শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ হাসি কুমিল্লার

আবু হায়দার রনি মুজিব উর রহমান কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স
Vinkmag ad

ঢাকার দ্বিতীয় পর্বের শেষদিনে টেবিলের শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ৩ উইকেটের ব্যবধানে জিতে প্লে-অফ খেলার স্বপ্নটা আরও শক্ত করলো কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে ম্যাচের রঙ। কুমিল্লা ইনিংসের শেষ চার ওভার নখ কামড়ানো উত্তেজনা উপহার দেয় দর্শকদের।

মাঝারি মানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালোই করেছিল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। দুই ওপেনার রবিউল ইসলাম ও স্টিয়ান ভ্যান জিল যোগ করেন ৩০ রান। চতুর্থ ওভারের লিয়াম প্লাংকেটের বলে নাসুম আহমেদকে ক্যাচ দিয়ে ভ্যান জিল ফিরলে বিচ্ছেদ হয় জুটির। ১২ বলে ৪ চারে ২২ রান করেন ভ্যান জিল। এরপ অধিনায়ক ডেভিড মালান ও রবিউল যোগ করেন আরও ৩১ রান। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেহেদী হাসানের বলে অদ্ভুতভাবে বোল্ড হয়ে ফেরেন রবিউল, আউট হওয়ার আগে খেলেন ১৯ বলে ১৭ রানের ধীরগতির ইনিংস।

ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌম্য সরকারও (৬)। ১০ ওভারে ৭০ রান তুলতে ৩ উইকেট হারানো কুমিল্লাকে টেনে নেন মালান-সাব্বির। যদিও মালানের ঝড়ের কাছে নিষ্প্রভ ছিলেন সাব্বির, দুজনের ৬৪ রানের জুটিতে সাব্বিরের অবদান মাত্র ১৮ রান। রায়ান বার্লের বলে লং অনে প্লাংকেটের হাতে ধরা পড়লে ভাঙে জুটি। ততক্ষণে রিতীমত ঝড় তোলেন মালান, দল পৌঁছে যায় প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে।

প্রথম ১০ ওভারে ৭০ রান তোলা কুমিল্লা মালানের তান্ডবে পরের ৬ ওভারে তোলে ৬৪ রান। জিয়াউর রহমানের করা ১৪তম ওভার থেকে নেন ২০ রান, প্লাংকেটের করা ১৫ তম ওভার থেকে ১৭ রান। ৩৯ বলে ফিফটিতে পৌঁছান মালান, ১৬ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৩৪। হাতে ৭ উইকেট নিয়ে কুমিল্লার প্রয়োজন ২৪ বলে মাত্র ২৬ রান। এমন ম্যাচই কঠিন হয়ে পড়ে কুমিল্লার জন্য, রায়ান বার্লের করা ১৭ তম ওভারে সাব্বিরের উইকেট হারিয়ে কুমিল্লা নিতে পারে মাত্র ১ রান। স্লিপে জুনায়েদ সিদ্দিকী সহজ ক্যাচ না মিস করলে ওই ওভারে উইকেট পড়তো আরও একটি।

এরপরের ওভারে রুবেল হোসেন ঝরান আগুন, মাত্র ১ রান খরচায় তুলে নেন দুই উইকেট। ফলে শেষ ১২ বলে কুমিল্লার জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ রান! মেহেদী হাসান রানার দুর্দান্ত ১৯ তম ওভারেও আসেনি ৮ রানের বেশি, ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য লাগে ১৬। আবু হায়দার রনির মারা টানা চার-ছক্কায় ম্যাচে বাড়ে রোমাঞ্চ। শেষ দুই বলে ৪ রান লাগে এমন সমীকরণে সেট ব্যাটসম্যান মালান রান আউটে কাটা পড়লে শেষ বলে দরকার ৩ রান। ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান মুজিব উর রহমান ডিপ স্কয়ার লেগ অঞ্চলে চার মেরে দলকে এনে দেন তিন উইকেটের অসাধারণ এক জয়।

রান আউটে কাটা পড়ার আগে মালানের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৫ চার ৪ ছক্কায় ৭৪ রান, শেষ ওভারে ম্যাচের রোমাঞ্চ বাড়ানো আবু হায়দার অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ১২ রানে। দুই উইকেট নিয়ে কুমিল্লার সেরা বোলার রুবেল হোসেন, ৪ ওভারে রানও দিয়েছেন মাত্র ১৬। এছাড়া একতি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান, প্লাংকেট, জিয়াউর রহমান ও রায়ান বার্ল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আরেক দফায় উড়ন্ত সূচনা এনে দেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ও লেন্ডল সিমন্স। ১১.৩ ওভার স্থায়ী জুটিতে তুলে ফেলেন ১০৩ রান, যেখান থেকে দলীয় সংগ্রহটা হতে পারতো বেশ বড়। উল্টো ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৫০ হবে কিনা সে শঙ্কাও জেগেছিল, শেষ পর্যন্ত ড্রাফটে অবিক্রীত থাকা জিয়া প্রথমবারের মত ব্যাট হাতে নেমে ছোট্ট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসে দলকে এনে দেন লড়াইয়ের পুঁজি।

বল হাতে ঝলক দেখাতে থাকা সৌম্য সরকারে শিকার হয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান সিমন্স ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ২৮ বলে ফিফটি ছোঁয়া সিমন্স ৩৪ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৫৪ রান তুলে সাজঘরের পথ ধরেন। ১ রানের ব্যবধানে রান আউটে কাটা পড়ে বিদায় নেন ফিফটির অপেক্ষায় থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জুনায়েদ সিদ্দিকীও। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৬ চারে ৪৫ রান।

হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ায় ইমরুল কায়েসের পরিবর্তে অধিনায়কত্বের ভার পড়ে উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের কাঁধে। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর আগের ম্যাচগুলোর ফর্ম টেনে আনতে পারেননি চ্যাডউইক ওয়ালটন (৯), ব্যর্থ হয়েছেন রায়ান বার্ল (২) ও অধিনায়ক সোহানও (৪)। বিনা উইকেটে ১০৩ থেকে চট্টগ্রাম পরিণত হয় ৫ উইকেটে ১৩৯ রানে।

অন্যপ্রান্তে আসা যাওয়ার মিছিল দেখা জিয়া খেলেন ঝড়ো ইনিংস। ২১ বলে ৪ ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস। মাঝে প্লাঙ্কেট ফেরেন ৪ রান করে। চট্টগ্রাম পায় ৬ উইকেটে ১৫৯ রানের সংগ্রহ। কুমিল্লার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন সৌম্য সরকার, একটি করে শিকার আল আমিন, ডেভিড ওয়াইজ ও সানজামুল ইসলামের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৫৯/৬ (২০), সিমন্স ৫৪, জুনায়েদ ৪৫, ওয়ালটন ৯, বার্ল ২, নুরুল ৪, জিয়া ৩৪*, প্লাংকেট ৪, পিনাক ০*; আল আমিন ৪-০-৪০-১, ওয়াইজ ২-০-২৬-১, সানজামুল ৪-০-৩৩-১, সৌম্য ৪-০-২০-২।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৬১/৭ (২০), রবি ১৭, ভ্যান জিল ২২, মালান ৭৪, সৌম্য ৬, সাব্বির ১৮, ওয়াইজ ১, অঙ্কন ০, রনি ১২*, মুজিব ৪*; রুবেল ৪-০-১৬-২, রানা ৩-০-৩১-১, প্লাংকেট ৪-০-৪৬-১, জিয়া ৪-০-৩৬-১, বার্ল ৩-০-৯-১।

ফলাফলঃ কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ ডেভিড মালান (কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

তামিমের চোখে দশক সেরা পারফরম্যান্স

Read Next

মাঠ থেকে সোজা বিমানবন্দরে ছুটতে হলো মালানকে

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
25
Share