লো-স্কোরিং ম্যাচে ইমরুলের ব্যাটে চট্টগ্রামের জয়

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স
Vinkmag ad

ভরা গ্যালারিতে স্বাগতিক দল ঢাকা প্লাটুন টস হেরে ব্যাট করে করতে পারেনি ১২৪ রানের বেশি। কুয়াশাচ্ছন্ন কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বোলাররা বেশ কঠিন পরীক্ষা নেয় তামিম, বিজয়, আফ্রিদি, পেরেরাদের। জবাবে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হলেও ইমরুল কায়েসের ব্যাটে প্লাটুনকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তুলে নেয় টুর্নামেন্টে নিজেদের ৬ষ্ঠ জয়। ফলে প্লে-অফ অনেকটা নিশ্চিত করে নিল ইমরুল কায়েসের দল বলাই যায়।

ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষে চট্টগ্রাম হয়ে আজ থেকে বিপিএল আবার ফিরেছে ঢাকায়। ঢাকায় প্রথম পর্বেও নিয়মিত হয়েছে রান, চট্টগ্রাম অতীত পরিসংখ্যান বজায় রেখে উপহার দিয়েছে রান বন্যা। কুয়াশাচ্ছন্ন মিরপুরের আবহাওয়া অবশ্য দ্বিতীয় পর্বের শুরুটা রাঙাতে পারেনি। চট্টগ্রামের বোলারদের কাছে নাকানি চুবানি খেতে হয়েছে ঢাকা প্লাটুন ব্যাটসম্যানদের। উদ্বোধনী জুটিতে ৩২ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল-এনামুল হক বিজয়।

জীবন পেয়েও ১৩ বলে ১৪ রানের বেশি করতে পারেনি এনামুল হক বিজয়। রান আউটে কাটা পড়লে ভাঙে জুটি, দুই বলের ব্যবধানে কোন রান না করেই ফিরে যান চট্টগ্রামে ঝড় তোলা মেহেদী হাসান। ৯ম ওভারের চতুর্থ বলে তামিমও নাসুম আহমেদের শিকার হয়ে ৩ উইকেটে ৫০ রানে পরিণত হয় ঢাকা। এরপর লেগ স্পিনার রায়ান বার্লের এক ওভারে জাকের আলি ও শহীদ আফ্রিদি ফিরে গেলে আরও বিপাকে পড়ে ঢাকা।

ক্রিজে এসে প্রথম বলেই ফেরেন শাদাব খানও, ৬০ রান তুলতে ঢাকা হারায় ৬ উইকেট। জাকের আলি ৩ রান করলেও দুই পাকিস্তানি আফ্রিদি ও শাদাব খান ফিরেছেন শূন্য হাতেই। ৮ রানের ব্যবধানে ফিরে যান লঙ্কান ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরাও, মুক্তার আলির দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে করেন মাত্র ৬ রান। ভুল বোঝাবুঝির কারণে ক্রিজে থিতু হয়েও ৩২ রানে ফিরতে হয় মুমিনুল হককে।

১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারানো ঢাকা শেষদিকে মাশরাফি-ওয়াহাব রিয়াজের ৩১ রানের জুটিতে ৯ উইকেটে ১২৪ রানের সংগ্রহ পায় প্লাটুন। ১৫ বলে ২ ছক্কায় ওয়াহাব রিয়াজ ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে করেন ২৩ রান, অন্যদিকে ১২ বলে ৩ চারে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মাশরাফি। চট্টগ্রামের হয়ে রায়ার্ন বার্ল ও মুক্তার আলি দুটি এবং নাসুম আহমেদ ও লিয়াম প্লাংকেট একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাবে শুরুটা বাজে হয় চট্টগ্রামেরও, দুর্দান্ত বোলিংয়ে চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন মাশরাফি বিন মর্তুজা,মেহদী হাসানরা। ২৫ রানেই বিদায় নেন দুই ওপেনার লেন্ডল সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। ১৫ রান করে সিমন্স ফেরেন মাশরাফির বলে, ৮ রান করা জুনায়েদ শিকার হন মেহেদীর।
এরপর ইমরুল কায়েস ও চ্যাডউইক ওয়ালটন বিপর্যয় কাটানো ৪১ রানের জুটি গড়েন। ১৬ বলে ২৫ রান করা ওয়ালটনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ওয়াহাব রিয়াজ।

ওয়ালটন ফিরে গেলে রায়ান বার্লকে নিয়ে আরও ৩৪ রান যোগ করেন কায়েস, ১৩ রান করা বার্ল ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হন দলের রান যখন ঠিক ১০০! এরপর নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে বাকি পথ অনায়েসেই পাড়ি দেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ী ম্যাচে ইমরুল তুলে নেন টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় ফিফটি।

 

View this post on Instagram

 

Fifty number 3 for Imrul Kayes in this year BPL. #BPLT20 #BBPLT20 #BangabandhuBPL #BBPL #bplseason7 #DPvCC #CCvDP

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

৫২ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো কায়েস অপরাজিত থাকেন ৫৩ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৫৪ রানে, নুরুল হাসান অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে। ঢাকা প্লাটুনের হয়ে দুটি উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ, একটি করে শিকার মাশরাফি ও মেহেদীর।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ঢাকা প্লাটুন ১২৪/৯ (২০), তামিম ২১, বিজয় ১৪, মেহেদী ০, মুমিনুল ৩২, জাকের ৩, আফ্রিদি ০, শাদাব ০, পেরেরা ৬, ওয়াহাব ২৩, মাশরাফি ১৭*; নাসুম ৪-০-২১-১, প্লাংকেট ৪-০-৩০-১, মুক্তার ৪-০-১৮-২, বার্ল ১-০-১-২।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১২৫/৪ (১৮.৪), সিমন্স ১৫, জুনায়েদ ৮, ইমরুল ৫৪*, ওয়ালটন ২৫, বার্ল ১৩, সোহান ৫*; মাশরাফি ৪-০-১৪-১, মেহেদী ৪-০-২৩-১, ওয়াহাব ৩.৪-০-১৮-২।

ফলাফলঃ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ ইমরুল কায়েস (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

মাশরাফি দেখালেন স্পোর্টসম্যানশিপের নিদর্শন

Read Next

আফিফ-লিটনের জন্য প্রশংসা ঝরলো শোয়েব মালিকের কন্ঠে

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
10
Share