‘বিপদে পড়লে সবার আগে ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করব’

তামিম ইকবাল
Vinkmag ad

সাড়ে ৫ বছর বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দেশের ক্রিকেটের চিত্রটাই বদলে দিয়েছেন মন্ত্রমুগ্ধকর অধিনায়কত্বে। পরিসংখ্যান বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে অধিনায়কত্বের ইতি ঘটান। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম বলছেন ভালো সম্পর্ক থাকায় অধিনায়কত্ব করতে গিয়ে বিপদে পড়লে সবার আগে যোগাযোগ করবেন ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক মাশরাফির সাথেই।

৮৮ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এনে দিয়েছেন একমাত্র বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে ৫০ জয়। বিশেষ করে দেশের বাইরেও বাংলাদেশ জিততে পারে এমন বিশ্বাস মাশরাফির অধীনেই সঞ্চার হয় টাইগার শিবিরে। বৈশ্বিক ইভেন্টে সেরা সাফল্য তার দুর্দান্ত নেতৃত্বেই। অধিনায়ক মাশরাফির মূল অস্ত্রের একটি ছিলেন তামিম ইকবাল। ওপেনিং জুটিতে তামিমকে একপাশে রেখে নির্ভার ছিল কাপ্তান। তামিমও নিজের ক্যারিয়ার সেরা ফর্মে ফেরেন মাশরাফির অধিনায়কত্বেই।

লম্বা সময় একসাথে খেলেছেন বলে কাছ থেকে দেখেছেন মাশরাফির অধিনায়কত্ব। ওয়ানডে দলের নতুন কাপ্তান তামিম বলছেন মাশরাফির কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা লাগাতে চান কাজে। আর বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে যাবেন দেশের সফল অধিনায়কের কাছে, ‘একদিক থেকে আমি খুবই ভাগ্যবান। ওনার সাথে যেহেতু আমার খুব ভালো সম্পর্ক। আমি ওনার কাছ থেকে অনেক কিছু দেখেছি। একসাথে অনেক জায়গায় খেলা হয়েছে। তো একটু হলেও উনি কী চিন্তা করে সেটা আমি জানি। আমি চেষ্টা করব আমি যতটুকু নিতে পারি।’

‘মাশরাফি ভাই যেভাবে করেছেন সেটা আসলেই কঠিন। আমি আশা করি আমি সব ইতিবাচক বিষয়গুলো নিতে পারব। যদি কোনো সময় বিপদে পড়ি, সবার আগে আমি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করব, পরামর্শ নেবো। দেখা যাক, আল্লাহ্‌ ভরসা। কী হবে বলা মুশকিল।’

লম্বা সময়ের জন্য বিসিবি আস্থা রেখেছে তামিমের উপর। খুব বেশি অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা নেই বাঁহাতি এই ওপেনারের। মাশরাফির চোটের সুবাদে গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব করেন তামিম। তিন ম্যাচে হেরেই দেশে ফেরে বাংলাদেশ, ঘরোয়া ক্রিকেটেও অধিনায়কত্বের খুব একটা শক্ত পরিসংখ্যান নেই দেশসেরা এই ব্যাটসম্যানের। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়া তামিমকে সামলাতে হবে মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর মত সিনিয়রের সাথে এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে।

অধিনায়কত্ব করতে গিয়ে কখনো হতে হয় কঠোর, পরিস্থিতি অনুযায়ী করতে হয় কোমল আচরণও। টাইগারদের নয়া ওয়ানডে কাপ্তান কোন পথে হাঁটবেন প্রশ্ন করতেই জানান পেশাদার ক্রিকেটার বলে কাউইকেই বকাঝকা করে বোঝানোর কিছু নেই। তামিম বলছেন খেলোয়াড়ভেদে প্রয়োগ করবেন কৌশল, ‘আমার কাছে মনে হয় বকা ঝকা না, আমরা সবাই পেশাদার ক্রিকেটার। প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই আলাদা ট্রিট করতে হবে। যেমন মুশফিক ভাইকে ট্রিট করা আবার রিয়াদ ভাইকে ট্রিট করা; দুইটাই ভিন্ন। আমি এটার বিশ্বাসী না যে সবাইকেই একভাবে হতে হবে। প্র্যত্যেকেই আলাদা।’

‘প্রত্যেককে আলাদাভবে ট্রিট করে আমার মনে হয় সেরাটা বের করা যায়। এগুলা মাঠের বাইরের কাজ। আমি এজন্যই মাঠের ভেতরের কাজের কথা কম বলছি। এগুলো আমরা যত তাড়াতাড়ি দল হিসেবে গুছাতে পারবো, আমি অধিনায়ক দেখেই বলছিনা। দল হিসেবে যত তাড়াতাড়ি নিশ্চিত করতে পারবো সব সঠিক হচ্ছে আমাদের জন্য তত তাড়াতাড়ি ভালো।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দুই-একদিনের মধ্যে পাকিস্তান সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত

Read Next

দল সফল হয়েছে বলেই মাশরাফির গুণের কথা সামনে এসেছে

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
9
Share