মিচেল স্টার্ক ও এমপোফুতে একই মনযোগ লিটনের

লিটন দাস সেঞ্চুরি
Vinkmag ad

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন লিটন কুমার দাস। ব্যাট হাতে ৬ ইনিংসে করেছেন দুই সেঞ্চুরি, তিন ফিফটিতে ৪৮৩ রান। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানের সামর্থ্য সম্পর্কে জানা আছে সবারই, যতক্ষণ ক্রিজে থাকেন চোখে প্রশান্তি এনে দেওয়ার মত শটে মুগ্ধ করেন যে কাউকেই। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পর প্রতিপক্ষ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

লিটন যেভাবে খেলেছেন এটা তার স্বাভাবিক খেলাই কিন্তু ক্যারিয়ারে কখনোই এতটা ধারাবাহিক ছিলেন না বলেই প্রশ্নের জায়গাটা হয়েছে শক্ত। যদিও নিজের দিনে প্রতিপক্ষ বোলারকে চুরমার করতে পারার জানান দিয়েছেন বেশ কয়েকবারই। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালের সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই বড় রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের কচুকাটা করে খেলেন নান্দনিক এক ইনিংস। টি-টোয়েন্টিতে বেশ কয়েকবারই আবার খেলেছেন ম্যাচ জয়ী ইনিংস। টেস্টে অবশ্য ছিলেন তুলনামূলক ধারাবাহিকই, যদিও ইনিংস করতে পারছিলেন না লম্বা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন একটি মধুর সিরিজ কাটানোর আগেই মানসিকতা, ব্যাটিং ধরণে বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিপিএল দিয়েই। বেশ দারুণ একটি মৌসুম কাটানোর পর নিজেই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন হেড পজিশন, শট নির্বাচন, ফুটওয়ার্ক, মানসিকতা নিয়ে কাজ করেছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো করার পর প্রতিপক্ষ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই টেকনিক্যালি দেশের অন্যতম সেরাদের একজন লিটন উত্তরে বলেন সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই একই ফোকাসে খেলতে হয়।

বড় দলগুলোর তুলনায় জিম্বাবুয়ের বোলাররা শক্তিমত্তায় পিছিয়ে স্বীকার করে লিটন বলেন ফোকাসটা রাখতে হয় একই রকম, ‘বোলিং আক্রমণ যদি দেখেন যে অন্যান্য দল যারা আছে তাদের হিসেবে শক্ত বোলিং আক্রমণ নয় জিম্বাবুয়ের। তবে একজন ব্যাটসম্যানের জন্য তো একটা বলই যথেষ্ট আউট হওয়ার জন্য। আপনি যদি আজকে মিচেল স্টার্কের বিরুদ্ধে যে ফোকাসে ব্যাটিং করবেন তেমনি এমপোফুর বিপক্ষে ব্যাটিং করলেও সেই ফোকাস দিতে হবে। হয়তো বা বোলিং লেভেল যেটা থাকে যে উইকেট টেকিং ডেলিভারি এই জিনিসটা কমে যেতে পারে। এখানে স্কোরিং শটের অপশনটা একটু বেশি থাকে।’

দেশের ক্রিকেটে তার প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা ব্যাটসম্যান ভাবা হয় ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে। নিজে অবশ্য সেভাবে ভাবতে নারাজ লিটন। ব্যাটিং স্টাইলে পরিবর্তন এনেছেন উল্লেখ করে উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আসলে আমি সেভাবে চিন্তা করিনি কখনো (দেশসেরা ব্যাটসম্যান)। আমি জানি না আপনারা কিভাবে মূল্যায়ন করেন। এর আগেও আমি পারফর্ম করেছি। একটা ম্যাচ খেলার পর হয়তো বা একটু বেশি আমুদে হয়ে যেতাম। ফোকাসটা একটু নষ্ট হয়ে যেত, ভাবতাম যে একটা ম্যাচে তো রান করেছি এই কারণে পরের ম্যাচে রান হয়ে যাবে।’

‘কিন্তু এই পুরো সিরিজটি যদি দেখেন, এখানে আমি চিন্তা করেছি যে প্রত্যেকটি ম্যাচ নতুন। একটা বলই আউট হওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রতিটি বলেই অনেক ফোকাস ছিল আমার। যে কারণে আমার শট সিলেকশন থেকে শুরু করে, আমি খুব যে উপর দিয়ে মেরে খেলেছি এমন না। আমি বলের ধরণ বুঝে খেলার চেষ্টা করেছি এবং মনোযোগটা বেশি ছিল তাই এই ফলাফল।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

এত ভালোও আশা করেননি লিটন

Read Next

পারফরম্যান্সের আগে মানসিকতাটাই নিতে চান রিয়াদ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
13
Share