শৈশবের প্রিয় ক্লাব ছেড়ে যেভাবে মুশফিক আবাহনীর সমর্থক হলেন

মোসাদ্দেক বিপ্লব শান্ত মুশফিক আফিফ নাইম রানা আবাহনী
Vinkmag ad

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আবাহনী ও মোহামেডান নাম দুটি যেন পুরনো গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। দর্শক উন্মাদনায় চিড় ধরেছে, কিন্তু ক্লাব দুটিতে খেলতে এখনো মুখিয়ে থাকে খেলোয়াড়েরা। ক্লাব সংশ্লিষ্টদেরও এখনো পুরোনো আবেগ বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে আছে। ছোটবেলা থেকেই মোহামেডানের সমর্থক ছিলেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ক্রিকেটার হিসেবেও সুযোগ হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির প্রতিনিধিত্ব করার। এবারের আসর দিয়ে প্রথমবার গায়ে চাপালেন আরেক প্রভাবশালী দল আবাহনীর জার্সি।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আবাহনী-মোহামেডানের দ্বৈরথ অনেকটা একপেশে হয়ে গেছে। আধিপত্য বিস্তার করেই ফুটবল কিংবা ক্রিকেটে শিরোপা ঘরে তুলছে আবাহনী। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর আবাহনীর ঘরে উঠেছে ৩ শিরোপা। অন্যদিকে ৬ আসরে এখনো পর্যন্ত সববার খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে। আবাহনীতে নাম লেখানো মুশফিকও সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে শৈশবের প্রিয় ক্লাব (মোহামেডান) ছেড়ে সমর্থক বনে গেছেন আবাহনীর।

আজ (১৫ মার্চ) আবাহনীর হয়ে অভিষেক ম্যাচেই দলের বিপর্যয়ে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান মুশফিক। ৮১ রানে জয়ী ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও ওঠে তার হাতে। মিঃ ডিপেন্ডেবল খ্যাত এই ব্যাটসম্যান ম্যাচ শেষে জানালেন কেন মোহামেডান ছেড়ে আবাহনীর সমর্থক হয়েছেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি মোহামেডানের সমর্থকই ছিলাম ঐ সময়। যখন দেখলাম যে আবাহনী সবসময় চ্যাম্পিয়ন দল গড়ে ক্রিকেট কিংবা ফুটবলে। সবসময় তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়। আস্তে আস্তে আবাহনীর প্রতি আমার দুর্বলতা বাড়ে।’

রসিকতা করে সাংবাদিকের প্রশ্ন তবে কি আবাহনীর জার্সি পরেছেন বলেই সুর বদলেছে? মুশফিক দিয়েছেন সমর্থক হিসেবে আবাহনীর পক্ষে যুক্তি, ‘জার্সি পরেছি দেখে না। আমি যেটা বললাম যে এটা স্বাভাবিক, একজন সমর্থক হিসেবে আপনি চাইবেন এমন একটা দলকে সমর্থন দিতে যারা কিনা বারবার চ্যাম্পিয়ন হয় কিংবা জেতার মধ্যে থাকে। সেই হিসেবে আমি বলবো যে আবাহনী অন্যতম সেরা।’

আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ কিংবা দল ভেদে দর্শক উন্মাদনার পুরোনো দৃশ্যের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়না এখন। আবাহনী, মোহামেডানের পুরোনো উত্তেজনার উদাহরণ দিতে গিয়ে মুশফিক জানান, ‘দেখুন আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে আমরা অনেক গল্প শুনেছি। হয়তো একটা সময় খেলার সৌভাগ্য হয়নি। যে দলটি পরাজিত হতো দেখা যেত অনেকে হয়তো সন্ধ্যা কিংবা রাত হয়ে গেছে, কিন্তু দল বের হতে পারছে না। এমন দর্শক কিংবা সমর্থকরা আসতো। তেমন সৌভাগ্য হয়তো হয়নি।’

কালের পরিক্রমায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভীত হয়েছে শক্ত, দর্শক, ভক্ত-সমর্থকরা বাংলাদেশের ক্রিকেট বলতে এখন কেবল আন্তর্জাতিক ম্যাচই বোঝে। আর এ কারণেই ঘরোয়া লিগে দর্শকদের মধ্যে পুরোনো রোমাঞ্চ টের পাওয়া যায়না বলে মনে করেন আবাহনী দলপতি, ‘এখন আমাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচী অনেক লম্বা এবং দর্শকরা দেখে। তাদের তো আসলে হয়তো এই খেলা দেখে আবার লিগের খেলা দেখাটা কঠিন হয়ে যায়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সৌরভের উপর ক্ষোভ ঝাড়লেন মমতা

Read Next

নাইম হাসানের ঝড়ো ব্যাটিং, তামিমদের ২৫০ পার

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
5
Share