অবসান হলো জয়ের বাড়ি বিভ্রান্তির!

মাহমুদুল হাসান জয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯

যুব বিশ্বকাপ জয়ের পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল প্রশংসা কুড়াচ্ছে ঘরে-বাইরে। নির্দিষ্ট একজন নয় পুরো টুর্নামেন্টে দল হিসেবেই খেলেছে আকবর আলির দল। প্রতি ম্যাচেই দলের জয়ের নায়ক হয়েছেন একেকজন। এই যেমন মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে ভর করে সেমিফাইনালে হেসেখেলে হারানো যায় নিউজিল্যান্ডকে। সেমিফাইনালে টাইগার যুবার সেঞ্চুরির পরই একটা বিষয় নিয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিল্লা ও চাঁদপুর বাসী মাহমুদুল হাসানকে নিজেদের দাবি করে বসে।

আসলে কি এমন ঘটনা যার জন্য এক ক্রিকেটার নিয়ে দুই জেলার লোকের অধিকার খাটানো? এমনকি সংবর্ধিতও হয়েছেন দুই জেলাতেই, ভক্ত সমর্থক থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রাজকীয়ভাবে মাহমুদুলকে বরণ করে নেয় কুমিল্লা ও চাঁদপুরবাসী। পরে অনুসন্ধানে জানা যায় এই টাইগার যুবার পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় কিন্তু নানার বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে।

ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের জন্ম, বেড়ে ওঠা নানা বাড়ি চাঁদপুরে। ব্যাংকার বাবার পেশার খাতিরে পুরো পরিবারই এক সময় পাড়ি জমায় ইলিশের জেলা চাঁদপুরে। চাঁদপুরে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে কোচ শামীম ফারুকীর কাছে হাতেখড়ি হয় ক্রিকেটের। সেখান থেকেই ২০১২ সালে বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়া।

বাড়ি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে গিয়ে মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই রাশেদুল হাসান জুমন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর উত্তর গ্রামে, নানার বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে উপজেলার পশ্চিম লাড়ুয়া গ্রামে। মাহমুদুলের জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা মামার বাড়িতেই। পরে বাবার পেশাগত কারণে আমরাও চাঁদপুরে স্থায়ী হই। মাহমুদুল ক্লেমন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমিতে দুই বছর কোচিং করে, সেখান থেকেই ২০১২ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়। এরপরতো সবই জানা… ।’

নিজেদের ভালো খেলার পুরষ্কার হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ী দলের ৬ ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে। অধিনায়ক আকবর আলি সহ এই ৬ জনের মধ্যে আছেন মাহমুদুল হাসান জয়ও। এই বয়সেই কোন আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়া নিশ্চিতভাবেই অনুপ্রেরণার। মাহমুদুলের ছায়া হয়ে সবসময় পাশে থাকা বড় ভাই জুমন মনে করেন বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্ট খেলে এসেছেন বলে প্রস্তুতি ম্যাচের চাপ সামলানো খুব একটা কঠিন হবেনা মাহমুদুল হাসানের জন্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা বলতে আমি চাই সে নির্ভার খেলুক। হ্যা দায়িত্ব বেড়েছে ঠিকই তবে আমার বিশ্বাস সে ভালোভাবে সামলে নিবে। কারণ বিশ্বকাপের মত বড় আসর খেলেছে সে। বিশ্বকাপের চাইতে বড় কোন চাপ হতে পারেনা আমার কাছে মনে হয়। বিশ্বকাপ সামলেছে বলেই আমার আস্থাটা বেড়েছে ওর প্রতি।’

মাত্রই নিজেকে মেলে ধরার মঞ্চগুলো সামনে আসতে শুরু করেছে। ছোট ভাই মাহমুদুলকে ঠিক কোন জায়গাটায় দেখতে চান জানতে চাইলে রাশেদুল হাসান বলেন, ‘আল্লাহ চাইলে সে যেন আমাদের মনের আশা পূরণ করে দেশের জার্সিতে জাতীয় দলে খেলতে পারে সেটাই কামনা করি। একদিন বিশ্বের সেরা ৫ জন ব্যাটসম্যান হবে এমনটা স্বপ্ন দেখি।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

মাশরাফি-পাপন বৈঠকের পরই আসবে খেলা-না খেলার সিদ্ধান্ত

Read Next

নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলে আজাজ, জেমিসন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
18
Share