আমিরের রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ফাইনালে খুলনা

খুলনা টাইগার্স
Vinkmag ad

জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত এমন ম্যাচে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হয় রাজশাহী রয়্যালস ও খুলনা টাইগার্স। টস জিতে খুলনাকে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়ে ১৫৮ রানে আঁটকে রেখে মোহাম্মদ আমিরের তোপে রাজশাহী করতে পারেনি ১৩১ রানের বেশি। বৃথা যায় শোয়েব মালিকের ৮০ রানের ইনিংস, ২৭ রানে হেরে ফাইনাল খেলতে রাজশাহীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত।

টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ওপেনিং জুটির ঝলক দেখানো রাজশাহী রয়্যালস দুই ওপেনার লিটন দাস ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। ইনিংসের তৃতীয় বলেই মোহাম্মদ আমির বোল্ড করে ফেরান লিটনকে (২), ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও আমিরের শিকার হয়েও ফিরেন আফিফও (১১)। প্রথম স্পেলে ১ ওভারে ১০ রান খরচায় এক উইকেট তুলে নেওয়া আমির দ্বিতীয় স্পেলে হয়ে উঠেন আতঙ্ক, দুই ওভারে ২ রান খরচায় তুলে নেন তিন উইকেট। তার আগুন ঝরানো বলে খাবি খেয়ে কোন রান না করেই ফেরেন অলক কপালি ও আন্দ্রে রাসেল। মাঝে রবি ফ্রাইলিঙ্ক ফেরান রবি বোপারাকে, করতে পারেননি ১ রানের বেশি।

৩.১ ওভার থেকে ৫.৫ ওভার পর্যন্ত রাজশাহী স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পারে মাত্র ১ রান, হারায় ৪ উইকেট। শোয়েব মালিক একপাশ আগলে রাখলেও উইকেট শিকারে শহিদুল ইসলাম যোগ দিলে ৩৩ রানে ৬ উইকেট হারায় রাজশাহী। শহিদুলের বলে নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন ফরহাদ রেজা। দলের করুণ অবস্থা থেকে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেন শোয়েব মালিক। দুজনে মিলে জুটিতে যোগ করেন ৭৪ রান। ৩৯ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো মালিক ৫০ বলে ১০ চার ৪ ছক্কায় ৮০ রান করে ফেরেন স্বদেশী পেসার আমিরের বলে।

নিজের তৃতীয় স্পেলে চতুর্থ ওভার করতে এসে মালিককে ফিরিয়ে ম্যাচে পঞ্চম উইকেট শিকার করেন আমির। এরপর তাইজুল ইসলামকে (১২) তুলে নিয়ে প্রথম বোলার হিসেবে বিপিএলে ৬ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন। ২০১২ মৌসুমে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে মোহাম্মদ সামির ৬ রানে ৫ উইকটেকে পেছনে ফেলে ১৭ রানে আমিরের ৬ উইকেটই বিপিএল ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগার। মালিক-তাইজুলের বিদায়ের পর রাজশাহী থামে ৮ উইকেটে ১৩১ রানে। কামরুল ইসলাম রাব্বি অপরাজিত থাকেন ১১ রানে। খুলনার হয়ে আমির ৬ উইকেট ছাড়াও দুটি উইকেট নেন মেহেদী মিরাজ, একটি করে শিকার রবি ফ্রাইলিঙ্ক ও শহিদুল ইসলামের।

এর আগে ব্যাট হাতে খুলনা টাইগার্সের শুরুটা হয়নি ঠিক আগের ম্যাচের মত। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফেরেন ওপেনার মেহেদী হাসান মিরাজ (৮) ও রাইলি রুশো (০)। এরপর ৭৮ রানের জুটিতে নাজমুল হোসেন শান্ত ও শামসুর রহমান কাটান দলের বিপর্যয়। ৩১ বলে ৩২ রান করে শামসুর রহমান ফিরে গেলেও দলের পক্ষ সর্বোচ্চ ৭৮ রানে অপরাজিত থাকেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্ত। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪২ রান, ততক্ষণে ফিফটির দেখা পেয়ে যান শান্ত।

৩৬ বলে ফিফটি ৫ চার ২ ছক্কায় ফিফটিতে পৌঁছান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। মোহাম্মদ ইরফানের করা ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মুশফিক রিটায়ার্ড হার্ট হন ১৬ বলে ২১ রান তুলে। এরপর নাজিবউল্লাহ জাদরানকে নিয়ে ১০ বলে শান্ত যোগ করেন ২৩ রান। ৫ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন জাদরান, শান্ত অপরাজিত থাকেন ৫৭ বলে ৭৮ রানে। খুলনা থামে ৩ উইকেটে ১৫৮ রানে। রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান, একটি শিকার রবি বোপারার।

 

View this post on Instagram

 

Another good knock from Nazmul Hossain Shanto. #BPLT20 #BBPLT20 #BangabandhuBPL #BBPL #bplseason7 #KTvRR #RRvKT

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

খুলনা টাইগার্স ১৫৮/৩ (২০), শান্ত ৭৮*, মিরাজ ৮, রুশো ০, শুভ ৩২, মুশফিক ২১ (রিটায়ার্ড হার্ট), নাজিবউল্লাহ ১২*; ইরফান ৪-১-১৩-২।

রাজশাহী রয়্যালস ১৩১/১০ (২০), লিটন ২, আফিফ ১১, মালিক ৮০, কাপালি ০, বোপারা ১, রাসেল ০, রেজা ৩, তাইজুল ১২, রাব্বি ১১*, রাহি ৭, ইরফান ০; আমির ৪-০-১৭-৬, ফ্রাইলিঙ্ক ৪-১-২৯-১, শহিদুল ৪-০-১৫-১, মিরাজ ১-০-৬-২।

ফলাফলঃ খুলনা টাইগার্স ২৭ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ মোহাম্মদ আমির (খুলনা টাইগার্স)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ টাই’য়ে সমাপ্তি

Read Next

ব্রাভোর নতুন শুরুঃ ‘আই ফিল লাইক অ্যা কিড এগেইন’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
13
Share