সুপার ওভার থ্রিলারে সিলেটকে হারালো কুমিল্লা

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স
Vinkmag ad

চলতি বিপিএলের অপয়া দলের তকমাটা আর সরাতে পারলোনা সিলেট থান্ডার। ৮ ম্যাচে মাত্র এক জয় নিয়ে নিজেদের হোমগ্রাউন্ডেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি দলটি। রোমাঞ্চ জাগানো সুপার ওভারের ম্যাচে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল সিলেট থান্ডার।

উইকেট কঠিন তবে ১৪০ রান তাড়া করতে একটু নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং হলেই হত। স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করে সেটা আর পারলো কই সিলেট থান্ডার? কোন রান তোলার আগেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ফেরেন জনসন চার্লস, সানজামুল ইসলামকে দেন ফিরতি ক্যাচ। দলীয় ৫ রানে ফিরে যান আরেক ওপেনার রনি তালুকদারও। ১৮ বলে ১৩ রান করে মোহাম্মদ মিঠুন ও ১৬ বলে ১৫ রান করে রাদারফোর্ডও ফিরে গেলে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার কথা সিলেট থান্ডারের।

৩৩ রানে ৫ উইকেট হারানো সিলেটকে একা হাতেই প্রায় জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন সোহাগ গাজী। নাজমুল হোসেন মিলনকে নিয়ে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫৪ বলে ৭০ রান। জুটিতে মিলনের অবদান ২৩ বলে ১৩ রান। মুজিব উর রহমানের করা ১৭ তম ওভারেই সিলেটের স্বপ্ন আঁটকে যায়। ওই ওভারে মিলন, সোহাগ গাজী ও নাইম হাসানকে তুলে নেন এই আফগান স্পিনার। ২৯ বলে ফিফতিতে পৌঁছানো গাজী ফেরেন ৩১ বলে ৩ চার ৪ ছক্কায় ৫২ রান করে।

শেষদিকে রোমাঞ্চ জাগান নাভিন উল হক ও মনির হোসেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫, আল আমিনের প্রথম দুই বলে চার মেরে ম্যাচের মোড় পরিবর্তন করে দেন নাভিন।

তৃতীয় বলে রান আউটে কাটা পড়ে ৭ বলে ১৫ রান করে নাভিন ফিরলে শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রান। ফিল্ডিং মিসের খেসারত দিয়ে কুমিল্লা দুই বলে দিয়ে বসে ৪ রান। শেষ বলে দুই রান প্রয়োজন এমন সমীকরণে দুই ব্যাটসম্যান এবাদত-মনির নিতে পারে এক রান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। মনিরের ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচায় মুজিব নেন ৪ উইকেট, দুটি শিকার আল আমিনের, একটি করে নেন সানজামুল ও ডেভিড ওয়াইজ।

সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের দুই ব্যাটসম্যান আন্দ্রে ফ্লেচার ও রাদারফোর্ড মুজিব উর রহমানের বলে তুলতে পারে মাত্র ৭ রান। ৬ রান আসে ফ্লেচারের ব্যাট থেকে, ১ রান করেন রাদারফোর্ড। জবাবে সৌম্য সরকারের উইকেট হারিয়ে কুমিল্লা ম্যাচ জিতে নেয় ম্যাচ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এবাদত-রাদারফোর্ডের পেসের সাথে সোহাগ গাজীর স্পিনে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ৪.১ ওভার স্থায়ী ওপেন জুটিতে ৪১ রান আসার পরও বাকিদের ব্যর্থতায় থামতে হয়েছে ৯ উইকেটে ১৪০ রান তুলে। ঢাকা চট্টগ্রামের তুলনায় উইকেট একটু কঠিন ছিল বটে তবে ১৪০ হওয়ার মতও নয়। ওপেনার উপুল থারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ৪৫ রান। সোহাগ গাজীর বলে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়ার আগে ৩১ বলে ৯ চারে ইনিংসটি সাজান লঙ্কান এই ব্যাটসম্যান।

ব্যর্থ হয়েছেন ওপেনার স্টিয়ান ভ্যান জিল (১০) ও তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকারও (৫)। তবে অনেকটা দৃষ্টিকটু ইনিংস খেলেন সাব্বির রহমান রুম্মন। রাদারফোর্ডের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২৫ বলে করতে পারেন মাত্র ১৭ রান। ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন ইয়াসির আলি রাব্বিও (৫)। মাঝে যা একটু চেষ্টা করেন ডেভিড ওয়াইজ ও উইকেট রক্ষক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ওয়াইজের ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ১৫, অঙ্কন অপরাজিত থাকেন ১৪ বলে ১৯ রানে।

সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন গতির ঝড় তোলা এবাদত ও অলরাউন্ডার রাদারফোর্ড। সোহাগ গাজীর শিকার দুটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৪০/৯ (২০), থারাঙ্গা ৪৫, ভ্যান জিল ১০, সৌম্য ৫, সাব্বির ১৭, রাব্বি ৫, ওয়াইজ ১৫, অঙ্কন ১৯*, রনি ৭, সানজামুল ০, মুজিব ৩; এবাদত ৪-০-৩৩-৩, গাজী ৩-০-২৩-২, রাদারফোর্ড ৪-০-১৯-৩।

সিলেট থান্ডার ১৪০/১০ (২০), চার্লস ০, রনি ২, মিঠুন ১৩, রাদারফোর্ড ১৫, ফ্লেচার ১, মিলন ১৩, গাজী ৫২, নাইম ১৫, মনির ১৬, এবাদত ৩*; সানজামুল ৪-০-২৪-১, মুজিব ৪-০-১২-৪, ওয়াইজ ৪-০-৩১-১, আল আমিন ৪-০-৩০-২।

সুপার ওভারে সিলেট থান্ডার ৭/০, ফ্লেচার ৬, রাদারফোর্ড ১; মুজিব ১-০-৭-০।

সুপার ওভারে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ৮/১ (০.৫), ওয়াইজ ৭, সৌম্য ০, থারাঙ্গা ০*; নাভিন ০.৫-০-৭-১।

ফলাফলঃ সুপার ওভারে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ মুজিব উর রহমান (কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

অধিনায়কত্ব উপভোগ করা আকবর চলেন নিজের মতো

Read Next

গিবসের অভিযোগ অস্বীকার করলেন নাইম হাসান

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
11
Share