যুবাদের আচরণে হতাশ ভারতীয় কিংবদন্তিরা, বোর্ডের কাছে শাস্তি দাবি

কপিল দেব মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন সুনীল গাভাস্কার
Vinkmag ad

পেসারদের আগ্রাসন, বল হাতে আগুন ঝরানো, প্রতিপক্ষকে নিজের শক্তির জায়গা দিয়ে ভড়কে দেওয়া ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। তার সাথে যোগ হয় স্লেজিং, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে স্লেজিং ম্যাচের অংশ বললেও ভুল হবেনা। কিন্তু সবই ক্রিকেটে আইনের সীমার মধ্য থেকেই করতে হয়, প্রতিপক্ষের উপর অন্যায় হয় কিংবা কোন বৈষম্যের সৃষ্টি হবে এমন কোন কিছুতেই সমর্থন দেয়না আইসিসি। পচেফস্ট্রুমে যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে ভারত-বাংলাদেশ দুই দলের আচরণ বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই দলের ৫ জন ক্রিকেটার পেয়েছেন বড়সড় শাস্তি। দেশের ক্রিকেটে সোনালী এক অধ্যায় রচনা করা বাংলাদেশ যুবারা ম্যাচ শেষে ধরে রাখতে পারেনি উদযাপনের নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে ম্যাচ হেরে শিরোপা বঞ্চিত হওয়া হতাশ ভারতীয় ক্রিকেটাররা যায়নি কম। হাতাহাতি পর্যায়ের নেক্কারজনক ঘটনাও ঘটে মাঠে।

তরুণ এই ক্রিকেটারদের আচরণের এই নেতিবাচক ব্যাপারগুলো বেশ নাড়া দিয়েছে ভারতের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার কপিল দেব ও আজহার উদ্দিনকে। সাজা পাওয়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন ভারতীয় বোর্ডের কাছে, হতাশা প্রকাশ করেন দুই দলের দোষী ক্রিকেটারদের নিয়েই।

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেব বলেন, ‘আগ্রাসনকে আমি সবসময়ই স্বাগত জানাই, এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিযোগিতায় নেমে আপনি কখনো শৃঙ্খলার সীমা অতিক্রম করতে পারেন না। ব্যক্তিগতভাবে আমি বলবো তরুণ যেসব ক্রিকেটার মাঠে এমন বাজে আচরণ করেছে তা সত্যি মেনে নেওয়া যায়না।’

ভারতীয় আরেক কিংবদন্তী ক্রিকেটার আজহার উদ্দিনতো কোনভাবে মেনেই নিতে পারছেন না যুবাদের এমন আচরণ, ‘আপনি কীভাবে এমনটা করেন? দুর্দান্ত খেলা দিয়ে আপনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করবেন। অস্ট্রেলিয়ানরা ব্যাটে-বলে আপনাকে অসহায় করে দিবে কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে নয়। আমাদের দারুন কিছু পেসার ছিল যারা বাজে শব্দ কিংবা আচরণে বিশ্বাস করতোনা, তারা কেবল নিজেদের অনুপ্রাণিত করতো এবং ব্যাটসম্যানকে ভড়কে দিত।’

বাজে আচরণ প্রমাণিত হওয়ায় সাজা পাওয়া তিন জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার হলেন-তৌহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন ও রাকিবুল হাসান, দুই ভারতীয় ক্রিকেটার হলেন আকাশ সিং ও রবি বিষ্ণয়। বিষ্ণয় আবার সাজা পেয়েছেন দুটি ভিন্ন ভিন্ন আচরণ বিধি ভঙ্গের দায়ে। আইসিসি বড় সাজা দিলেও বোর্ডের তরফ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করেন কপিল দেব ও আজহার উদ্দিন।

ভারতীয় বোর্ডের এ ব্যাপারে কঠোর হওয়া উচিৎ মনে করেন কপিল দেব, ‘দেখতে চাই বোর্ড এমন কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিক যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রতিপক্ষকে গালি দেওয়া ক্রিকেট নয়। আমি নিশ্চিত ওখানে এমন আচরণের পেছনে যথেষ্ট কোন কারণ রয়েছে।’

আজহার অবশ্য দোষ দেখেন কোচিং স্টাফদেরও, ‘সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিবো কিন্তু জানতে চাই দলের কোচিং স্টাফরা তরুণ এই ক্রিকেটারদের শেখানোর ব্যাপারে কি ভূমিকা পালন করেছেন। দেরি হওয়ার আগেই আইন করুন। খেলোয়াড়দের অবশ্যই শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।’

এছাড়া বরাবরই ক্রিকেটারদের এমন আচরণের বিপক্ষে অবস্থান সুনীল গাভাস্কারের। তার কাছেও ভালো লাগেনি এই ঘটনা।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইংল্যান্ড দলে ফিরলেন জেনিংস-ফোকস, নেই বেয়ারস্টো-মইন

Read Next

লামিচানের দুর্দান্ত বোলিং, যুক্তরাষ্ট্রের লজ্জার বিশ্বরেকর্ড

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
19
Share