বঙ্গবন্ধু বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী রয়্যালস

রাজশাহী রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন বঙ্গবন্ধু বিপিএল
Vinkmag ad

রাজশাহী রয়্যালস বনাম খুলনা টাইগার্সের মধ্যকার বিপিএল ফাইনাল দেখতে আজ (১৭ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ২৫ হাজার ধারণ ক্ষমতার গ্যালারি পূর্ণ হয়েছে ম্যাচ শুরুর আগেই। সন্ধ্যা ৭ টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হওয়া গ্যালারির বাইরেও টিকিট না পেয়ে হতাশ দর্শকের সংখ্যা প্রায় একই রকম। টুর্নামেন্টের সেরা দুই দল উঠেছে ফাইনালে, রোমাঞ্চে ঠাঁসা ম্যাচের প্রত্যাশাই করেছিল দর্শকরা।

রাজশাহী ইনিংসের শুরুটা অবশ্য দর্শক বিনোদন জুগাতে পেরেছে সামান্যই। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া রাজশাহী ইরাফান শুক্কুর, মোহাম্মদ নওয়াজ, আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটে চড়ে পায় ১৭০ রানের পুঁজি। খুলনার ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে শিরোপা জয়ের জন্য এই রানকেই যথেষ্ট বানিয়ে দেন রাজশাহীর বোলাররা। ২১ রানে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল পদ্মাপাড়ের দলটি, এর আগে ২০১৬ সালে রাজশাহী কিংস নামে খেলা দলটি ফাইনাল হেরেছিল ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রাজশাহীর মত টুর্নামেন্টে খুলনা টাইগার্সের সফল উদ্বোধনী জুটিও ব্যর্থ ফাইনালের মঞ্চে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই খালি হাতে ফেরেন শেষ দুই ম্যাচে খুলনার সেরা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। ২ রানের বেশি করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। ১১ রানে ২ উইকেট হারানো খুলনাকে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব নেন রাইলি রুশো ও শামসুর রহমান শুভ। দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৭৪ রান। তবে ব্যক্তিগত ১৮ রানে রুশোর সহজ ক্যাচ আবু জায়েদ রাহির হাত না ফসকালে বিপর্যয়েই পড়তে হত খুলনাকে। ২৬ বলে ৩৭ রান করে রুশো ফিরলেই ভাঙে জুটি। ৮৫ রানে তিন উইকেট হারানো খুলনার শামসুর রহমান ফিফটিতে পৌঁছান ৩৮ বলে।

ফিফটির পর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শামসুর, ফিরেছেন ৪৩ বলে ৫২ রান করে। কামরুল ইসলাম রাব্বির ওই ওভারে ফিরে যান নতুন ব্যাটসম্যান নাজিবউল্লাহ জাদরানও (৪)। ১০৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে খুলনা টাইগার্স, শেষ ৫ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ৬০ রান। রাজশাহী বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এই সমীকরণ খুলনা আর মেলাতে পারলো কই? জয়ের পথে একমাত্র ভরসা মুশফিক ফিরেছেন ২১ রান করে। ১৫ বল খেলে ফ্রাইলিঙ্ক করতে পারেন ১২ রান। মোহাম্মদ ইরফানের করা ১৯তম ওভারতো হয় উইকেট মেইডেনও।

শেষ পর্যন্ত খুলনা থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানে। রাজশাহীর হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান, আন্দ্রে রাসেল ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। একটি করে শিকার আবু জায়দে রাহি ও মোহাম্মদ নওয়াজের।

এর আগে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সেরা জুটির তকমা পাওয়া লিটন-আফিফ জুটি প্লে-অফের দুই ম্যাচের মত ব্যর্থ  হয় ফাইনালেও। ২.৩ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে রান আসে মাত্র ১৪। ১০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হয়ে ফেরেন আফিফ। ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে ৪৯ রানের জুটি গড়লেও ঠিক নিজের ছন্দে ছিলেন না লিটন দাসও, করতে পারেননি ২৫ রানের বেশি। লিটন-আফিফের বিবর্ণ দিনে জ্বলে ওঠেন অবশ্য বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর। তৃতীয় উইকেট জুটিতে শোয়েব মালিককে নিয়ে যোগ করেন ৩১ রান। ৯ রান করে মালিক ফিরে গেলে ভাঙে জুটি।

তবে রানের গতি সচল রাখার কাজটা ঠিক রাখার চেষ্টা করেন শুক্কুর, ৩০ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় দলীয় রান ১০০ হওয়ার আগেই ফিফটিতে পৌঁছান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু মোহাম্মদ আমিরের দ্বিতীয় শিকার হয়ে শুক্কুরও ফিরে গেলে ৯৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় রাজশাহী রয়্যালস। শুক্কুর থামেন ৩৫ বলে ৫২ রানে। ব্যাটিং বিপর্যয়ে রাজশাহীর ভরসা হয়ে আবারও দাঁড়িয়ে যান আন্দ্রে রাসেল। যদিও নাজমুল শান্ত ক্যাচ মিস না করলে থামতে হত ব্যক্তিগত ৭ রানেই। মোহাম্মদ নওয়াজ- আন্দ্রে রাসেলের শেষদিকের ঝড়ে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় রাজশাহী।

ফ্রাইলিঙ্কের করা ১৮তম ওভার থেকেই নওয়াজ তুলে নেন ২১ রান। ১৯তম ওভার থেকে আসে ১৮ রান। দুজনের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে রান আসে ৭১, রাজশাহী থামে ৪ উইকেটে ১৭০ রান তুলে। প্রথম ১৫ ওভারে ১০০ রান তোলা রাজশাহী শেষ ৫ ওভারে তোলে ৭০ রান, শেষ তিন ওভারে ৫৪। আন্দ্রে রাসেল অপরাজিত ছিলেন ১৬ বলে ৩ ছক্কায় ২৭ রানে এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ২০ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৪১ রানে। খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট আমিরের, একটি করে শিকার ফ্রাইলিঙ্ক ও শহিদুলের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রাজশাহী রয়্যালস ১৭০/৪ (২০), লিটন ২৫, আফিফ ১০, শুক্কুর ৫২, মালিক ৯, রাসেল ২৭*, নওয়াজ ৪১*; আমির ৪-০-৩৫-২, ফ্রাইলিঙ্ক ৪-০-৩৩-১, শহিদুল ৪-০-২৩-১।

খুলনা টাইগার্স ১৪৯/৮ (২০), শান্ত ০, মিরাজ ২, শুভ ৫২, রুশো ৩৭, মুশফিক ২১, নাজিবউল্লাহ ৪, ফ্রাইলিঙ্ক ১২, শহিদুল ০, শফিউল ৭*, আমির ১*; রাহি ২-০-২৪-১, নওয়াজ ৪-০-২৯-১, রাব্বি ৪-০-২৯-২, ইরফান ৪-১-১৮-২, রাসেল ৪-০-৩২-২।

ফলাফলঃ রাজশাহী রয়্যালস ২১ রানে জয়ী।

ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট সেরাঃ আন্দ্রে রাসেল (রাজশাহী রয়্যালস)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

পাকিস্তানে যাচ্ছেন না কোচিং স্টাফের অনেকেই

Read Next

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে শীর্ষ ‘১০’ রান সংগ্রাহক

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
32
Share