লিটনের ব্যাটে চড়ে পরাজয় এড়ালো নর্থ জোন

লিটন দাস
Vinkmag ad

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের ম্যাচ দেখেছে পাঁচ সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসের প্রথম দিনে ফজলে মাহমুদ। এরপর ম্যাচের তৃতীয় দিনেই সেঞ্চুরি এসেছে তিনটি! সাউথ জোনের শাহরিয়ার নাফিস, শামসুর রহমান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক। আজ শেষ দিন সেঞ্চুরি করে ম্যাচ ড্রয়ের পথে আনলেন নর্থ জোনের লিটন দাস।

লিটন দাসের অপরাজিত শতকে সাউথ জোনের বিপক্ষে ম্যাচ বাঁচিয়েছে নর্থ জোন। পয়েন্ট হয়েছে ভাগাভাগি।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথম ইনিংসে সাউথ জোন সংগ্রহ করে ২৬২ রান। প্রথম দিনেই নর্থ জোনের পেসারদের বোলিং তোপে পড়ে মাত্র ৬৭ ওভারে ২৬২ রান করতেই অল-আউট হয়ে যায়। তবে উইকেটে দাঁড়িয়ে তাসকিন-এবাদতদের সামনে একাই লড়াই করেছেন তিনে নামা ফজলে ফাহমুদ। আউট হওয়ার আগে ১২৫ রানের ইনিংস আসে তাঁর ব্যাট থেকে।

নর্থ জোনের পেসার সুমন খান সর্বোচ্চ ৩ উইকেট, তাসকিন-এবাদত-আরিফুল ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

২৬২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ২০৭ রানের বেশি করতে পারেনি লিটন দাস, নাইম ইসলামরা। লিটন দাস গোল্ডেন ডাক মেরে আউট হন। জুনায়েদ সিদ্দিকী-নাঈম ইসলামরা রান করতে পারেননি। সাউথ জোনের পেসার শফিউল ইসলাম ওভার হ্যাটট্রিকসহ প্রথম ওভারেই নেন ৪ উইকেট। পরের দিন আরও ২ উইকেট নিয়ে শফিউল ঝুলিতে নেন মোট ৬ উইকেট। ৪০ রানের খরচায় ৬ উইকেট নেন শফিউল ইসলাম আর ৭২ রানে ৪ উইকেট নেন রাজ্জাক।

প্রথম ইনিংসে ২৬২ রানে অলআউট হওয়া সাউথ জোন ৫৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে শুরুতেই হোঁচট খায়। ১১ রানেই পতন ঘটে তাদের প্রথম উইকেটের। ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয় এনামুল হক বিজয়কেও। এরপর শাহরিয়ার নাফিস এবং শামসুর রহমান মিলে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন দলকে।

সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন দুজনই। শাহরিয়ার নাফিস ও শামসুর রহমান ধৈর্যশীল ইনিংস খেললেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যাট করেন টি-টোয়েন্টি স্টাইলে। মাত্র ৭০ বলে শতরান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ২৫১ বলে ১২টি চারের সাহায্যে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন নাফিস। শামসুর করেন ১০৯ রান। দলীয় ৩৯৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে সাউথ জোন।

সাউথ জোনের লিড ৪৫৩ রান। নর্থ জোনের সামনে জয়ের জন্য ৪৫৪ রানের লক্ষ্য।

দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট না পেলেও প্রথম ইনিংসে ১৯.১ ওভার বল করে ৪০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাউথ জোনের এ পেসার। আগের দিন কোনো উইকেট না হারিয়ে ২২ রান করা নর্থ জোন আজ শেষ দিনের শুরুটাও ভালো করে। দুই ওপেনার মিজানুর রহমান ও রনি তালুকদার ৬১ রানের জুটি গড়েন। ২৯ রানে মিজানুরকে বোল্ড করেন অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক। রনি তালুকদার আউট হন ৩৭ করে।

এরপর জুনায়েদ সিদ্দিকীর সঙ্গে জুটি গড়েন লিটন দাস। ১২৭ বলে ৬১ রানে জুনায়েদ আউট হলে জুটি ভাঙ্গে ১২৭ রানের। তবে ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ০ রান করা লিটন আজ উইকেটে ছিলেন দুর্দান্ত। এরমধ্যে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান নাইম ইসলাম। ১৬৫ বলে শতরানে পৌঁছান লিটন।

শেষ পর্যন্ত ১৬৮ বল মোকাবিলায় ৯ চার ও ২ ছয়ে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন দাস। নর্থ জোনের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৭৮ রান করার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 

দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংসঃ ২৬২/১০ (৬৭.৪ ওভার)

উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংসঃ ২০৭/১০ (৭৭.১ ওভার)

দক্ষিণাঞ্চল ২য় ইনিংসঃ ৩৯৮/৩ (ইনিংস ঘোষণা) শাহরিয়ার ১১১, এনামুল ৬৪*, শামসুর ১০৯, মাহমুদউল্লাহ ১০০*; ইবাদত ১৯-২-৭৮-০, তাসকিন ২৩-৫-৬৮-১, আরিফুল ১১-৩-৫১-২, সুমন ১৯-১-৮৮-০, সানজামুল ২৩-২-৮৪-০, তানবীর ৬-০-১৮-০, নাঈম ১-০-৫-০)

উত্তরাঞ্চল ২য় ইনিংসঃ ২৭৮/৪ (৮১ ওভার) মিজানুর ২৯, রনি ৩৭, জুনায়েদ ৬১, লিটন ১০৩*, নাইম ৪৩; আল আমিন ১৪-৪-৩৯-১, রাজ্জাক ২৩-০-৬৬-২, মাহমুদউল্লাহ ৪-১-১৫-১

ফলাফলঃ ম্যাচ ড্র

ম্যাচ সেরাঃ শফিউল ইসলাম (দক্ষিণাঞ্চল)

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মুস্তাফিজের টেস্টে ফিরতে কি করতে হবে জানালেন ডোমিঙ্গো

Read Next

ডোমিঙ্গো বললেন আদর্শ নয়, আইডিয়া নেই মুমিনুলের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
21
Share