এমন অভ্যর্থনা অপ্রত্যাশিত ছিল টাইগার যুবাদের

আকবর আলি নাজমুল হাসান পাপন
Vinkmag ad

গত দুই বছরের পারফরম্যান্সেই আকবর আলির দলের উপর একটা বাড়তি প্রত্যাশা জন্মেছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মত বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও দুর্দান্ত সফলতাই আকবরদের ফেভারিট করেই বিশ্বকাপে পাঠায়। আর সে প্রত্যাশার চাপটা বেশ সাবলীলভাবেই সামলেছে টাইগার যুবারা। টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েই দেশের ক্রিকেটে যোগ করে অন্যতম সেরা এক অধ্যায়। আজ দেশে ফেরার পর দেশের সাধারণ ভক্ত ,সমর্থক ও বিসিবিও তাদের বরণ করে নেয় ঠিক সেভাবেই। বিমানবন্দরে অবতরণ থেকে বিসিবি কার্যালয়ে আসা পর্যন্ত পুরো সময়টা আকবরদের ঘোরের মধ্যেই কাটানোর কথা।

আতশ বাজি, কেক কাটা আর লাল গালিচা সংবর্ধনায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার দর্শকের সামনে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন তামিম, সাকিব, শরিফুল, রাকিবুল, তৌহিদ, জয়রা তা নিশ্চিতভাবেই স্মৃতির মনি কোঠায় গেঁথে রাখবেন সারাজীবনই। দলপতি আকবরতো জানিয়েই দিলেন বিশ্ব জয়ের পর এতটা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে প্রত্যাশাই করেননি। পুরষ্কার হিসেবে আগামী দুই বছরের চুক্তিতে বোর্ড থেকে প্রতিটি সদস্য পাবেন মাসে এক লাখ টাকা করে।

মানুষের এত ভালোবাসা, বিসিবির দুর্দান্ত আয়োজন, আর্থিক পুরষ্কার এত কিছু পেয়ে টাইগার কাপ্তান আকবর জানিয়েছেন এমন বাড়তি কিছু পাওয়ার আশায় বিশ্বকাপ খেলতে যাননি যুবারা। এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘এখন ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে যেটা পাব তার জন্য আমি আগে থেকে তাদের ধন্যবাদ দিয়ে রাখছি। তবে সে রকম কোনো প্রত্যাশা (বোর্ডের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার) নিয়ে কিন্তু আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাইনি। এই যেমন বোর্ড থেকে আমরা এটা নেবো, ওটা নেবো।’

‘আমরা যখন বিশ্বকাপে গেছি তখন আমরা বলেই গিয়েছিলাম যে ফাইনাল খেলার টার্গেট নিয়ে আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। সেটা পূরণ করতে পেরেছি বলে সন্তুষ্ট আমরা। আর সমর্থকদের কাছ থেকে যেটা প্রত্যাশা, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য প্যাশন অনেক বেশি। সব সময় তারা যেমন সমর্থন করে আসছেন আমাদের, সে সমর্থনটাই প্রত্যাশা করব।’

ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশ যুব দল বিসিবির তরফ থেকে যে ধরনের সংবর্ধনা পেলেন তা অপ্রত্যাশিতই মনে হয়েছে আকবর আলির কাছে, ‘আমরা জানতাম কিছু একটা হতে পারে। কিন্তু এতো বড়ভাবে হবে সেটা কখনোই আমাদের প্রত্যাশা ছিল না। সেটা আসলেই অবিশ্বাস্য।’

যুবাদের বৈশ্বিক আসরের সবচেয়ে বড় সাফল্যটা এসেছে এবার প্রস্তুত হতে হবে পরের লড়াইয়ের জন্য। পাড়ি দিতে হবে আরও অনেক পথ, আকবর বলছেন জীবন বদলে গেছে এমন কিছু নয়, ‘সে রকম কিছু (জীবন বদলে যাওয়া) না। একটু শুধু অন্যরকম লাগছে, যেহেতু এটা একটা বড় অর্জন। সবার কাছ থেকে যেভাবে সাড়া পাচ্ছি সেটা একটু অন্য রকম। দেখা যাক আগামীকাল থেকে কি হয়।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

বিশ্ব জয়ের পরও পা মাটিতেই রাখছেন আকবর আলিরা

Read Next

বাদ পড়ছেন মাহমুদউল্লাহ!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
20
Share