দুর্দান্ত তাসকিনে রংপুরের দাপুটে জয়

তাসকিন ওয়াটসন রংপুর
Vinkmag ad

‘তোমার হল শুরু আমার হল সারা’ আজ (৩১ ডিসেম্বর) মিরপুরে রংপুর রেঞ্জার্স বনাম রাজশাহী রয়্যালসের ম্যাচ শেষে ভক্ত-সমর্থকদের এই প্রবাদই মনে পড়ার কথা। টানা দুই হারে টেবিলের উপরের দিকে থাকা রাজশাহীর প্লে-অফ নিশ্চিতে বাড়লো অপেক্ষা, বরং টানা দুই জয়ে তলানির দিকে থাকা রংপুরের স্বপ্নের পরিধি হল আরও বড়। নাইম হাসানের ফিফটির পর তাসকিন আহমেদের ফর্মে ফেরার দিনে রাজশাহীকে ৪৭ রানে হারায় রংপুর রেঞ্জার্স।

১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা বেশ বাজে হয় রাজশাহী রয়্যালসের। টুর্নামেন্টে বেশ জমে যাওয়া আফিফ হোসেন ও লিটন দাসের ৩.১ ওভার স্থায়ী ওপেনিং জুটি ভাঙে মাত্র ১২ রানে। তাসকিন আহমেদের বলে মিড অফে লুইস গ্রেগরির অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হয়ে ফেরার আগে আফিফ করেন ৭ রান। আফিফের বিদায়ের পর অলক কপালিকে নিয়ে ৩৯ রানের জুটি গড়েন লিটন। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে লিটন (১৫) ও শোয়েব মালিককে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান আগের তিন ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকা তাসকিন।

২৮ বলে ৩১ রান করে হাল ধরার চেষ্টা করা কপালিও ফিরে গেলে ৬৪ রানেই ৪ উইকেট হারায় রাজশাহী, ততক্ষণে ইনিংসের শেষ ১০.৫ ওভার। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়া প্রয়োজনীয় রানের নাগাল আর টেনে ধরতে পারেনি আন্দ্রে রাসেলের দল। রবি বোপারা, নাহিদুল ইসলাম, আন্দ্রে রাসেলরা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন। বোপারার ব্যাট থেকে আসে ১৮, নাহিদুল করেন ১৯ রান। ৭ বলে ১৭ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন রাসেলও। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী থামে ৮ উইকেটে ১৩৫ রানে। রংপুরের হয়ে তাসকিন আহমেদ একাই নেন চার উইকেট, গ্রেগরির শিকার দুটি, একটি নেন মোহাম্মদ নবি।

এর আগে ব্যাটি করতে নেমে রংপুরের হয়ে ধারাবিকতার ছাপ রাখেন নাইম শেখ, আগের ম্যাচে ৫০ বলে ৩৮ রানের ধীরগতির ইনিংস খেললেও আজ শুরু করেছেন তেড়েফুঁড়ে। যদিও শেষ দিকে হারিয়েছেন ছন্দ। তার ফিফটিতে ভর করে ১৮১ রানের বড় সংগ্রহ পায় রংপুর রেঞ্জার্স। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে ওয়াটসনকে নিয়ে যোগ করেন ৩৮ রান।

আগের দুই ম্যাচের মত আজও দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে ফিরেছেন রংপুরের নয়া কাপ্তান ওয়াটসন (৭)। তার বিদায়ের পর আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া ক্যামেরুন দেলপোর্তকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটিতে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর কাজ করেন নাইম। আফিফ হোসেনকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ১৭ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরেন দেলপোর্ত। এরপর নাইমও অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, কামরুল ইসলামকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৪৭ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় ৫৫ রান।

মিডল অর্ডারের লুইস গ্রেগরির ১৭ বলে ২৮ ও মোহাম্মদ নবির ১৬ রান দলের বড় সংগ্রহের ভিতকে করে শক্ত। শেষদিকে আল আমিন জুনিয়রের ১০ বলে অপরাজিত ১৫ ও জহরুল ইসলামের ৮ বলে অপরাজিত ১৯ রানে রংপুর রেঞ্জার্স পায় ৬ উইকেটে ১৮২ রানের সংগ্রহ। রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান ও আফিফ হোসেন। একটি করে শিকার কামরুল ইসলাম ও ফরহাদ রেজার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রংপুর রেঞ্জার্স ১৮২/৬(২০ ওভার), নাইম শেখ ৫৫, ওয়াটসন ৭, দেলপোর্ত ৩১, গ্রেগরি ২৮, নবি ১৬, ফজলে ০, আল আমিন ১৫*, জহরুল ১৯*; রাসেল ০.৩-০-১১-০, মালিক ২.৩ -০-৬-০, ইরফান ৪-০-৩৫-২, তাইজুল ২-০-২৩-০, আফিফ ৪-০-৪০-২, নাহিদুল ৩-০-১৭-০, কপালি ১-০-১০-০, রাব্বি ১-০-১৫-১, ফরহাদ রেজা ২-০-২৪-১

রাজশাহী রয়্যালস ১৩৫/৮ (২০ ওভার), লিটন ১৫, আফিফ ৭, কপালি ৩১, মালিক ০, বোপারা ২৮, নাহিদুল ১৯, রাসেল ১৭, ফরহাদ রেজা ০, তাইজুল ১*, কামরুল ২*; সানি ৪-০-৩২-০, মুস্তাফিজ ৪-১-১৬-০, তাসকিন ৪-০-২৯-৪, নবি ৪-০-২৯-১, গ্রেগরি ৪-০-২৮-২।

ফলঃ রংপুর রেঞ্জার্স ৪৭ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ লুইস গ্রেগরি (রংপুর রেঞ্জার্স)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

প্লাংকেটকে আক্রমণের রহস্য জানালেন আবু হায়দার রনি

Read Next

নাসিম শাহকে সরিয়ে নিলো পিসিবি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
14
Share