জুটি বেঁধে বোলিং, তাইজুলকে কৃতিত্ব দিলেন নাইম

featured photo1 18

ঘরোয়া লংগার ভার্সন ক্রিকেটে নাইম হাসান কতটা ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেন তা বোঝাতে কয়েকটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। চলতি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন দুটি। তাতেই ইতোমধ্যে হয়ে গেছেন সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক। ২ ম্যাচে উইকেট তুলে নিয়েছেন ২১ টি, ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট তিনবার। সবশেষ ম্যাচে বিসিবি নর্থ জোনের বিপক্ষেতো দুই ইনিংসেই নিয়েছেন ১৩ উইকেট, প্রথম ইনিংসে ১০৭ রান খরচায় ৮ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট।

জাতীয় লিগের সবশেষ মৌসুমে ২ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েও উইকেট নিয়েছেন ১০ টি। এর আগে বিসিএলের ২০১৮-১৯ মৌসুমে ১ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১০ উইকেট। জাতীয় লিগের ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৬ ম্যাচে ৯ ইনিংসেই উইকেট ২৮ টি।

A13T9141

আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্পিনারদের জন্য সুবিধা নাই এমন উইকেটেও তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তার ৪ উইকেটের সুবাধেই জিম্বাবুয়ে দলপতির সেঞ্চুরির পরও সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে দিন শেষ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। দিনের শেষভাগে ক্রিজে থিতু হয়ে যাওয়া কাপ্তান ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে পিছিয়ে দেন নাইম।

৩৬ ওভার বল করে ৬৮ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার নাইমের। প্রথম স্পেলে বল করেছেন টানা ৩২ ওভার। ১১তম ওভারে বল হাতে নিয়ে নাইম টানা বল করেন ৭৪ ওভার পর্যন্ত। একপাশে নাইম স্থায়ী হয়ে গেলেও অন্য পাশে বদলেছে চেহারা, কখনো তাইজুল তো কখনো রাহি-এবাদত। তবে সবচেয়ে বেশি জুটি বেঁধে বল করেছেন তাইজুলের সাথে। তাইজুল কোন উইকেট না পেলেও নাইম নিজের উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব দিয়েছেন তাইজুলকেও।

নাইম বলেন, ‘পুরো দিনের বোলিংয়ে আমি খুশি। কারণ তাইজুল ভাই একপাশ থেকে ভালো বোলিং করেছে এজন্যেই আমি উইকেট গুলো পেয়েছি। কালকে আমি যদি একপাশ থেকে ডট দিই তাহলে তাইজুল ভাই উইকেট পাবে। পার্টনারশিপ বোলিং।’

দেশের বাইরে ভালো করা ও পেসারদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ঘরের মাঠেও স্পোর্টিং উইকেটের পরিকল্পনার কথা গতকাল (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। আর বাস্তাবায়নটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দিয়েই শুরু, স্পিন সহায়ক নয় এমন উইকেটেও ভালো করার রহস্য জানাতে গিয়ে নাইম কেবল এক জায়গায় বল করার কথাই বলেছেন। ১৯ বছর বয়সী এই স্পিনার বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল এক জায়গায় বল করা।

আসলে আমাদের স্পিনারদের গতি বৈচিত্র্যটা দরকার। আমরা চেষ্টা করেছি একটা জায়গায় বেশিক্ষণ বোলিং করার। রান ছাড়া বোলিং করার।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা বল করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে নাইম যোগ করেন,

‘অভ্যাসটা আসলে আমার জাতীয় লিগ থেকেই আছে। কারণ আমি ওখানেও লম্বা স্পেলে বোলিং করেছি। লম্বা স্পেলে বোলিং করলে ধৈর্য ধরে একটা জায়গায় বোলিং করার চেষ্টা করি সবসময়।’

প্রতিপক্ষ দলপতির মত উইকেট ব্যাটিং সহায়ক বলছেন নাইম হাসানও,

‘আসলে এতো টার্নিং উইকেট ছিলো না। ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। উইকেটটাও ভালো আছে। অপর পাশ থেকে আমাদের বোলাররা খুব ভালো বোলিং করছে। দুইপাশ থেকে যখন রানটা কম আসছে তখন উইকেট গুলা বের হয়েছে। তবে উইকেটে থাকলে মনে হয় ব্যাটিং করা সহজ।’

দিনের শেষভাগে সেঞ্চুরিয়ান ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে নিজেদের অবস্থানটাকে ভালো বলছেন নাইম হাসান,

‘আসলে এখন যে অবস্থায় আছি, আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। দিনশেষে উইকেট পাওয়াটা দলের জন্য ভালো ছিল। আসলে আমরা যত দ্রুত অলআউট করতে পারি ততোই ভালো। ওর উইকেটটা (ক্রেইগ আরভিন) পাওয়ার পর আর আছে ৪টা। এখন চেষ্টা থাকবে শুধু ভালো জায়গায় বোলিং করে তাড়াতাড়ি অলআউট করা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মিরপুরের উইকেট দেখে বিস্মিত জিম্বাবুয়ে দলপতি

Read Next

সুবিধাজনক অবস্থানে সাউথ জোন, বিজয়-রাব্বির আক্ষেপ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
14
Share