নাইমের ঘূর্ণি জাদুতে পূর্বাঞ্চলের ইনিংস ব্যবধানে জয়

featured photo1 18
Vinkmag ad

মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ২য় ম্যাচে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসর শুরু করলো ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন। ইনিংস ব্যবধানে জিতলো তামিম-মুমিনুল-নাইমরা। ৩৪২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩৩ রানে অলআউট হয় মধ্যাঞ্চল। তৃতীয় দিন দুটি উইকেট শিকার করেছিলেন নাইম হাসান। আজ এর ডাবল, চারটি উইকেট শিকার করেন। মোট ছয়টি উইকেট তার ঝুলিতে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথম ইনিংসে মধ্যাঞ্চল সংগ্রহ করে ২১৩ রান। প্রথম দিনেই পূর্বাঞ্চলের তাইজুল ইসলামের বোলিং তোপে পড়ে ২১৩ রান করতেই অল-আউট হয়ে যায় মধ্যাঞ্চল। তাইজুল ইসলাম শিকার করেন পাঁচ উইকেট। তবে মধ্যাঞ্চলের হয়ে একাই লড়াই করেছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান। পাঁচ ঘন্টার বেশি সময় উইকেটে থেকে করেছেন ফিফটি। ৩৩৩ মিনিট উইকেটে ছিলেন সাইফ; খেলেছেন ২১৪ বল। ৫টি চার ও ২ ছক্কায় করেছেন ৫৮ রান।

২১৩ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে তামিমের ট্রিপল সেঞ্চুরি ও মুমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে (৫৫৫/২) ইনিংস ঘোষণা করে ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসাবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়ে অপরাজিত থাকেন তামিম।

প্রথম ইনিংসে ২১৩ রানে অলআউট হওয়া ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো হবার দরকার ছিল। কিন্তু তেমনটি হয়নি। ৩৪২ রানে পিছিয়ে থেকে তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করে।

সেখান থেকে আজ সোমবার চতুর্থ দিন অর্থাৎ ম্যাচের শেষ দিনে ব্যাট করতে নেমে মধ্যাঞ্চল সকালের শুরুতেই হারিয়ে ফেলে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান রকিবুল হাসান ও নাইট ওয়াচম্যান হিসাবে নামা শহিদুল ইসলামকে। রকিবুলকে ২৯ রানে রেখেই বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। ১৭ রানে ব্যাট করা শহিদুলকে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন রুবেল হোসেন।

ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে বড় পার্টনারশিপ দরকার ছিল মধ্যাঞ্চলের। জুটি গড়লেন মোহাম্মদ মিঠুন ও তাইবুর রহমান। ১৪৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরা মিঠুন-তাইবুর দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। গড়েছেন শত রানের জুটিও। এই দুইয়ের ব্যাটে চড়ে ২৫০ রানের গন্ডি টপকায় মধ্যাঞ্চল।

তবে ৫৯ রান করে নাইম হাসানের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরেন তাইবুর রহমান। তিনি পঞ্চম উইকেটে মোহাম্মদ মিথুনের সঙ্গে ১১৩ রানের জুটি গড়ে যান। সেঞ্চুরি হলো না মোহাম্মদ মিঠুনের। ৮৩ রানে মিঠুনকে থামায় নাইম হাসান। ৮৬ বলে ৩৫ করা শুভাগত হোমকে আউট করেন তাইজুল ইসলাম। এরপর অবশ্য আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। আর তাতেই অল-আউট হয়ে ম্যাচ হেরে বসে মধ্যাঞ্চল।

তামিম ইকবাল গতকাল ৩৩৪ রানের ইনিংসের পর গণমাধ্যমের সামনে বলেছিলেন শেষ দিন প্রতিপক্ষের বাকি ৭ উইকেট নেওয়া বেশ কঠিন হবে, কারণ উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষে। কিন্তু সতীর্থের এই কথা যেন ভুল প্রমাণ করলেন নাইম হাসান। গতকাল শিকার করেছিলেন ২ উইকেট, আজ ৪ উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে পূর্বাঞ্চলের স্পিনার নাইম হাসান ৬ উইকেট নেন। ২৯ ওভার বল করে ৪ মেইডেন ও রান খরচ করেন ৮৫।

৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা পূর্বাঞ্চলের ওপেনার তামিম ইকবালকে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 

মধ্যাঞ্চলঃ ২১৩/১০ (৭৫.১ ওভার) সাইফ ৫৮, সৌম্য ৩৬, শান্ত ১০, রকিবুল ৪, মিঠুন ৩, তাইবুর ৪৬, শুভাগত ৩, সোহরাওয়ার্দী ৩১, শহিদুল ৪, মুস্তাফিজ ২, মুকিদুল ০*; রুবেল ১০-১-৩৪-০, আবু জায়েদ ১৪-৮-৩৮-২, নাঈম ১৩.১-১-৪২-২, হাসান ১৬-৩-৩৪-১, তাইজুল ২২-৮-৫৮-৫

পূর্বাঞ্চলঃ ৫৫৫/২ (১৩৯.৫ ওভার) তামিম ইকবাল ৩৩৪*, পিনাক ঘোষ ২৬, মুমিনুল ১১১, ইয়াসির ৬২*; শুভাগত ১/১৬২, মুকিদুল ১/৭১

মধ্যাঞ্চলঃ ৩৩৩/১০ (১০৯.২ ওভার) সাইফ ৩৩, সৌম্য ৪, শান্ত ৫৪*, রকিবুল ২৯, শহিদুল ১৭, মিঠুন ৮৩, তাইবুর ৬২, শুভাগত ৩৫,শুভ ৪, মুস্তাফিজ ২, মুকিদুল ২; নাইম ৬/৮৫, তাইজুল ২/৮২, রুবেল ১/৫৫, রাহি ১/৬৭

ফলাফলঃ পূর্বাঞ্চল ইনিংস ও ৯ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ তামিম ইকবাল (মধ্যাঞ্চল)

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ডোমিঙ্গো মানেন না মিঠুন-সৌম্য ফর্মে নেই

Read Next

রোহিত শর্মাদের সাজা দিল আইসিসি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
13
Share