টেস্ট স্কোয়াডের সদস্যরা যে যেমন করলেন বিসিএলে

বাংলাদেশ টেস্ট
Vinkmag ad

পাকিস্তান সফরের প্রথম টেস্ট খেলতে আজ সন্ধ্যার ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছে মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানে গিয়ে নেই কোন প্রস্তুতি ম্যাচ। একদিনের অনুশীলন শেষে শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট খেলতে মাঠে নামবে টাইগাররা। টেস্ট ম্যাচটি সামনে রেখে দেশেও ছিলনা কোন কন্ডিশনিং ক্যাম্প। তবে বিসিএলের প্রথম রাউন্ড দিয়ে বেশ ভালো প্রস্তুতিই সেরেছে স্কোয়াডের ক্রিকেটাররা।

ব্যাটে বলে বেশ উজ্জ্বল ছিলেন তামিম, মুমিনুল, রিয়াদ, লিটনরা। বল হাতে নাইম হাসান, তাইজুল ইসলামরাও সেরে নিয়েছেন নিজেদের প্রস্তুতি।

পাকিস্তান সফরে প্রথম টেস্টের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে স্কোয়াডের সবাই খেলেছেন বিসিএলে। রেকর্ড গড়া ট্রিপল সেঞ্চুরিতে তামিম দিয়েছেন বার্তা। ব্যাট হাতে স্কোয়াডের সব ক্রিকেটারই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে কেবল ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য সরকার।

দুই ইনিংসে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের এই ব্যাটসম্যান ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোনের বিপক্ষে মিরপুরে করতে পারেননি ৪০ রানের বেশি। প্রথম ইনিংসে ৪৭ বলে ৩৬ রান করে ফিরেছেন হাসান মাহমুদের বলে, দ্বিতীয় ইনিংসে ২০ বলে ৪ রান করে ফিরেছেন আবু জায়েদ রাহির বলে। তার সঙ্গী সাইফ হাসান অবশ্য খেলেছেন টেস্ট মেজাজেই। অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এই ওপেনার পাকিস্তানে তামিম ইকবালের সঙ্গী হতে যাচ্ছেন এক প্রকার নিশ্চিতই।

সাড়ে ৫ ঘন্টার বেশি সময় ক্রিজে টিকে ২১৪ বল খেলে প্রথম ইনিংসে সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান। যা স্পষ্টই ইঙ্গিত দেয় ক্রিজে টিকে থাকার মানসিকতা বেশ ভালোভাবেই রাখেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় ইনিংসেও করেন ৩৩ রান, বল খেলেছেন ৬৯, ক্রিজে কাটিয়েছেন পৌনে দুই ঘন্টা। কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর ভাষ্য অনুসারে তিন নম্বরে খেলার কথা ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত’র।

এর আগে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তিন ফরম্যাটে সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের সামনে নিজেকে নতুন করে মেলে ধরার সুযোগ রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ১০ রানের বেশি করতে না পারা শান্ত দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য তুলে নেন ফিফটি। ৮৫ বলে খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস।

সেন্ট্রাল জোনের আরেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনকে সামলাতে হবে মিডল অর্ডার, জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান কোচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এই ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসে ৩ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। প্রায়ে সাড়ে তিন ঘন্টা ক্রিজে কাটানো মিঠুন ১৪৩ বলে খেলেন ইনিংসটি।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোনের একাদশে থাকা টেস্ট স্কোয়াডের তামিম-মুমিনুল এক ইনিংস ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে নিজেদের ব্যাটে শান দিয়েছেন বেশ ভালোভাবে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল হাঁকানোর পাশাপাশি তামিমের খেলা ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংসই এখন প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

রান করার চাইতে তামিমের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচে ছিল টেস্ট মেজাজের ছাপ। তাড়াহুড়ো নয় বরং বল বাই বল বুঝে শুনে ৫৮৫ মিনিট ক্রিজে ছিলেন দেশ সেরা এই ওপেনার। অন্যদিকে কাপ্তান মুমিনুল হকও হাঁকান সেঞ্চুরি, ২৬৬ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৯৪ বলে খেলেন ১১১ রানের ইনিংস।


চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বিসিবি সাউথ জোন ও বিসিবি নর্থ জোনের মধ্যকার ম্যাচেও রানের দেখা পেয়েছেন টেস্ট স্কোয়াডের ব্যাটসম্যানরা। সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস। সাউথ জোনের হয়ে প্রথম ইনিংসে ৩১ রান করা মাহমুদউল্লাহ দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস। যদিও টেস্ট নয় অনেকটা টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলেই ৩৪ বলে ফিফটি হাঁকানো রিয়াদ সেঞ্চুরি তুলে নেন ৭০ বলে।

প্রতিপক্ষ নর্থ জোনের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস প্রথম ইনিংসে গোল্ডেন ডাকে ফিরলেও দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস। স্বভাবসুলভ নান্দনিক শটে ১৬৮ বলে ২২৮ মিনিট ক্রিজে থেকে ইনিংসটি খেলেন লিটন।

স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া পেসারদের মধ্যে রুবেল হোসেন করতে পারেননি খুব একটা সুবিধা। এমনিতেই তার স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্তি নিয়ে নেই প্রশ্নের শেষ। ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোনের রুবেল প্রথম ইনিংসে ১০ ওভার বল করে ছিলেন উইকেট শূন্য। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫ ওভারে নিয়েছেন একটি উইকেট। তার সতীর্থ আবু জায়েদ রাহির শিকার ম্যাচে তিন উইকেট।

পেসাররা খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোনের স্পিনাররা ছিলেন বেশ ছন্দে। প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলাম তুলে নেন ৫ উইকেট নাইম হাসান দুটি। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের দুটি, নাইমের দখলে ৬ উইকেট। পক্ষান্তরে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনে ছিলনা পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের স্কোয়াডে থাকা কোন বোলার। সাইফ হাসান ৫ ওভার হাত ঘুরালেও স্বীকৃত বোলার নন বলে তার বোলিং পারফরম্যান্স মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নেই।

বিসিবি সাউথ জোন ও বিসিবি নর্থ জোনের মধ্যকার ম্যাচে টেস্ট স্কোয়াডের বোলারদের মধ্যে খেলেছেন এবাদত হোসেন ও আল আমিন হোসেন। প্রথম ইনিংসে উইকেট শূন্য থাকা বিসিবি সাউথ জোনের আল আমিন দ্বিতীয় ইনিংসে নেন এক উইকেট। অন্যদিকে বিসিবি নর্থ জোনের এবাদত হোসেনের শিকার ম্যাচে দুই উইকেট।

সবমিলিয়ে পেসাররা খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও স্পিনাররা ছিলেন ছন্দে, ব্যাটসম্যানরা পেয়েছেন আত্মবিশ্বাসের রসদ জুগানোর মত রান। বিসিএলের ফর্ম পাকিস্তানে টেনে নিতে পারলে বাংলাদেশ ভালো কিছু করতে পারবে বলে আশা করাই যায়। বিসিএলের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ও অধিনায়ক মুমিনুল হকও। পাকিস্তানের মাটিতে নাসিম শাহ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, বাবর আজম, ইয়াসির শাহ, আজহার আলিদের বিপক্ষে কতটা প্রয়োগ করতে পারে তামিম-মুমিনুল, নাইম-তাইজুল, রুবেল-রাহিরা সেটাই দেখার বিষয়।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

যেকারণে পাকিস্তানে নিজেদেরকেই ‘থ্রেট’ বলছেন বাশার

Read Next

খারাপ সময় নিয়ে ভাবছেন না শান্ত

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
6
Share