মাশরাফি ইস্যুতে সাংবাদিকদের দুষলেন বিসিবি সভাপতি

নাজমুল হাসান পাপন মাহবুব আনাম জালাল ইউনুস

ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির অবসর ইস্যুতে জল ঘোলা হচ্ছিল লম্বা সময় ধরে। গতকাল (২৯ ফেব্রুয়ারি) উত্তপ্ত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিজে আবারও জানিয়েছেন অবসর ইস্যুতে সিদ্ধান্তটা বোর্ডের সাথে বসেই নিবেন, এখনই গণমাধ্যমকে বলার মত কিছুই নেই। একদিনের ব্যবধানে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও অবসর সিদ্ধান্তটা ঠেলে দিলেন মাশরাফির কোর্টেই।

কিছুদিন আগে নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে অধিনায়ক থাকছেন মাশরাফিই তবে এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে নতুন অধিনায়ক। পুরো বাক্যে ‘নতুন অধিনায়ক’ শব্দতেই মাশরাফি ইস্যুতে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। কারণ মাশরাফিকেই যদি অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হয় তাহলে নতুন শব্দটা উচ্চারিত হত না বোর্ড সভাপতির মুখে, যার মানে দাঁড়ায় নতুন কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতই হয়তো দিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন।

দিন কয়েক পর অবশ্য সুর বদলে বিসিবি সভাপতি বলেন জিম্বাবুয়ে সিরিজই মাশরাফির অধিনায়ক হিসেবে শেষ সিরিজ হতে যাচ্ছে এমন কিছু তিনি বলেননি। ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে শ্রোতা, পাঠকদের কাছে ব্যাপারটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়ে যায় কঠিন। কারণ অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির শেষ সিরিজ নিশ্চিতভাবেই গণমাধ্যমের বাড়তি নজরে থাকতো। বোর্ড সভাপতির কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা না পেয়েই মাশরাফিতে দ্বারস্থ সংবাদ মাধ্যম। আর সেখানেই সৃষ্টি হয় আরও বিব্রতকর পরিস্থিতি!

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে দেখতে আসা বিসিবি সভাপতিকে পেয়ে গণমাধ্যমের আবারও প্রশ্ন মাশরাফি ইস্যুতে বিসিবি সভাপতির চূড়ান্ত বক্তব্য কি? এবার পুরো ব্যাপারটিই মাশরাফির দিকে ঠেলে দেন নাজমুল হাসান পাপন। মাশরাফির গতকালকের বক্তব্যকে সমর্থন করে পাপন বলেন, ‘এটাই বলার কথা (অবসরের সিদ্ধান্ত মাশরাফির নিজের)। যেটা বলার কথা সে সেটাই বলেছে। সমস্যা হচ্ছে আমি একটা কথা আপনাদেরকে বলি, আমি আপনাদের কাছে একটা জিনিসই অনুরোধ করবো। আমি সবসময়ই কিন্তু দুটো প্লেয়ারের কথা বলি যে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সাকিবের কোন বিকল্প নাই, অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির আমাদের কোন বিকল্প নাই।’

দেশের অন্য কোন ক্রিকেটারের চাইতে মাশরাফিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় উল্লেখ করে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘মাশরাফির অবদান কোনভাবেই খাটো করার কোন সুযোগ নেই। এবং আপনারা একটা জিনিস বোধহয় খেয়াল করেছেন, আমরা চেষ্টা করছি মাশরাফিকে সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেবার জন্য। এটা হয়তো অনেকের বেলায় করিনি।’

মাশরাফি বলেই বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বোর্ডকে সিদ্ধান্ত নিতে ভাবতে হচ্ছে বেশি, যেটা মুশফিকের ক্ষেত্রেও হয়নি জানান বিসিবি সভাপতি। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘আমরা মুশফিককে বাদ দিয়ে যখন মাশরাফিকে ক্যাপ্টেন করি তখন কিন্তু কাউকে জিজ্ঞাসা করিনি। মাশরাফির ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। ওর পুরো প্রেস কনফারেন্সটা দেখে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে যে আপনারা ওকে একটু বেশি খোঁচাচ্ছেন।’

আগের সুর বদলে অবসরের সিদ্ধান্ত মাশরাফি নিজেই নিবে সাফ জানিয়ে দিলেন বিসিবি সভাপতি, ‘আমার মনে হয় এরকম একটা সময়- ওর পাশে যখন আপনাদের সবার থাকা উচিৎ সেই জায়গায় তাকে মনে হয় কষ্টটা একটু বেশি দিয়ে দিচ্ছেন। আমার মনে হয় এই ব্যাপারে আলাপ করা উচিতই না আমাদের, ও বলে দিয়েছে কি চায় সে। ক্যাপ্টেন কে হবে এটা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আর ও কখন কি রিটায়ার করবে এটা ওর ব্যাপার। আমার মনে হয় এখানেই শেষ হোক।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

জিম্বাবুয়ের স্কোয়াডে ঢুকে পড়লেন ব্যাটিং কোচ!

Read Next

তামিমকে উত্তক্ত করে দর্শক আটক

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
18
Share