জৌলুস হারানো ক্লাবে খেলতেও রোমাঞ্চিত থাকেন রাজ্জাক-তাসকিনরা

শামসুর রহমান শুভ তাসকিন আবু হায়দার রনি আব্দুর রাজ্জাক মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড

ঢাকার ফুটবল কিংবা ক্রিকেটে আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ মানেই ভিন্ন মাত্রা। বড় ক্লাব বলতেই এই দুই ক্লাবের নাম আসে সবার আগে, কালের পরিক্রমায় পুরোনো সে উন্মাদনা হয়তো নেই তবে খেলোয়াড়দের কাছে ঠিকই ক্লাব দুটি স্বপ্নের এখনো। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরের দলবদল শুরু হয়েছে আজ (৩ মার্চ) থেকে, চলবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। প্রথমদিনে সরাসরি চুক্তিতে দলবদল করেছে ৫৪ ক্রিকেটার।

তাসকিন আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, আবু হায়দার রনি, শুভাগত হোমদের এবারের ঠিকানা মোহামেডান। লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে ৬ মৌসুমে শিরোপা অধরা ক্লাবটির। আগের মত দর্শক উন্মাদনা কিংবা জৌলুসও নেই তাদের ঘিরে। কিন্তু পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বলে এখনো ক্রিকেটারদের কাছে আবাহনী-মোহামেডান মানেই বাড়তি রোমাঞ্চ। মোহামেডানের হয়ে আজ (৩ মার্চ) চুক্তি সম্পন্নের পর আব্দুর রাজ্জাক-তাসকিন আহমেদরা অন্তত সেটাই জানালেন।

গত মৌসুমে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে খেলা বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক দলবদল শেষে সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘প্রথমত এটা ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। আবাহনী-মোহামেডানে আমরা যারা খেলি তাদের সবসময় কিছুটা আগ্রহ থাকে। একদম ভেতরে হলেও আগ্রহ থাকে। তবে সবসময় হয়ে ওঠে না। অর্থনৈতিক কারণ থাকতে পারে কিংবা দলের কম্বিনেশনের কারণে হতে পারে বিভিন্ন সময়।’

‘অবশ্যই আমার কাছে যেটা মনে হয় এসব বড় ক্লাবগুলোতে, নামকরা ক্লাবগুলোতে খেলতে চায় সবাই। আমার ক্ষেত্রেও আসলে ব্যতিক্রম কিছু না। আমিও চাই আসলে খেলতে। এবার ভাগ্যক্রমে সুযোগ হয়েছে মোহামেডানে খেলার। আসলে আমরা যারা খেলোয়াড় আমাদের কাছে এখনও আবাহনী-মোহামেডান ক্লাব ওরকমই লাগে যে না, বড় ক্লাব।’

ফিটনেস ইস্যুতে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্যে পেসার তাসকিনের গত মৌসুমে একদম শেষ মুহূর্তে সুযোগ হয়েছিল লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জের হয়ে খেলার। এবার তারও নতুন ঠিকানা ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ক্লাব। দলবদল শেষে তার কণ্ঠেও একই সুর, ‘এর আগে চারটি মৌসুম আমি আবাহনীতে খেলেছি। সবসময় আমি যখন খেলা শুরু করেছি তখন থেকেই আবাহনী-মোহামেডান নাম দুটি ভিন্ন লাগতো। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক খুশি এবার মোহামেডানে খেলতে পেরে।’

‘তবে এটা ঠিক যে আগের মতো একটু জৌলুস কম। এর আগে আমি যখন আবাহনী মাঠে অনুশীলন শুরু করেছি তখন দেখা যেত যে ঢাকা লিগেও আবাহনী-মোহামেডান খেলা হলে গ্যালারি ভর্তি দর্শক থাকতো। দাঁড়ানোরও জায়গা থাকতো না। আমি বলবো যারা ক্রিকেট প্রেমী আছে ঢাকা লিগে যেন আরো বেশি আসে এবং আবাহনী-মোহামেডানের সমর্থক তারা যেন মাঠে এসেই সমর্থন করে। এই সমর্থনটা থাকলে হয়তো আগের মতো চার্ম ফিরে আসবে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দিয়ে আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে জাতীয় দলের হয়ে ডাক পান তাসকিন আহমেদ। প্রিমিয়ার লিগে পাখির চোখ করছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তথা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফেরার, ‘যেহেতু আমি টেস্ট ক্রিকেটে সুযোগ পেয়েছি তাই এখন আমার লক্ষ্য থাকবে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও যেন ভবিষ্যতে সুযোগ হয়। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। এর আগে বড় একটি মঞ্চ প্রিমিয়ার লিগ। আমি চেষ্টা করবো নিজেকে ফিট রেখে যেন সেরা বোলারদের মধ্যে থাকতে পারি।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ডিপিএলে ১ম দিনে ৫৪ জনের দলবদল

Read Next

মাশরাফির সঙ্গে একইদলে, রোমাঞ্চ কাজ করছে আশরাফুলের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
9
Share