জিম্বাবুয়ে বলেই পুরোনো মন্ত্র জপছেন মুমিনুল-নান্নু!

মুমিনুল হক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু

প্রত্যাশার বেলুনটা বিশ্বকাপেই হাওয়ায় মিশিয়ে দেয় মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। সেই যে বাজে পারফরম্যান্সের বৃত্তে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ আর বেরোতে পারছেনা। বরং ক্রমশ পারফরম্যান্সের গ্রাফটা নিম্নমুখীই হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিমের অধীনে লঙ্কা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হয়েছে ধবল ধোলাই।

এরপর অবশ্য আর কোন ওয়ানডে খেলেনি বাংলাদেশ। কিন্তু টেস্ট, টি-টোয়েন্টিতে চেহারাটা বদলায়নি টাইগারদের। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেন আফিফ হোসেন। পরের ম্যাচ হারতে হয় আফগানিস্তানের কাছে। এর আগে একমাত্র টেস্টেও আফগানদের কাছে ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।

ভারত সফরে একটি টি-টোয়েন্টি জিতলেও দুটো টেস্টেই হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। ভারতের দুঃস্বপ্নের সফর শেষে বহুল আলোচিত পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দফার টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হেরেছে ২-০ ব্যবধানে, সিরিজের শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে না গেলে ছিল ধবল ধোলাইয়ের শঙ্কাও।

আর সবশেষ রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ইনিংস হারের ক্ষত তো এখনও দগদগে। তামিম-মুমিনুল-মাহমুদউল্লাহদের এমন বাজে সময়েই পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে হাজির জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিপদের বন্ধু তকমা লেগে যাওয়া দলটি আবারও আত্মবিশ্বাস ফেরাবে ক্রিকেটারদের এমন বিশ্বাস টিম ম্যানেজমেন্টের। তাদের বিপক্ষে ভালো করেই নতুন শুরু করতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট, টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকও।

অথচ ২০১৮ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেক ম্যাচেও ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বসে তামিম-সাকিবরা। পরের ম্যাচে যদিও ২১৮ রানের বড় ব্যবধানেই বাংলাদেশও জিম্বাবুয়ানদের হারায়। কিন্তু বারবার বড় দলগুলোর বিপক্ষে হারের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো খেলে আত্মবিশ্বাসের রসদ জুগানোর মন্ত্রটাই যে ভুল বার্তা দেয় দেশের ক্রিকেটে!

এই যেমন টেস্ট কাপ্তান মুমিনুল হক ক্রিকেট বিষয়ক ভারতীয় জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজকে’ বলেন, ‘এটা একটা সুযোগ (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে)। জিম্বাবুয়ের পরই আমাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট আছে। এটা সবার জন্যই ভালো একটা সুযোগ দল হিসেবে খেলার। আমাদের দল হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ব্যক্তিগত অর্জনের দিকে তাকাচ্ছিনা। পাকিস্তানে আমরা ভালো বল করেছি আর যা নির্দেশ করে আমদের পেস আক্রমণ উন্নতি করছে।’

‘সুতরাং আমি মনে করি আমাদের উচিৎ সুযোগ তৈরি করা যাতে পেসাররা আসন্ন সিরিজে (জিম্বাবুয়ে) পারফর্ম করতে পারে। কারণ এটা আমাদের জন্য সুবিধার হবে যখন আমরা দেশের বাইরে খেলবো। এবং আমি মনে করি এটা আমাদের ব্যাটসম্যানদেরও সাহায্য করবে ভালো প্রস্তুতি নিতে কারণ সামনে আমাদের দেশের বাইরে অনেক ম্যাচ।’

এদিকে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, ‘ক্রিকেটে আপনার একটা জায়গায় সমানভাবে থাকা কিন্তু কঠিন। উত্থান-পতন আছে ক্রিকেটে। একটা দল কোনোদিন বলতে পারবে না যে আমি একই স্ট্যান্ডার্ডে ক্রিকেট খেলবো। আমরা ৬ মাস ধরে খারাপ খেলছি, আশা করছি ঘরের মাঠের সিরিজ দিয়ে আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াবো।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি) টেস্ট দল ঘোষণার পরও মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কণ্ঠে একই সুর, নতুন শুরুর অপেক্ষায়, ‘গত ৬ মাস আমাদের পারফরম্যান্স আপ টু দ্যা মার্ক নয়। সবকিছু মাথায় রেখে এই সিরিজ দিয়ে নতুন করে শুরু করতে চাচ্ছি। আমরা চাচ্ছি যে ভালো ক্রিকেট খেলি এখানে।’

কিন্তু যতটা সহজ মনে করা হচ্ছে জিম্বাবুয়েকে ততটা সহজ নাও হতে পারে দলটি, অন্তত আসন্ন মিরপুর টেস্টে গল্পটা ভিন্নও হতে পারে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সাথে হারানোর কিছু না থাকাটা বেশ খোলা মনে খেলতে দিবে ক্রেইগ আরভিনের দলকে। তার সাথে যোগ হবে এখানকার পরিচিত কন্ডিশনের সুবিধাও।

অন্যদিকে টানা বাজে হারের বৃত্তে থাকা বাংলাদেশই বরং থাকবে চাপে। দেশের বাইরে ব্যর্থ তামিম, মুমিনুলরা নিজেদের প্রমাণে চাইবেন ভালো কিছু করতেই। ফলে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে সাফল্যের চাপে কুজো হয়ে আরেক দফায় ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কাও থেকে যায়।

আর এবারই এমন কিছু প্রথম নয়। দেশের ক্রিকেটের দুঃসময়ে জিম্বাবুয়েই পাশে দাঁড়ায় টাইগারদের। বিসিবির ডাকে সাড়া দিয়ে নিয়মিতই নেয় বিসিবির আতিথেয়তা। হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশও লুফে নেয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজকেই। দেখার বিষয় এবার সেটা কতটা পেরে ওঠে তামিম-মুমিনুলের বাংলাদেশ।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন ফাফ ডু প্লেসিস

Read Next

ইংল্যান্ড দলকে শাস্তি দিল আইসিসি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
17
Share