সিলেটে সিলেটকে উড়িয়ে দিয়ে শীর্ষে রাজশাহী

রাজশাহী রয়্যালস অলক কাপালি শোয়েব মালিক লিটন দাস ইরফান শুক্কুর
Vinkmag ad

চলতি বিপিএলের অপয়া সিলেট থান্ডার ঘরের মাঠ থেকেও ফিরেছে খালি হাতে। টুর্নামেন্টে নিয়ম হয়ে যাওয়া টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া তত্ব থেকেও বের হয়ে চেষ্টা করেছে মোসাদ্দেকের অনুপুস্থিতিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া আন্দ্রে ফ্লেচার।

লাভের লাভ কিছুই হয়নি, আগে ব্যাট করে ১৪৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি স্কোরবোর্ডে। জবাবে লিটন-আফিফের দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটির পর শোয়েব মালিকে চড়ে ৬ উইকেটের সহজ জয় পায় রাজশাহী রয়্যালস। এই জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করলো পদ্মাপাড়ের দলটি। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে টপকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন রাজশাহী রয়্যালস।

সিলেটের উইকেট বিবেচনায় ১৪৩ রানের পুঁজিকেও একদম সহজ লক্ষ্য বলার উপায় ছিলনা। কিন্তু টুর্নামেন্টে আরও একবার দুর্দান্ত ওপেনিং জুটিতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৫৯ রান তুলে লক্ষ্যটাকে মামুলি করে দেন আফিফ হোসেন ও লিটন দাস। ২০ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৩৬ রান করে লিটন দাস রাদারফোর্ডের বলে ফিরলে ভাঙে দুজনের ৩৪ বলে ৫৯ রানের জুটি। লিটন ফিরে গেলেও নান্দনিক সব শটে দর্শক বিনোদনের খোরাক হন আফিফ হোসেন।

৭ম ওভারের শেষে বলে এবাদত হোসেনকে কাভার ড্রাইভে মারা চারকে ধারাভাষ্যকারতো বলেই দেন শট অফ দ্যা ডে। ১১ তম ওভারের প্রথম বলে সঙ্গী শোয়েব মালিকের সাথে ভুল বোঝবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়ার আগে করেন ৩০ বলে ৮ চারে ৪৬ রান।

লিটন-আফিফের গড়ে দেওয়া ভিতকে কাজে লাগিয়ে জয় পেতে খুব সমস্যা হয়নি রাজশাহীর। দলকে জয় থেকে সামান্য দূরে রেখে ইরফান শুক্কুর (১০) ও শোয়েব মালিক (২৭) ফিরে গেলেও ২৯ বল হাতে রেখেই বোপারা (১*) ও নওয়াজ (১৭*) দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। সিলেটের হয়ে দুটি উইকেট নেন দেলোয়ার হোসেন, একটি শিকার শেরফানে রাদারফোর্ডের।

টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের হারানোর কিছু নেই এমন ম্যাচে আগে ব্যাট করে সিলেট থান্ডার। ঘরের মাঠে প্রথম দুই ম্যাচে হতাশা উপহার দেওয়া দলটি শেষ ম্যাচেও সিলেট ব্যাটসম্যানরা হয়েছে ব্যর্থ। যদিও সিলেটের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ছিলনা খুব একটা সহজ, নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে সিলেটের সংগ্রহ ১৪৩ রান। শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় থান্ডার। দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও আব্দুল মজিদের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ২৫ ও ১৬ রান।

ফ্লেচারের ২৫ রান আসে ৩৩ বল থেকে। দুজনের বিদায়ের পর দ্রুত ফেরেন জনসন চার্লসও (৮)। এরপর রাদারফোর্ডকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটিতে কিছুটা লড়াই চালান উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। ৩৮ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৪৭ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন মিঠুন। রাদারফোর্ড ফেরেন ২৫ রান করে। বলার মত স্কোর পায়নি আর কোন ব্যাটসম্যান।

রাজশাহীর হয়ে দুটি উইকেট নেন অলক কপালি, একটি করে শিকার আবু জায়েদ রাহি ও মোহাম্মদ ইরফানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

সিলেট থান্ডার ১৪৩/৬ (২০), ফ্লেচার ২৫, মজিদ ১৬, চার্লস ৮, মিঠুন ৪৭, রাদারফোর্ড ২৫, গাজী ০, মিলন ১৩*, দেলোয়ার ২*; রাহি ৪-০-২৯-১, ইরফান ৪-০-১৮-১, কাপালি ১-০-১৪-২।

রাজশাহী রয়্যালস ১৪৫/৪ (১৫.১), লিটন ৩৬, আফিফ ৪৬, মালিক ২৭, শুক্কুর ১০, বোপারা ১*, নওয়াজ ১৭*; রাদারফোর্ড ৪-০-৩১-১, দেলোয়ার ২.১-০-১১-২।

ফলাফলঃ রাজশাহী রয়্যালস ২৯ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ আফিফ হোসেন ধ্রুব (রাজশাহী রয়্যালস)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

উইকেট নিয়ে রুশোর মূল্যায়ন

Read Next

শুবমান গিলের মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
12
Share