এত ভালোও আশা করেননি লিটন

লিটন দাস
Vinkmag ad

দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন লিটন দাস। রান সংখ্যা দিয়ে হয়তো লিটনকে এখনই বড় মাপের একজন হিসেবে তুলে ধরার উপায় নেই, কিন্তু তার ব্যাটিং স্টাইলে মুগ্ধ হবে যে কেউই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারছিলেন না শুরুর সময়টায়। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতির ছাপ স্পষ্ট, ঘরের মাঠে সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে তিন ফরম্যাটে ৬ ইনিংস ব্যাট করে রান করেছেন ৪৮৩। নিশ্চিতভাবেই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক সিরিজ বলতেই হয়।

বাস্তববাদী লিটন অবশ্য কখনোই উচ্ছ্বাসে ভেসে যান না। তার প্রমাণ দিয়েছেন সিলেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস খেলার পরই। ভবিষ্যত অনিশ্চিত, পরের ম্যাচেই আবার ব্যর্থ হতে পারেন এমন বাস্তবতা ভালোই জানা। ক্রিকেটে উত্থান পতন নিয়মিত ব্যাপার ফলে ক্রিকেটকে স্রেফ হতাশার খেলা বলেও ওয়ানডে সিরিজে প্রথম সেঞ্চুরির পর দিয়েছেন বার্তা।

দুর্দান্ত এক সিরিজ পার করার পর গতকালও (১১ মার্চ) নিজের পুরোনো মন্তব্যেই অনড় লিটন, ‘একটা সিরিজে ভালো গেছে তাই বলছেন? এখন যদি পরবর্তী সিরিজে খারাপ যায় তাহলে তো হতাশা চলে আসবে, তাই না? উত্থান-পতন থাকবেই।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পুরো সিরিজে এতটা ভালো করবেন আশা করেননি তিনি নিজেও। এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘এত বড় প্রত্যাশা কখনোই ছিল না। টি-টোয়েন্টিতে যে জিনিসটা হয় যে একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আশা করা যায় পঞ্চাশ করবে। আর আজকের ম্যাচটি অনেক সহজ ছিল।’

‘ব্যাটিং করাটা সহজ ছিল সেটা বলবো না। প্রত্যেকটি বল তো চ্যালেঞ্জিং। কারণ কোনো সময় আউট হতে পারতাম। তবে কোনো চাপ ছিল না যে রানের একটা তাড়াহুড়া আছে। সেই হিসেবে আজকের ম্যাচটি আমার ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল। সবমিলিয়ে ভালো গেছে।’

সদ্য সমাপ্ত সিরিজে ৬ বার ব্যাত হাতে নেমে মাত্র একবারই আউট হয়েছেন ফিফটি করার আগে। এমন অসাধারণ এক সিরিজ শেষে পরবর্তী সিরিজে বেশ ভালোভাবেই লিটনের কাছে প্রত্যাশাটা বাড়বে ভক্ত-সমর্থক, টিম ম্যানেজম্যান্টের। এই বাড়তি প্রত্যাশা চাপ হয়ে দাঁড়াবে কিনা ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য? জানতে চাইলে লিটন বলেন চাপ নয় তবে অনুশীলন থেকে মাঠের ক্রিকেটে নজরটা নিখুঁত ও কষ্টদায়ক হবে।

লিটনের জবাব, ‘আসলে চাপ না। আপনি যখন একটা জিনিস হাতে পাবেন তখন ফেলে দেয়া অনেক সহজ আরকি। ধরে রাখাটা অনেক কষ্টকর। এখন এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ যে আমি আসলে পারফরম্যান্সটা কতটা ধরে রাখতে পারছি। অনুশীলন লেভেল থেকে শুরু করে ম্যাচের সবকিছুই কষ্টদায়ক হবে। আমি চেষ্টা করবো এই পারফরম্যান্স ধরে রাখার জন্য। জানি না কতটুকু হবে, তবে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

লিটন ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস’, বিশ্বাস ছিল মাহমুদউল্লাহ’র

Read Next

মিচেল স্টার্ক ও এমপোফুতে একই মনযোগ লিটনের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
11
Share