মুশফিককে প্রশংসায় ভাসালেন আমলা

মুশফিকুর রহিম হাশিম আমলা খুলনা টাইগার্স
Vinkmag ad

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে গিয়েছেন সবশেষ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পরই। তবে বিশ্বজুড়ে খেলে বেড়াচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ গুলোতে, কলপ্যাক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন কাউন্টি দল সারের সাথেও। অবসরের পরও ব্যাট হাতে করছেন শাসন, টেস্ট ক্রিকেটটা আরও কদিন খেলা যেত বলে আফসোস হয় কিনা এমন প্রশ্ন আছে ভক্ত-সমর্থকদের। তবে আমলা সাফ জানিয়েছেন নেই কোন আক্ষেপ, খুলনা টাইগার্সের হয়ে বিপিএল খেলতে আসা আমলা প্রশংসায় ভাসালেন মুশফিককে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সদ্য সাবেক হওয়া তারকা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা প্রথমবার এসেছেন বিপিএল খেলতে। খুলনা টাইগার্সের হয়ে সিলেট পর্ব থেকে মাঠে দেখা যাবে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। দলের অধিনায়ক হিসেবে পাচ্ছেন টেকনিক্যালি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে। চলতি বিপিএলেও ফর্মে আছেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান, নিশ্চয়ই সতীর্থকে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন আমলা?

এমন প্রশ্নে মুশফিককে নিজের দেখা সেরা উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যানদের একজন উল্লেখ করে আমলা বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা (টেকনিক্যালি বেশ ভালো করাটা) স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে। যখন দুজন একসঙ্গে থাকবো কিছু বিষয় অবশ্যই আদান প্রদান হবে। মুশফিক অসাধারণ একজন অধিনায়ক, খেলোয়াড়। আমার দেখা অন্যতম সেরা উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। সে বেশ অভিজ্ঞ ও দুর্দান্ত একজন ক্রিকেটার। যখন আমরা একই দলে খেলছি অবশ্যই নিজেদের মধ্যে যোগ সামঞ্জস্য হবে, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি হবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দেখেছেন বেশ নিবিড়ভাবে। ওয়ানডে অভিষেকটাও বাংলাদেশের বিপক্ষে, তারও (আমলার ওয়ানডে অভিষেকের) আগে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলে ফেলেন সাকিব, মুশফিক, মাশরাফিরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটারদের সাথে সখ্যতা গড়েছে জানতে চাইলে প্রোটিয়া এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘অবশ্যই মুশি, সাকিব। তাদের বিপক্ষে আমি খেলেছি, মর্তুজাও (মাশরাফি বিন মর্তুজা) আছে তার সাথেতো ক্যারিয়ারের পুরো সময় জুড়েই পরিচয়। অনূর্ধ্ব ১৯ খেলেছি, এরপর আন্তর্জাতিকেও সে আমার প্রতিপক্ষ ছিল।’

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আজ (২ জানুয়ারি) অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে খুলনা টাইগার্সের হয়ে মাঠ মাতানোর অপেক্ষায় থাকা এই ব্যাটসম্যান জানান বাংলাদেশে নিজের স্মৃতি নিয়েও। বিশেষ করে হাসির ছলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রায়েম স্মিথ ও নিল ম্যাকেঞ্জির রেকর্ড গড়া ওপেনিং জুটির প্রসঙ্গও তুলে আনেন, ‘হ্যা এখানে আমরা দুটো টেস্ট (২০০৮ সালে) বেশ দাপটের সাথে জিতেছি, মনে থাকবেইতো (হাসি)। আসলে আমি প্রথম আসি ২০০৮ সালে, এখানেই আমার ওয়ানডে অভিষেক হয় সেবছর। ম্যাকেঞ্জি ও স্মিথের সেই রেকর্ড ভাঙা জুটির (৪১৫) কারণে ওই টেস্টের (চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট) কথা ভালোই মনে আছে।’

নিজের সময়ের অন্যতম সেরা টেস্ট ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন আমলা। ১২৪ টেস্টে রান করেছেন ৯ হাজারের বেশি। এখন কি টেস্ট ক্রিকেট মিস করেন কিনা জানতে চাইলে ৩৬ বছর বয়সী এই প্রোটিয়া বলেন, ‘আমি টেস্ট ক্রিকেট মিস করিনা। আসলে পর্যাপ্ত পরিমান টেস্ট আমি খেলেছি বলে মনে করি, আমি সত্যি বলতে বেশ ভালো আছি, উপভোগ করছি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ওই অভিজ্ঞতা এখন ভাগাভাগি করতে চাই, অন্যদের শেখাতে চাই। যদিও এটা আরও পরের অধ্যায়ে দেখা যাবে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি, দর্শকদের উনামদনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে আমলা যোগ করেন, ‘সবসময় বাংলাদেশে আসতে ভালো লাগে আসলে। অনেক বছর হলো আসছি, এখানকার মানুষ, আবহাওয়া সবকিছু অনেক ভালো লাগে। ক্রিকেটের কালচার অনেক ভালো, ক্রেজি দর্শকদের কথা বলতেই হয় । প্রথম দিকে আসতে না পারলেও দ্রুত মানিয়ে নিবো এবং আমার দল খুলনা টাইগার্স এর হয়ে খেলতে মুখিয়ে আছি।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

মেহেদী হাসান রানাকে ধরে ফেললেন মুস্তাফিজ

Read Next

রংপুরকে হারিয়ে শীর্ষে উঠলো রাজশাহী

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
68
Share