মাশরাফি দেখালেন স্পোর্টসম্যানশিপের নিদর্শন

মাশরাফি বিন মর্তুজা ঢাকা প্লাটুন
Vinkmag ad

১২৫ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ৩য় ওভারের শেষ বলে লেন্ডল সিমন্সের উইকেট হারানোর পর উইকেটে আসেন চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। চতুর্থ ওভারের ৩য় বলে সাজঘরের পথ ধরেন জুনায়েদ সিদ্দিকীও।

মেহেদী হাসানের করা ঐ ওভারেই ঘটে ঘটনাটি। মেহেদী হাসানের করা চতুর্থ বলে ডিফেন্ড করেন ইমরুল কায়েস। ডিফেন্ড করার পরে ক্রিজ ছেড়ে একটু সামনে এগিয়ে আসেন ইমরুল। সেই সুযোগ নিয়ে ফিল্ডার মুমিনুল হক স্টাম্প ভেঙে দেন। মুমিনুল, বিজয়রা জোরালো আবেদন করেন আম্পায়ারের নিকট।

তবে এটা পছন্দ হয়নি ঢাকা প্লাটুন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। আম্পায়ারকে ইশারায় জানিয়ে দেন এটা বিবেচনা করা হোক এটা চাচ্ছেন না তিনি। স্পোর্টসম্যানশিপের নিদর্শন দেখালেন ঢাকা প্লাটুন অধিনায়ক।

শেষমেশ ৫৩ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ইমরুল কায়েস, মাঠ ছাড়েন দলকে জিতিয়েই। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ম্যাচটি জিতে নেয় ৬ উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখে। ম্যাচসেরা হন ইমরুল।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল-এনামুল হক বিজয়। জীবন পেয়েও ১৩ বলে ১৪ রানের বেশি করতে পারেনি এনামুল হক বিজয়। রান আউটে কাটা পড়লে ভাঙে জুটি, দুই বলের ব্যবধানে কোন রান না করেই ফিরে যান চট্টগ্রামে ঝড় তোলা মেহেদী হাসান। ৯ম ওভারের চতুর্থ বলে তামিমও নাসুম আহমেদের শিকার হয়ে ৩ উইকেটে ৫০ রানে পরিণত হয় ঢাকা।

এরপর লেগ স্পিনার রায়ান বার্লের এক ওভারে জাকের আলি ও শহীদ আফ্রিদি ফিরে গেলে আরও বিপাকে পড়ে ঢাকা। ক্রিজে এসে প্রথম বলেই ফেরেন শাদাব খানও, ৬০ রান তুলতে ঢাকা হারায় ৬ উইকেট। জাকের আলি ৩ রান করলেও দুই পাকিস্তানি আফ্রিদি ও শাদাব খান ফিরেছেন শূন্য হাতেই।

৮ রানের ব্যবধানে ফিরে যান লঙ্কান ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরাও, মুক্তার আলির দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে করেন মাত্র ৬ রান। ভুল বোঝাবুঝির কারণে ক্রিজে থিতু হয়েও ৩২ রানে ফিরতে হয় মুমিনুল হককে। ১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারানো ঢাকা শেষদিকে মাশরাফি-ওয়াহাব রিয়াজের ৩১ রানের জুটিতে ৯ উইকেটে ১২৪ রানের সংগ্রহ পায় প্লাটুন।

১৫ বলে ২ ছক্কায় ওয়াহাব রিয়াজ ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে করেন ২৩ রান, অন্যদিকে ১২ বলে ৩ চারে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মাশরাফি। চট্টগ্রামের হয়ে রায়ার্ন বার্ল ও মুক্তার আলি দুটি এবং নাসুম আহমেদ ও লিয়াম প্লাংকেট একটি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ঢাকা প্লাটুন ১২৪/৯ (২০), তামিম ২১, বিজয় ১৪, মেহেদী ০, মুমিনুল ৩২, জাকের ৩, আফ্রিদি ০, শাদাব ০, পেরেরা ৬, ওয়াহাব ২৩, মাশরাফি ১৭*; নাসুম ৪-০-২১-১, প্লাংকেট ৪-০-৩০-১, মুক্তার ৪-০-১৮-২, বার্ল ১-০-১-২।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১২৫/৪ (১৮.৪), সিমন্স ১৫, জুনায়েদ ৮, ইমরুল ৫৪*, ওয়ালটন ২৫, বার্ল ১৩, সোহান ৫*; মাশরাফি ৪-০-১৪-১, মেহেদী ৪-০-২৩-১, ওয়াহাব ৩.৪-০-১৮-২।

ফলাফলঃ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ ইমরুল কায়েস।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘সুপার সিরিজ’ আইডিয়ার প্রশংসায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, তবে…

Read Next

লো-স্কোরিং ম্যাচে ইমরুলের ব্যাটে চট্টগ্রামের জয়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
41
Share