আমলার বিপিএল অভিষেকের দিনে খুলনার বড় পরাজয়

হাশিম আমলা খুলনা টাইগার্স চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স
Vinkmag ad

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট যে ঢাকা-চট্টগ্রামের তুলনায় বেশ কঠিন তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল প্রথম দুইদিনেই। দলগুলোর প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা ক্রিকেটাররাও জানিয়েছেন ব্যাট করা খুব সহজ নয় এমন উইকেটে। আজ (৪ জানুয়ারি) সিলেট পর্বের শেষদিনের প্রথম ম্যাচে খুলনা টাইগার্স বনাম চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ম্যাচে দেখা গেল তার চূড়ান্ত রূপ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মেহেদী হাসান রানা, রুবেল হোসেনদের তোপে ১২১ রানের বেশি করতে পারেনি খুলনা টাইগার্স। জবাবে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিলেও চট্টগ্রাম ব্যাটসম্যানদেরও বেশ ভুগতে হয়েছে প্রতিপক্ষ বোলারদের সামনে।

দুই বন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান রানা যেন প্রতিযোগিতা করছেন নিজেদের মধ্যে। একটা জায়গায় দুজনেরই রয়েছে মিল, দুজনেই বাঁহাতি পেসার। সমান ১৪ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন মুস্তাফিজ-মেহেদী। আগেরদিন সিলেটের বিপক্ষে ২ উইকেট তুলে বন্ধু মেহেদীকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন মুস্তাফিজ, আজ খুলনার টপ অর্ডারে ধস নামানো তিন উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজকে ছাড়িয়ে গেলেন মেহেদী হাসান রানা। অন্যপাশে আগুন ঝরানো রুবেল হোসেনও নিয়েছেন তিন উইকেট।

খুলনার দুই ওপেনারকেই দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান রানা। টুর্নামেন্টে প্রথম মাঠে নামা দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা হাশিম আমলা ফিরেছেন ৮ রান করে, মিরাজ করেছেন ৪ রান। এরপর রাইলি রুশো যা একটু চেষ্টা করেছেন ৪০ বলে সমান ২ চার-ছক্কায় করেছেন ৪৮ রান।

আগের ম্যাচে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। এরপর রবি ফ্রাইলিঙ্কের ২৩ বলে ১৭ রান ছাড়া বলার মত কোন স্কোর পায়নি খুলনার কোন ব্যাটসম্যান। অল আউট হোওয়ার আগে থেমেছে ১২১ রানে।

চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন, মেহেদী রানা, দুটি শিকার কেসরিক উইলিয়ামসের একটি নেন জিয়াউর রহমান।

জবাবে ১০.১ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতেই চট্টগ্রামের দুই ওপেনার লেন্ডল সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিকী তুলে ফেলেন ৬৯ রান। তবে স্কোরবোর্ড দেখে বোঝা দায় দুজনকে কতটা ভুগিয়েছে আমির ইয়ামিন, শফিউল ইসলামরা। যদিও দুজনেই ফিরেছেন স্পিনে, আউটও হয়েছেন ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। ২৮ বলে ৩৬ রান করে আলিস আল হাসানের ফিরতি ক্যাচে লেন্ডল সিমন্স ফিরলে ভাঙে জুটি। ১৪ রানের ব্যবধানে মেহেদী মিরাজের শিকার ৩৮ রান করা জুনায়েদ সিদ্দিকী।

আসেলা গুনারত্নে (০) ও চ্যাডউইক ওয়ালটনকে (৭) দ্রুত ফেরান ফ্রাইলিঙ্ক। একপাশ আগলে রেখে দলের জয়কে কঠিন হতে দেননি ইমরুল কায়েস। নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে অনায়েসেই পাড়ি দেন বাকি পথ। শেষ পর্যন্ত ১১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। ইমরুল অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে। এই জয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করলো ইমরুল কায়েসের দল। ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আবারও উঠে এসেছেন টেবিলের শীর্ষে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

খুলনা টাইগার্স ১২১/১০ (১৯.৫), মিরাজ ৪, আমলা ৮, রুশো ৪৮, শুভ ০, মুশফিক ২৯, ফ্রাইলিঙ্ক ১৭, আমির ইয়ামিন ০, বাবু ১, শফিউল ৩*, তানভির ৩, আলিস ১; রুবেল ৩.৫-০-১৭-৩, রানা ৪-০-২৯-৩, উইলিয়ামস ৪-০-২১-২, জিয়া ৩-০-২২-১।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১২৪/৪ (১৮.১), সিমন্স ৩৬, জুনায়েদ ৩৮, ইমরুল ৩০*, গুনারত্নে ০, ওয়ালটন ৭, নুরুল ৬*; ফ্রাইলিঙ্ক ৪-০-২০-২, আলিস ৪-০-২৭-১, মিরাজ ১-০-১০-১।

ফলাফলঃ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ী।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ফুটবল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো ইংল্যান্ড

Read Next

‘মুস্তাফিজ টপকে গেল কিনা মাথায় আনি না’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
8
Share