অবসর ইস্যুতে বিস্তারিত কথা বললেন মাশরাফি

মাশরাফি বিন মর্তুজা
Vinkmag ad

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসর নিয়ে সবশেষ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পরই উঠে বেশ জোর গুঞ্জন। বিশ্বকাপের পরই অবসরে চলে যাবেন মাশরাফি কিন্তু মাশরাফি নিজে এমন কোন ঘোষণা না দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরেও অধিনায়ক হিসেবে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সেরে নেন। শেষ মুহূর্তে চোটে পড়ে লঙ্কা সফর বাদ হলেও অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ না থাকায় অনেকটা ক্রিকেটের আড়ালেই ছিলেন দেশসেরা এই পেসার।

মাঝে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগেই কথা ছড়িয়েছিল মাশরাফিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ থেকে বিদায় দিতে জিম্বাবুয়ের সাথে ওয়ানডে সিরিজিও আয়োজনের ব্যবস্থা করছে বিসিবি। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জন হয়ে রইলো অমন কথা। একমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটে দেশের হয়ে খেলা মাশরাফি পাচ্ছিলেন না দেশের জার্সিতে নামার সুযোগ। বিশ্বকাপের পর এখনো পর্যন্ত ছিলনা কোন ওয়ানডে। নিকট ভবিষ্যতেও সূচীতে নেই ওয়ানডে সিরিজ। তবে আগামী মাসে জিম্বাবুয়ে আসছে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আর সেখানেই ওয়ানডে সংযোজনের সম্ভাবনা আছে এমন খবরেই আবার আলোচনায় মাশরাফি।

তবে কি মাশরাফির বিদায় বলে দেওয়ার পথটা আরও এগিয়ে আনতে চায় বিসিবি? এমন প্রশ্ন ওঠে জোরেশোরে। কিন্তু বিসিবি চাইলেইতো হবেনা, অবসর প্রসঙ্গে মাশরাফির ভাবনা কি? রংপুর রেঞ্জার্সের বিপক্ষে আজ (১০ জানুয়ারী) হারের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন ঢাকা প্লাটুন দলপতি।

সেখানেই সাংবাদিকের করা অবসর ভাবনার প্রশ্নে মাশরাফির জবাব, ‘অবসরের কথা যেটা বললেন আমার জায়গা থেকে- আপনি বলতে পারেন আমাকে রিটায়ার সবাই করিয়ে দিয়েছে। আমি নিজেও হয়তোবা ঐ জায়গায় অবস্থান করছি। আমি জাস্ট যেটা খেলছি, সেটাকেই এনজয় করছি। মাঠ থেকে রিটায়ার করবো কি করবো না সেটা এখনো সিদ্ধান্ত নিই নি। যদি ওরকম কিছু মনে হয়, ক্রিকেট বোর্ড যদি মনে করে তাহলে চিন্তাভাবনা করবো।’

‘আমি যখন খেলা শুরু করেছিলাম, আমি আবার সেই জায়গাতে ফিরে গিয়েছি। আমি এখন বিপিএল খেলছি। সামনে ঢাকা লিগ এনজয় করবো, খেলবো। সবসময় জাতীয় দলে খেলতে হবে, জাতীয় দলে খেললেই আপনি প্লেয়ার সেরকম তো না। এখন হয়তো ঐ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।’

তাঁকে ঘটা করে অবসর নিতে হবে, মাঠ থেকে রঙিন আয়োজন করতে হবে এমন ভাবনা নেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়কের।

‘নট নেসেসারি নিজেকে আমার এতো প্রায়োরিটি দেবার দরকার আছে। আমি নিজেকে কখনো এতো প্রায়োরিটি দিইও না। যে আমাকে মাঠ থেকে বিদায় দিবেন সবাই, ফুলের তোড়া নিয়ে আসবে; নট নেসেসারি। আমি যেরকম আছি ভালো আছি, খুশি আছি। আমি এনজয় করছি খেলা, খেলছি। জাতীয় দল অনেক দূরের ব্যাপার।’

বল হাতে বিশ্বকাপের সময়টা ভালো যায়নি মাশরাফির, ৮ ম্যাচে উইকেট মাত্র একটি। ইকোনোমি রেটও খুব একটা কথা বলবেনা দেশসেরা এই পেসারের হয়ে। আর এমন বাজে পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক হয়েও দলে নিজের জায়গা নিয়ে শঙ্কিত মাশরাফি।

 

View this post on Instagram

 

আপনার কি মত? 🤔

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

‘সত্যি বলতে বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১ উইকেট পাবার পর আমার মতে আমি দলে সুযোগ পাবো না। এটা তো আসলে নির্বাচকদের ব্যাপার। নির্বাচকরা যদি মনে করে আমাকে সুযোগ দিবে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো। এই মুহূর্তে ৮ ম্যাচে ১ উইকেট পেয়ে আমি কিভাবে আপনাদের সামনে বলি যে আমি জাতীয় দলে সুযোগ পাবো? আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে তো আরো আগে বাদ পড়তো।’

নির্বাচকরা তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজেই দিতে পারতো। বলটা যে এখনো তাঁর নিজের কোর্টেই আছে মনে করিয়ে দিতে মাশরাফির উত্তর, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজে ছিলাম, সেখানে হয়তো আমার ব্যাক করার একটা সুযোগ ছিল। শ্রীলঙ্কা সিরিজে সাকিবও ছিলো না। সবকিছু মিলে একটা সুযোগ আমার এসেছিল। এরপর তো দেখেন আর কোন খেলার ভিতরে আমি নেই। জানি না সিলেক্টরদের কি চিন্তা ভাবনা আছে, আমার সাথে আলোচনা হয়নি। এরপর তো আরো প্লেয়ারদের সাথে কথা হয়েছে, আমার সাথে কোন কথা হয়নি।’

‘তো এক পক্ষ থেকে আমি কিভাবে বলবো? খেলোয়াড় হিসাবে যতটুকু চিন্তা করার কথা আমি অতটুকুই করছি। খেলছি, এনজয় করছি। যদি ওয়ানডে আসে, তারা মনে করে আমাকে সুযোগ দেবে তাহলে খেলবো। কারণ দিন শেষে ক্রিকেটটাই আমার কাছে সব। আমি সব সময় বলে এসেছি যেখানে যাই, যা ই করি; ক্রিকেটটাই আমার কাছে সব। তো ক্রিকেটটা আমি মন দিয়ে খেলি। আর যতদিন খেলবো, জাতীয় দল বা অন্য কোথাও মন দিয়েই খেলবো। বাদবাকি ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে কি হবে সেটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। আমাকে যদি বলে তখন আমি বলবো।’

মাশরাফির কথায় স্পষ্ট বোর্ড থেকে খুব একটা আগ্রহ নেই তাঁকে নিয়ে, কিন্তু এরপরও প্রশ্ন থাকে পরবর্তী সিরিজেই যদি নির্বাচকরা বিবেচনায় রাখে তাহলে তিনি নিজে কি ভাবছেন? এমন প্রশ্নে মাশরাফি জানান, ‘আমি এখন কি করছি? যখন জিম্বাবুয়ে সিরিজে আমাকে বলা হয়েছিল আমি বলছি খেলবো। আমার সাইড থেকে আমি বলতে পারি আমি খেলতে চাই। সেটা জাতীয় দল হতে হবে এমন কিছু নয়, আমার জায়গায় যারা খেলছে তারাও ভালো করছে।’

‘এটা জরুরী না জাতীয় দলে খেলতেই হবে। এখন বোর্ড যদি মনে করে আমাকে খেলাইতে চায় আমি বলবো অবশ্যই খেলবো, অবশ্যই। আর বাকীটা যেটা বললেন আমি খেলছিতো খেলার জন্যই, এমনতো না যে আমি ফাজলামো করছি। খেলার জন্যই খেলছি। যেটা হল পারফরম্যান্স বা অন্য সবকিছু মিশিয়ে বলেন, সবকিছুতো উনারাও ভাববে যারা দায়িত্বে আছেন।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

সুযোগ থাকলে পাকিস্তান সফরে যেতেন মাশরাফি

Read Next

মুস্তাফিজ ইস্যুতে মাশরাফির কড়া জবাব

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
10
Share