সাইফউদ্দিনের না খেলাকে যে কারণে ইতিবাচক বলছেন মাশরাফি

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

দেশের ক্রিকেটে প্রথম পেস রত্ন অবশ্যই বলতে হয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। বাংলাদেশের ওয়ানডে কাপ্তানের গতি, সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রতিভাকে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মত মনে করে তখনকার বোর্ড। তার ক্ষেত্রে মানা হয়নি ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট, অবশ্য তখন এতটা আধুনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণাও ছিলনা সংশ্লিষ্টদের। যার খেসারত দিতে গিয়ে ক্যারিয়ারটাই থমকে যাওয়ার উপক্রম, ৭ বার বড়সড় সার্জারি করতে হয়েছে মাশরাফিকে। অকালেই ছাড়তে হয়েছে টেস্টের মত লোভনীয় একটি ফরম্যাট।

নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টা থেকে শিক্ষা হয়েছে, বুঝতে পেরেছেন গাফিলতির জায়গাটা। তার সাথে ঘটা ব্যাপারগুলো এখনকার কারও সাথে না ঘটুক সেটা অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মাশরাফি প্রকাশ করেন সন্তুষ্টি। দল ও সাইফউদ্দিনের ভবিষ্যত বিবেচনায় এমন বিশ্রামকে ইতিবাচক বলছেন বাংলাদেশ দলপতি।

একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের আক্ষেপ বাংলাদেশ দলের বেশ লম্বা সময়ের। বয়সভিত্তিক থেকেই সাইফউদ্দিনে নজর বিসিবির, জাতীয় এসেও সামর্থ্যের জানান দেন তরুণ এই অলরাউন্ডার। মাঝে বাজে সময় পার করে ফিরেছেন বেশ ধারালো হয়ে। ভবিষ্যত তারকা হওয়ার সব উপকরণই আছে তার মধ্যে। পিঠের পুরোনো চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে ৫ মাস পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে দিয়ে ফিরেছেন জাতীয় দলে।

ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দলের জয়ে রেখেছেন কার্যকর ভূমিকা। সদ্য চোট কাটিয়ে ফেরা ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেওয়া হয় সাইফউদ্দিনকে। দলে তার অভাব স্পষ্টই বোঝা গিয়েছে, ৩২২ রান তুলেও শেষদিকের রোমাঞ্চে জিততে হয়েছে মাত্র ৪ রানে। তবে অধিনায়ক মাশরাফি বলছেন ম্যাচ হারলেও সাইফউদ্দিনকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলতেন তিনি।

সাইফউউদিনের মধ্যে লম্বা সময় দেশকে সেবা দেওয়ার সামর্থ্য আছে উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘সাইফউদ্দিন সবসময় স্পেশাল ডেথে। একজন সাকিব পেতেও আমাদের অনেক সময় লাগছে এবং আমরা পেস বোলিং অলরাউন্ডার, আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আমি যতটুকু দেখেছি খুঁজছে, খুঁজছে, খুঁজছে। সাইফউদ্দিন আমার কাছে মনে হয় এই দলের একটা বড় সম্পদ ও সামর্থ্যবান যাকে আমি চিন্তা করি যে ১০-১১ বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেবা দিবে।’

মাত্রই চোট কাটিয়ে ফেরা সাইফউদ্দিনকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে টাইগার দলপতি যোগ করেন, ‘আজকে ও খেলেনি অবশ্যই সে ব্যাক স্ট্রেচ ফ্র্যাকচার থেকে আসছে ওকে প্রেশার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। স্ট্রেচ ফ্র্যাকচার এমনিতেই এমন একটা জিনিস যেমন কোন কারণে যদি আবার হয় সেটা কিন্তু এক, দেড়, দুই বছরের জন্য সেটা থেকে যায়। সাইফউদ্দিনকে খুব সাবধানে সামলাতে হবে, আমি মনে করি খুব ভালো সিদ্ধান্ত, ম্যাচটা আমরা যদি হারতাম তাও বলতাম।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

মিরাজকে দিয়ে ৭ ওভার বল করানোর কারণ জানালেন মাশরাফি

Read Next

‘আগের ম্যাচ থেকে এই ম্যাচে ভালো বোলিং করেছি’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
12
Share