আইসিসির ইভেন্ট আয়োজন হবে নিলামে

2018 07 21 00 33 24

আইসিসির ভবিষ্যত ইভেন্ট সূচীতে আসতে যাচ্ছে বড়সড় পরিবর্তন। আগের মত টেস্ট খেলুড়ে দেশ, বোর্ডগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক আলাপ আলোচনা করে আর আইসিসি ইভেন্ট হবেনা। সেক্ষত্রে আগ্রহ প্রকাশ করা সদস্য দেশগুলো আইসিসির সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিবে নিলামে। আর সেখানেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে আয়োজক দেশের। ফলে শুধু টেস্ট খেলুড়ে দেশ নয় সুযোগ থাকছে সহযোগী সদস্য দেশগুলোরও। আর সে লক্ষ্যেই আইসিসির প্রধান নির্বাহী পরিদর্শনে এসেছেন বাংলাদেশে।

বিসিবি সভাপতিকে সাথে নিয়ে ঘুরে এসেছেন স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়, দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথেও। ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সূচী আগেই করা আছে আইসিসির। ২০২৩ থেকে ২০৩১ এই ৮ বছরে আইসিসির বিশ্বকাপ ইভেন্টই আছে ২৪ টি। আইসিসির ইভেন্ট সংখ্যা বাড়াতে নারীদের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও চালু করছে আইসিসি। যার প্রথম আসর ২০২১ সালে বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত হবে। মূলত দেশগুলোকে আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়াও এর মূল লক্ষ্য। এতে লাভবান হবে আইসিসি ও আয়োজক দেশ উভয় পক্ষই।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী মানু সাওহনে ও আইসিসির প্রধান বানিজ্যিক কর্মকর্তার ঢাকায় আগমনও এসব নিয়ে আলোচনা করতেই। সাথে ইভেন্ট আয়োজনের শর্তগুলোও ঠিকঠাক কিনা তা পরখ করে দেখা। সচিবালয়ে সাক্ষাৎ শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওরা নতুন একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছে যে ২০২৩ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত যে ইভেন্টগুলো হবে ছেলেদের, মেয়েদের ও অনূর্ধ্ব ১৯ এর মিলিয়ে মোট ২৪ টা ইভেন্ট বন্টন করা হবে কোন পদ্ধতিতে। আগে যেটা হত কখনো ঘুরে ঘুরে, কখনো মহাদেশভিত্তিক, কখনো মেম্বারদের অগ্রাধিকার, টেস্ট প্লেয়িং দেশ এসব ব্যাপার ছিল বোর্ডের সাথে কথা বার্তা হত। এবার যেটা হচ্ছে বিডিং, ফিফায় কিংবা অলিম্পিকে যেটা করে সাধারণত বিড করে।  তারা এবার সে সিস্টেমে যেতে চাচ্ছে। নির্দিষ্ট দেশ নয় অনেকটা উন্মুক্ত।’

শর্তগুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখ করে পাপন যোগ করেন, ‘শোনেন প্রথমে যে জায়গায় যাবে সেটাতো সিকিউরিটি বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটা জায়গা আছে যেখানে মানুষ যেতে ইতস্তত বোধ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অবশ্য ভালো জায়গা, বেটার আছে। ইভেন ভারতেও যদি হয় তারা নিরাপত্তা ইস্যুটাতো দেখবে। বিডিংটা যখন করবে তখন নিরাপত্তা ইস্যুটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এজন্যই তারা এসেছে, আরও অন্যান্য জায়গায় যাচ্ছে।’

নতুন এই পদ্ধতিতে টেস্ট খেলুড়ে দেশ নয় এমন সদস্যদেরও সুযোগ থাকছে বিড করার। কিন্তু কাঠামোগত দিক ও ইভেন্ট আয়োজন বিবেচনায় সুযোগ সুবিধা প্রদান করার দিক থেকে নতুনদের খুব একটা সহজ হবেনা বলে মত নাজমুল হাসান পাপনের। নিজেদের এগিয়ে রাখতে গিয়ে বিসিবি বস বলেন, ‘বাংলাদেশতো অবশ্যই বিড করবে। আমাদের সুবিধা হচ্ছে একটা যে  অন্য কেউ যদি নতুন করে চায় তারা পারবে কিন্তু  তাদের অবশ্যই কাঠামোগত অনেক কাজ করতে হবে, প্রচুর টাকা লাগবে।’

‘ তারা ছেলেদের একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে গেলে অন্তত ৮ টা স্টেডিয়াম লাগবে। অনেক দেশ আছে যাদের ৮ টা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নাই।  আমরা বা অন্য আরও টেস্ট প্লেয়িং দেশ যারা আছি তাদের সুবিধা হল আয়োজন করতে গেলে সরকারের তরফ থেকে আলাদা কোন বিনিয়োগ লাগছেনা। সেজন্য একটু এগিয়ে আছি আরকি।’

আগের নিয়মে প্রভাবশালী ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও  ইংল্যান্ডই বড় আসর আয়োজনে বেশি সুবিধা পেত। নিলাম পদ্ধতি আসায় টেস্ট খেলুড়ে অন্য দেশগুলোরও যে সুযোগ বাড়ছে তা স্পষ্ট। আইসিসির ইভেন্ট বন্টনের এমন পদ্ধতিতে লাভবান হবে দুই পক্ষই বলছেন নাজমুল হাসান পাপন, ‘এটাতে আইসিসির না সব মেম্বার দেশগুলোরই আয় বাড়বে। আমি যেটা বুঝি আরকি। ইংল্যান্ডে যে বিশ্বকাপটা হল ওখানে তারা প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিসিবির বিশেষ ভাড়া করা বিমানে পাকিস্তান যাবে দল

Read Next

শোয়েব আখতারকে ছাপিয়ে দ্রুততম ‘নতুন মালিঙ্গা’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
9
Share