যথেষ্ট বানিয়ে দেন প্রাইম ব্যাংকের বোলাররা। মেহেদী হাসানের লড়াকু এক ইনিংসের পরও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে থামতে হয় ২৪২ রানে।

২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের শুরুটাও অনেকটা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মতই। দলীয় ৫ রানে বিদায় নেন ওপেনার জাকির হাসান। মুমিনুল হককে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলান সৌম্য সরকার। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪৯ রান। ২৮ রান করে মুমিনুল ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সাথে ৫১ রানের জুটি গড়েন সৌম্য।

৫১ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৪৯ রান করে ফিফটিতে পৌঁছানোর আগেই ফিরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য। সৌমের পর দ্রুত ফিরে যান ইয়াসির আলি (১) ও মাহমুদউলালহ রিয়াদও (৩২)। ১৩০ রানে ৫ উইকেট হারানো গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে জয়ের স্বপ্ন দেখান আকবর আলি ও আরিফুল হক। দুজনে মিলে ৩৫ রান যোগ করলেও অলক কপালি, নাহিদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলামদের, মুস্তাফিজুর রহমানদের তোপে জয়ের আশা মিলিয়ে যায় হাওয়ায়।

২৮ বলে ৩১ রান আসে আকবর আলির ব্যাট থেকে, আরিফুল হক করতে পারেননি ২০ রানের বেশি। ১৮০ রানে ৮ উইকেট হারানো গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে শেষদিকে একাই লড়েন মেহেদী হাসান। ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে অনেকটা জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। তবে নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ায় জয় থেকে ১০ রান দূরে থেকেই থামতে হয় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। ১০ম উইকেটে হাসান মাহমুদকে নিয়ে যোগ করেন ৪১ রান। ৪৯ বলে ৬ রান ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান মেহদী। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার মুস্তাফিজ, নাহিদুল ও কপালির। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও নাইম হাসান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করা প্রাইম ব্যাংকের শুরুটা হয় বেশ বাজে। স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ হওয়ার আগেই ফিরে যান ওপেনার এনামুল হক বিজয়। রনি তালিকদারকে নিয়ে বিপদ সামলাতে গিয়ে বেশ ধীরে খেলেন তামিম ইকবাল। দুজনে জুটিতে যোগ করেন ৪৬ রান তবে খেলে ফেলেন ১৩ ওভার। ৪৭ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান তামিম। এরপর রকিবুল হাসানও (৫) দ্রুত ফিরে গেলে ৫৫ রানেই ৩ উইকেট হারায় প্রাইম ব্যাংক। মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে ৫৫ রানের জুটিতে কিছুটা বিপর্যয় সামলান রনি তালুকদার।

২৭ রান করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শিকার হয়ে মিঠুন ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলা রনি তালুকদার (৭৯) ও অলক কপালিকেও (১৭) নিজের শিকারে পরিণত করেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। আউট হওয়ার আগে ১০৪ বলে ৭ চার ২ ছক্কায় ৭৯ রানের ইনিংসটি খেলেন রনি তালুকদার।

১৫৫ রানে ৬ উইকেট হারানো প্রাইম ব্যাংক নাহিদুল ইসলাম ও নাইম হাসানের অবিচ্ছেদ্য ৯৬ রানের জুটিতে পার করে ২৫০ পার করে। ৬৫ বলের জুটিতে নাহিদুল খেলেন ৪৩ বলে ৩ চার ৩ ছক্কায় ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। অন্যদিকে ৩৬ বলে ৬ চারে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস আসে নাইম হাসানের ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংক থামে ৬ উইকেটে ২৫১ রানে। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নাসুম আহমেদের শিকার দুই উইকেট, হাসান মাহমুদ নেন একটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ২৫১/৬ (৫০), তামিম ১৯, বিজয় ০, রনি ৭৯, রকিবুল ৫, মিঠুন ২৭, কাপালি ১৭, নাহিদুল ৫৩*, নাইম ৪৬*; হাসান ১০-১-৪৫-১, নাসুম ১০-০-৪০-২, মাহমুদউল্লাহ ১০-০-৫৩-৩।

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ২৪২/৯ (৫০), জাকির ৫, সৌম্য ৪৯, মুমিনুল ২৮, মাহমুদউল্লাহ ৩২, ইয়াসির ১, আরিফুল ২০, আকবর ৩১, মেহেদী ৫৬*, নাসুম ৪, নাহিদ ২, হাসান ৬*; মুস্তাফিজ ১০-১-৪২-২, নাইম ৬-০-১৫-১, নাহিদ ৫-০-৩০-২, শরিফুল ১০-০-৬৪-১, কাপালি ৯-১-৩২-২।

ফলাফলঃ প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৯ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ নাহিদুল ইসলাম (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

সব ধরণের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট স্থগিত ঘোষণা

Read Next

তামিম-হৃদয়দের ব্যাটে চড়ে শাইনপুকুরের মোহামেডান বধ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
4
Share