স্মৃতি রোমন্থন করতে যেয়ে আবেগপ্রবণ হলেন বাবর আজম

বাবর আজম

এক যুগ আগে যে মাঠে বল বয়ের কাজ করতেন সে মাঠে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে টস করতে নামবেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে লাহোরে বাবর আজম রোমন্থন করলেন পুরোনো স্মৃতি।

২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান ইতোমধ্যে র‍্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এক নম্বরে। শুধু টি-টোয়েন্টি নয় তিন ফরম্যাটেই পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান এখন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রান করেছেন ৫০ এর বেশি গড়ে। তার চাইতে বেশি গড় কেবল ভারতীয় কাপ্তান ভিরাট কোহলির।

নিজের পুরোনো দিনের কথা মনে করাতে গিয়ে বাবর বলেন, ‘এটা মনে হচ্ছে গতকালকের ঘটনা আমি প্রতিদিন তিন মাইল হেঁটে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আসতাম এবং বল বয়ের কাজ করেছি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে।’

 

View this post on Instagram

 

Trophy with two captain. Who will have the last laugh? #PAKvBAN #BANvPAK

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

মূলত ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার টানেই এভাবে ছুটে আসতেন উল্লেখ করে বাবর যোগ করেন, ‘এটা ছিল ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালোবাসা। ইনজামাম উল হক, ইউনুস খান, মোহাম্মদ ইউসুফ, মিসবাহ উল হক, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, জ্যাক ক্যালিস, ডেল স্টেইনদের প্রতি আকর্ষণই আমাকে সব বাঁধা বিপত্তি পেছনে ফেলে পাকিস্তানের হোম অফ ক্রিকেটে টেনে আনতো।’

‘আমার জন্য এটা ছিল কেবল কিংবদন্তি টেস্ট ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখার অন্যতম সুযোগ। আমার দিকে তাকিয়ে তাদের দেওয়া হাসি ও আমার পিঠ চাপড়ে দেওয়াই ছিল বড় পুরষ্কার। যেকোন তরুণের জন্য যা সারাজীবনের অভিজ্ঞতা।’

পাকিস্তানে লম্বা সময় ক্রিকেট নির্বাসিত থাকলে বাবর আজম নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেই পারেন। তার অভিষেকের পরই যে স্বল্প পরিসরে ক্রিকেট ফিরতে শুরু করে পাকিস্তানে। ঘরের মাঠে ১০ টি টি-টোয়েন্টি খেলেও ফেলেন পাকিস্তানের ভিরাট কোহলি খ্যাত এই ব্যাটসম্যান। যদিও পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনুকরণীয় পর্যায়ে। পাকিস্তানে খেলা ১০ ম্যাচের ৭ টিই খেলেছেন জন্মস্থান লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।

আগের ৭ ম্যাচে ৪২.৬৭ গড়ে ২৫৬ রান করা বাবর আজম বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ঘরের মাঠে করতে যাচ্ছেন প্রথমবার টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব। পরিচিত দর্শকদের সামনে ব্যাট হাতে নামতে পারা বাড়তি স্বাচ্ছন্দ দেয় উল্লেখ করে পাকিস্তান দলপতি জানান, ‘পেছনে এত সমর্থক রেখে ব্যাট হাতে হাঁটার চাইতে বড় কোন অনুভূতি হতে পারেনা। আপনি অবশ্যই বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন যে আপনি পরিচিতজনদের সামনে আছেন। যা সবসময় আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে যখন দেখবেন ভালো কোন শটের পর আপনার জন্য হাততালি দেওয়া হচ্ছে।’

গত এক দশকে পাকিস্তান ঘরের মাঠে দর্শক উন্মাদনার দৃশ্য বেশ মিস করেছে। পাকিস্তান দলপতি বলছেন এমন পরিস্থিতিতে বেড়ে ওঠা সত্যি কঠিন ছিল তার প্রজন্মের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য, ‘গত এক দশক বা তার বেশি সময় পাকিস্তান ক্রিকেট এটি (ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে খেলা) বেশ মিস করেছে। আমি এ প্রজন্মের ক্রিকেটার যে বেড়ে উঠেছি নিজের দেশে ক্রিকেট বিতাড়িত থাকা অবস্থায়। আপনি যদি এক দশক সময়ে অভিষেক হওয়া অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের যদি আমাদের সাথে তুলনা করেন তবে বুঝতে পারবেন কতটা কঠিন সময় আর চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি।’

তবে সোনালী অতীত ফিরতে যাচ্ছে পাকিস্তানের বিশ্বাস বাবরের, ‘কিন্তু এখন সবকিছু পেছনে ফেলে সামনে এগোনোর সময় আমাদের জন্য এবং ভবিষ্যত ক্রিকেটারদের জন্য ভালো একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

হাসান মাহমুদ অপেক্ষায়, হারিস রউফের শুরু!

Read Next

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে যুবা টাইগাররা

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
7
Share