যতো ছোটই হোক, মুমিনুলকেই যোগ্য মানছেন মুশফিক

মুশফিকুর রহিম মুমিনুল হক

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির দেখা পান মুমিনুল হক। প্রায় দেড় বছর ও ১৪ ইনিংস পর তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেন টাইগার কাপ্তান। আগের দিন ৭৯ রানে অপরাজিত থাকা মুমিনুল তৃতীয় দিন লাঞ্চের আগেই দেখা পান নিজের ৯ম সেঞ্চুরির। কিন্তু ৮৩ তম ওভারের তৃতীয় বলে টিরিপানোকে চার মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর সময় মুমিনুলের চাইতে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা মুশফিকের আনন্দই যেন বেশি দেখা গেল।

পরে সেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিকও। মুমিনুল ১৩২ রানে থামলেও মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ২০৩ রানে। আগেরদিন নাজমুল হোসেন শান্তের বিদায়ের পর দুজনে মিলে জুটিতে যোগ করেন ২২২ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক জানিয়েছেন মুমিনুলের সাথে উপভোগ করেন যেকোন ইনিংস। অধিনায়ক হিসেবেও উপযুক্ত মনে করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে।

সাকিব আল হাসান নিষেধাজ্ঞায় পড়ায় হুট করেই ভারত সফরের আগে টেস্ট ক্যাপ্টেন্সির গুরু দায়িত্ব পান মুমিনুল হক। অভিষেকের পর থেকে দুর্দান্ত ফর্ম দিয়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া মুমিনুল ফর্মহীনতায় কাটান সাবেক কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংয়ের অধীনে। লঙ্কান এই কোচের বিদায়ের পর ফর্মে ফেরার ঈঙ্গিত দিলেও ছিলেন না নিজের ছন্দে। শেষ ১৪ ইনিংসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ৫২ রানের ইনিংস ছাড়া ছিলনা কোন ফিফটি। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে সেট হয়ে লম্বা করতে পারেননি ইনিংস।

এদিকে তার অধীনে প্রথম তিন টেস্টে দলও হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। এমন পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের সেঞ্চুরির সাথে দলেরও শক্ত অবস্থান নিশ্চিতভাবে স্বস্তি দিবে মুমিনুলকে। ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো মুশফিক প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অধিনায়ককে, ‘আমি মনে করি মুমিনুল বাংলাদেশের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান। আমি মনে করি টেস্টে নেতৃত্বের জন্য সেই উপযুক্ত ব্যক্তি। ওর পার্সনালিটি বলেন, ও যত ছোটই হোক সে বিশ্বমানের। ও কিন্তু অনেক প্রেশারে ছিল সেখান থেকে এসে এমন ইনিংস খেলা অসাধারণ। আমি ওর সাথে সবসময়য় যেকোনো ইনিংসে এনজয় করি। আমি আগেও বলেছি।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকের আগের ডাবল সেঞ্চুরি সাথে বেশ কিছু জায়গায় মিল আছে এবারের ডাবল সেঞ্চুরিরও। বিশেষ করে মুমিনুলের সাথে ঐ ম্যাচেও ২৬৬ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিক, সেঞ্চুরির দেখা পান মুমিনুল হকও। এমনকি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৩ সালে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সময় ১০৫ রানের জুটি গড়েছেন টাইগার কাপ্তানের সাথে।

মুমিনুলকে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় উল্লেখ করে মুশফিক আরও যোগ করেন, ‘আমার আগের ডাবল সেঞ্চুরি (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) ওর সাথে ছিল মানে অনেকক্ষণ ব্যাটিং করেছি। গলে যে ডাবল সেঞ্চুরি করেছি সেটাতে ওর প্রথম হাফ সেঞ্চুরি ছিল। অনেকক্ষণ ব্যাটিং করার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার মনে হয় সে চ্যাম্পিয়ন প্লেয়ার। এই ধরণের প্লেয়াররা তখনই কাম ব্যাক করে যখন সে চাপে থাকে। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো করবে। আমাদের যদি আরও সাপোর্ট পায় আরও ভালো করবে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ভারতের সঙ্গে পেরে উঠলো না সালমারা

Read Next

‘সাকিব’ থাকায় শের-ই-বাংলায় নিষিদ্ধ যে বিজ্ঞাপন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
31
Share