যে কথা ভালো লাগলো না তাইজুলের!

তাইজুল ইসলাম

বাংলাদেশের টেস্ট দলের অপরিহার্য সদস্য তাইজুল ইসলাম। আবার খেলাটা যখন বাংলাদেশে তখন তাইজুলের ঘূর্ণিজাদুর দিকে নজর থাকে সবার। আজ সংবাদ মাধ্যমের সামনে আরো একটি হোম টেস্টের আগে কথা বলেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

বাংলাদেশের স্পিন বান্ধব উইকেট তাইজুলের কাছে কমফোর্ট জোন কিনা জানতে চাওয়া হয়। তাইজুলের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘আসলে দেশে যখন খেলা হয় তখন নিজের কাছে একটু অন্যরকম লাগে। আপনারা জানেন যে ভালো করবো কিংবা ভালো করার সেই অনুভূতিটা থাকে। আমার কাছে মনে হয় ভালো করাটাই স্বাভাবিক।’

সাদা পোশাকে বাংলাদেশের পক্ষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাইজুল ইসলামের উইকেট ৩৫ টি। ৫ ম্যাচে ২১.১১ গড়ে এই ৩৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২য় অবস্থানে থাকা সাকিব আল হাসানের উইকেট ৬ টেস্টে ২৬ টি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাইজুলের পরিসংখ্যান ভালো বলেই কিনা তাইজুলকে এই কথা মনে করিয়ে দেন এক সাংবাদিক। যা পছন্দ হয়নি তাইজুলের, সরাসরি তা জানিয়েছেনও।

‘আসলে আমার এই কথাটা ভালো লাগলো না। কারণ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই যে শুধু উইকেট পেয়েছি এমন তো না। আরো অনেক দলের সঙ্গেই খেলেছি। আমি এর আগেও বলেছি যে আপনি যাদের সঙ্গেই খেলেন ভালো জায়গায় বল না করলে হয় না। আর ওরা যে একেবারে খারাপ দল এমনটা তো না। ভালো জায়গায় যখন বল করবো না তখন খারাপ হবে, আবার যখন ভালো জায়গায় বল করবো তখন অনেক সুযোগ আসবে, উইকেটের সুযোগ আসবে বা দলের জন্য ভালো হবে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ টেস্ট সহ মোট ২৮ টেস্ট খেলা তাইজুলের উইকেট ১০৮। তাই তাইজুলের ক্ষুদ্ধ্ব হবার কারণ স্পষ্ট। আবার জিম্বাবুয়ে যে একেবারে হেলাফেলার দল নয় তার প্রমাণ মিলেছিল সিলেট টেস্টে। বাংলাদেশকে টেস্টে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেটাকে দুর্ঘটনা বলছেন না তাইজুল।

‘আমি এটাকে দুর্ঘটনা বলবো না। দুর্ঘটনা আলাদা জিনিস। আমরা আসলে খারাপ খেলেছি তাই হেরেছি। এরপরের ম্যাচে হয়তো আমরা ভালো খেলেছি তাই জিতেছি। এখানে দুর্ঘটনার কিছু নেই। ক্রিকেটে ভালো খেলতে হবে। ভালো না খেললে হারাটাই স্বাভাবিক।’

সাকিব আল হাসান ছাড়া বাংলাদেশের স্পিন ডিপার্টমেন্ট যে বিশ্বমানের নয় তা রাখঢাক না রেখেই বললেন তাইজুল।

‘এখন যারা স্পিনার আছে তারা ভালো নয়, সাকিব ভাইয়ের মতো নয়, এটাই সত্যি। সাকিব ভাই থাকলে যেহেতু ভালো হতো……এটাই উত্তর আমার কাছে। সাকিবের মানের খেলোয়াড় আসতে হবে। এখন সেই মানের খেলোয়াড় নেই। সেই মানের স্পিনার নেই। এই কারণে পেসার নেয়া হয়েছে কিনা জানি না। পেসার আছে, কিংবা স্পিনারও দুইজন গিয়েছিল, পাকিস্তানেও গিয়েছিল, আমিও খেলেছি। আমি যেটা বললাম যে ওই মানের স্পিনার এখনও আসেনি, সেই কারণে ফলাফলটি এমন হচ্ছে।’

ব্যাড প্যাচের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। এখান থেকে বের হতে জয়ের বিকল্প নেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেই আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা বাড়াতে চান তাইজুল।

‘অবশ্যই জেতাটা প্রয়োজন (দলের জন্য)। সেটা জিম্বাবুয়ে হোক কিংবা অন্য দল হোক। এখন জেতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন জিতলে হয়তোবা আমাদের আত্মবিশ্বাসের লেভেলটা হাই হবে এবং সেটা আমাদের দলের জন্য বেশ ভালো হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পেশাদার শাহাদাতের ত্যাগ স্বীকারে আপত্তি নেই

Read Next

সেমিফাইনালে সেঞ্চুরির জন্য জয় পেলেন ‘১০০ টাকা’ পুরষ্কার!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
5
Share