অধিনায়ক তামিমের উদাহরণে লিটনের ‘পরিবর্তন’

তামিম ইকবাল

লিটন কুমার দাসের এসেছে পরিণত চিন্তাআগের চেয়ে হয়েছেন অনেক বেশি পরিণত। পরিস্থিতি পড়তে পারছেন আরও ভালো করে। অস্থির লিটন হুট করেই স্থির হয়েছেন। আর এই মানসিক বা চিন্তার পরিণতই মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলে। ৬ মাসে আগের লিটন, আর এখনকার লিটনের মাঝে পার্থক্য খুঁজে পান তামিম। লিটনের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল দলের ক্রিকেটারদের উন্নতির জায়গা দেখিয়ে দিলেন। 

সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমান বাংলাদেশের ক্রিকেটে যাদের আবির্ভাব, তাদের তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে লিটনের নাম। আঁটসাঁট টেকনিক, ব্যাটিংয়ে নান্দনিক শৈলীতে লিটন বরাবরই মেলে ধরেন দৃষ্টিসুখকর শটের পসরা। কেবল ধারাবাহিকতার অভাবই ছিল তার প্রকট, দলের বাহিরেও ছিলেন কয়েকবার। এরপরও লিটন উঠে দাঁড়িয়েছেন, সেরা পারফর্ম করেছেন, দলকে জিতিয়েছেন। সবশেষ সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্বপ্নের মতো এক সিরিজ খেললেন। ছিল আত্মবিশ্বাস, সামর্থ্যে আস্থা, এবং চার ও ছক্কার ফুলঝুরি। ধারাবাহিক সাফল্য পেতে বিভিন্ন জায়গায় লিটন এনেছেন চিন্তার বদল।

টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবশেষ ছয় ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি আর তিন ফিফটির সাহায্যে ৮০.৫০ গড়ে ৪৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন লিটন দাস।

লিটনের ব্যাটে পরিবর্তন নয় বরং চিন্তার পরিবর্তনটাই ভালো ভাবে দেখছেন তামিম ইকবাল। ৬ মাস আগের লিটন, আর ৬ মাস পরে এখনকার লিটনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পান বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক। লিটনের মতো করেই দলের সকল ক্রিকেটারের উন্নতি করার আভাস দিলেন অধিনায়ক,

‘অবশ্যই। শুধু জুনিয়র না, সিনিয়রদেরও উন্নতি করার জায়গা আছে। ধরেন লিটনের কথা। সে ছয় মাস আগে যেভাবে চিন্তা করতো, আমি পারফরম্যান্সের কথা বলছি না। সে ভালো করছে আমি এজন্য বলছি না। লিটন ছয় মাস আগে যেভাবে চিন্তা করতো, এখন যেভাবে আমার সঙ্গে কথা বলে, এর মধ্যে পার্থক্য আছে। এটার প্রতিফলন আপনারা মাঠেও দেখছেন।’

দলের তরুণ ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মনোভাবে মুগ্ধ তামিম ইকবাল। দলীয় পারফর্ম্যান্স ভালো করতে মানসিকভাবে উন্নতি দরকার সকলের। তামিমের বক্তব্য, ‘এখন যারা তরুণ ক্রিকেটাররা আছে, ক্রিকেটের প্রতি তাদের খুবই ইতিবাচক চিন্তা। তাঁরা ভালো করতে চায়। আমি নিশ্চিত, ওদের যেরকম উন্নতির দরকার আছে চিন্তায়, আমারও দরকার আছে। যত তাড়াতাড়ি আমরা এগুলো ভালো দিকে নিয়ে যেতে পারি, এটা ততোই আমাদের পারফরম্যান্সে দেখা যাবে।’

‘অন দ্য ফিল্ড অনেক কিছু আমাদের কন্ট্রোলের বাইরে থাকে। কিছু কিছু জিনিস আমাদের কন্ট্রলের মধ্যে থাকে যেটা হলো টিম কনসেপ্ট। আমরা মাঠের বাইরে কিভাবে চিন্তা করছি অথবা কতো প্রফেশনাল আমরা। আমার মনে হয় প্রথম জিনিস করতে হবে আমরা এই জায়গায় কিভাবে উন্নতি করতে পারি। আমরা ওই জায়গায় যদি সব কাজ ঠিক করি আপনি সাথে সাথে এর রেজাল্ট দেখতে পারবেন। আমরা যদি ডিসিপ্লিন হই। কঠোর পরিশ্রম করি। আমরা যে ভুলগুলো করছি অনুশীলনে এগুলো যত মিনিমাইজ করতে পারি। একটা কথা আছে না কষ্টের ফল কোনো এক সময় পাওয়া যায়। এমন না যে পরবর্তী ম্যাচেই পাবেন। আমি যদি চিন্তা করি কিভাবে আমি দলটাকে সামনে এগিয়ে নেব আমার মাথায় প্রথম আসে অফ দ্য ফিল্ড ইস্যুগুলো সবার আগে ঠিক করতে হবে। আমরা আরও বেটার কিভাবে করতে পারি। আমাদের টিমে এখন কোনো বড় সমস্যা বা ইন ডিসিপ্লিন হয় না। আমি মনে করি আমরা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ডিসিপ্লিন টিম। আমরা আরও বেটার হতে পারি। ওই জিনিসগুলো যদি আগে ঠিক করতে পারি। মাঠে এগুলো প্রয়োগ করতে পারলে ভালো হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

নিজেই সরে দাঁড়াবেন তামিম, যদি…

Read Next

হ্যান্ডশেককে তামিমের ‘না’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
52
Share