রাসেল ঝড়ে ফাইনালে রাজশাহী রয়্যালস

রাজশাহী রয়্যালস
Vinkmag ad

টুর্নামেন্টের শুরুর দাপট শেষদিকে আর টেনে আনতে পারছিলনা রাজশাহী রয়্যালস। ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইলের ঝড়ো ফিফটির পরও চট্টগ্রামকে ১৬৪ রানে আঁটকে রেখে নিজেদের টপ অর্ডার আরেক দফায় ব্যর্থ। কঠিন হয়ে পড়া ম্যাচ আন্দ্রে রাসেল ঝড়ে ৪ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখে জিতে নেয় পদ্মাপাড়ের দল রাজশাহী রয়্যালস।

আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা মোকাবেলা করবে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্সের।

আফিফ-লিটনের উদ্বোধনী জুটি ব্যর্থ মানে রাজশাহী রয়্যালস ব্যর্থ হওয়া। অনেকটা এই রীতি মেনেই দলীয় ১৪ রানে দুজনের বিদায়ের পর খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি রাজশাহী রয়্যালস। লিটন (৬) ও আফিফের (২) বিদায়ের পর ৯ রানের বেশি করতে পারেননি অলক কপালিও। স্রোতের বিপরীতে যা একটু লড়াই করলেন ইরফান শুক্কুর। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা শোয়েব মালিককে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ৪৬ রান।

২২ বলে ১৪ রান করে মালিকও ফিরে যান জিয়াউর রহমানে শিকার হয়ে। ৩ রানের ব্যবধানে ইরফান শুক্কুর মেহেদী হাসান রানার বলে চ্যাডউইক ওয়ালটনকে ক্যাচ দিলে ৮৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে পদ্মাপাড়ের দল রাজশাহী। ৪২ বলে ৬ চারে ৪৫ রান করেন শুক্কুর। এরপরও রাজশাহীকে জয়ের স্বপ্ন দেখান আন্দ্রে রাসেল ও মোহাম্মদ নওয়াজ। ৫ বলে ১৪ রান করে নওয়াজ ইমরুল কায়েসের অনবদ্য এক ক্যাচে পরিণত হলে জয়টা যেন কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু চট্টগ্রামের গলার কাটা হয়ে ঝুলে থাকেন আন্দ্রে রাসেল।

অন্য প্রান্তে ফরহাদ রেজা, কামরুল ইসলামদের যাওয়া আসার মিছিলেও ব্যাট হাতে ঝড় তুলছিলেন। শেষ ১২ বলে ৩১ রান প্রয়োজন এমন সমীকরণে মেহেদী হাসান রানার করা ১৯তম ওভারেই তুলে নেন ২৩ রান। শেষ ওভারে মাত্র ৮ রান প্রয়োজন এমন ম্যাচ ৪ বল হাতে রেখেই জিতে নেয় রাজশাহী রয়্যালস। প্রথম ১৫ ওভারে ৮৯ রান করা রাজশাহী রাসেল ঝড়ে শেষ ৪.২ ওভারেই তুলে ৭৬ রান।

২২ বলে ২ চার ৭ ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন রাসেল। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন রুবেল ও এমরিট। একটি করে শিকার মাহমুদউল্লাহ, জিয়াউর ও মেহেদীর।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আগের দুই ম্যাচে রান করেছেন ৬১, স্ট্রাইক রেটও ছিলনা ঠিক গেইলময়। তবে রাজশাহীর বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জ্বলে উঠতে পারেন জেগেছিল শঙ্কা! ইঙ্গিতও দিয়েছেন অনেকটা সেরকম। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ ইরফানের প্রথম ওভার মেইডেন দেন জিয়াউর রহমান। পরের ওভারে গেইল দুই চার এক ছক্কায় নেন ১৬ রান। তৃতীয় ওভারেই জিয়া ৬ রান করে ফিরে গেলেও গেইল ছিলেন ছন্দে।

শোয়েব মালিকের করা চতুর্থ ওভার থেকে নেন ১৮ রান। অন্যপ্রান্তে ইমরুল কায়েসও (৫) দ্রুত ফিরলে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান তোলেন গেইল। অধিনায়ককে নিয়ে ২৫ বলের জুটিতে যোগ করেন ৫২ রান। ততক্ষণে মাত্র ২১ বলে ফিফটি তুলে নেন ব্যাটিং দানব। ২৪ বলে ৬ চার ৫ ছক্কায় ৬০ রান করে আফিফ হোসেনের বলে বোল্ড হলে ভাঙ্গে জুটি।

গেইলের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও, ফিরেছেন ১৮ বলে সমান তিনটি করে চার ছক্কায় ৩৩ রান করে। মোহাম্মদ নওয়াজের করা ওই ওভারে নুরুল হাসান সোহানও ফিরে যান খালি হাতে। চট্টগ্রামের রানের চাকা যেন আঁটকে যেতে থাকে। চ্যাডউইক ওয়ালটনকে (৫ )ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে ৫ উইকেটে ১২৪ রানে পরিণত করেন অলক কপালি। মাত্র ১০ ওভারে ১১১ রান তোলা চট্টগ্রাম পরের ৫ ওভারে তুলতে পারে মাত্র ১৭ রান।

২০০ পার করার সম্ভাবনা জাগানো চট্টগ্রাম শেষদিকে আসেলা গুনারত্নের ব্যাটে চড়ে পার করে ১৫০ রান। মোহাম্মদ ইরফানের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে গুনারত্নে করেন ২৫ বলে ৩১ রান। চট্টগ্রাম পায় ৯ উইকেটে ১৬৪ রানের লড়াইয়ের পুঁজি। রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। একটি করে শিকার আন্দ্রে রাসেল, আফিফ হোসেন ও অলক কপালির।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৬৪/৯ (২০), জিয়া ৬, গেইল ৬০, ইমরুল ৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, ওয়ালটন ৫, সোহান ০, গুনারত্নে ৩১, এমরিট ৩, রুবেল ৮*, নাসুম ০, রানা ০*; ইরফান ৪-১-১৬-২, নওয়াজ ৪-১-১৩-২, আফিফ ১-০-২০-১, কাপালি ৩-০-১৯-১, রাসেল ৪-০-৩৫-১।

রাজশাহী রয়্যালস ১৬৫/৮ (১৯.২), লিটন ৬, আফিফ ২, শুক্কুর ৪৫, কাপালি ৯, মালিক ১৪, রাসেল ৫৪*, নওয়াজ ১৪, রেজা ৬, রাব্বি ০, রাহি ৫*; রানা ৪-০-৪৭-১, রুবেল ৪-০-৩২-২, এমরিট ৪-০-৪১-২, মাহমুদউল্লাহ ১-০-১০-১, জিয়া ৪-০-১৬-১।

ফলাফলঃ রাজশাহী রয়্যালস ৪ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ আন্দ্রে রাসেল (রাজশাহী রয়্যালস)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের কাছে ব্যাখ্যা চান রায়ান বার্ল

Read Next

রানবন্যার ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল আয়ারল্যান্ড

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
26
Share