ইমরুল-মাহমুদউল্লাহর ইচ্ছেতেই রানার বিপিএলে দল পাওয়া

ইমরুল কায়েস চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স
Vinkmag ad

ব্যাটে-বলে বিপিএল জমে উঠেছে বেশ ভালোভাবে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স তরুণ পেসার মেহেদী হাসান রানা। কুমিল্লার বিপক্ষে রান বন্যার ম্যাচে ১৬ রানে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আগের দুই ম্যাচে টানা ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জেতা তরুণ এই পেসার। সংবাদ সম্মেলনে বাঁহাতি এই পেসারের দল পাওয়ার পেছনের গল্প জানালেন ভারপ্রাপ্ত কাপ্তান ইমরুল কায়েস।

৪ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে আছেন সবার উপরে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সৌম্যের ৭। উইকেটের চাইতে রান খরচে মিতব্যয়ী ও ডেথ ওভারে করছেন দুর্দান্ত। গতকাল চট্টগ্রামের দেওয়া ২৩৯ রানের বড় লক্ষ্যও প্রায় তাড়া করে ফেলছিল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। মেহেদী হাসানের দুর্দান্ত প্রথম স্পেলেই অবশ্য পিছিয়ে যায় তারা। প্রথম দুই ওভারেই তিন উইকেট, প্রথম তিন ওভারে মাত্রে ৬ রান খরচ। শেষ ওভারে আবু হায়দার ছোট্ট ঝড় না তুললে ফিগার হত আরও দুর্দান্ত।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রানা প্রসঙ্গ আসতেই নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের চোটে অধিনায়কত্ব পাওয়া ইমরুল জানালেন কীভাবে তার ও রিয়াদের ঝুঁকি নিয়ে রানাকে দলে নেওয়া, ‘রানার বিষয়ে আমি আর রিয়াদ ভাই একরকম চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। রানাকে আসলে, সে যখন দল পায়নি তখন আমি আর রিয়াদ ভাই দুইজন আলোচনা করে দলে নিয়েছিলাম। প্রথমে কেউ ওকে চিনছিলো। ওকে আসলে একটি ট্রা ম্প কার্ড হিসেবে পেয়েছি আমরা।’

রানার মত প্রতিভাদের জন্য বিপিএল কতবড় মঞ্চ তা জানাতে গিয়ে ইমরুল যোগ করেন, ‘ও নিজের কাজটি অনেক ভালোভাবে করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এটা ওর ক্যারিয়ারের জন্য ভালো হয়েছে। কারণ এমন বোলার যদি বিপিএল না খেলে, আপনারা দেখবেন যে এমন অনেক বোলার আছে যারা বিপিএলে দল পায়নি, তাদের কেউ চিনে না। হয়তো রানার মতো অনেক বোলার আছে। আমার মনে হয় যে রানার জন্য এটা ভালো, ওর ক্যারিয়ারের জন্য। আমার বিশ্বাস সে অনেক ভালো করছে এবং আগামীতে আরো ভালো করবে।’

আগের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে চোট পেয়েছেন নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, ফিল্ডিং ইনিংস পুরোটাই সামলেছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইমরুল কায়েস। চোটে চট্টগ্রাম পর্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়া রিয়াদের পরিবর্তে অধিনায়ক হিসেবে গতকাল টস করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক হিসেবে রানাকে কীভাবে সামলেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি মাঠে যতটা সাহায্য করার ততটুকু করি, সাহস দেয়ার দরকার হলে দেই। তবে আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে আমি এর আগেও ওর সঙ্গে বিপিএল খেলেছিলাম, প্রিমিয়ার লিগ খেলেছিলাম।’

আগের রানার সাথে বেশ পার্থক্য দেখছেন উল্লেখ করে যোগ করেন, ‘সেই রানা আর এই রানার পার্থক্য দেখেছি। কারণ ওই রানার তেমন আত্মবিশ্বাস ছিল না। তবে এখন তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। এখন যদি আমি ওকে বলি যে তুই কি বল করবি, ও আমাকে বলে যে ভাইয়া আমি এটাই করবো। সে এক্স্যাক্টলি সেটাই এক্সিকিউট করে। এটাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা সে আগে করতে পারেনি। সে আগে মাঠে দুর্বল থাকতো। আমার মনে হয় এই ব্যাপারটি সে পরিবর্তন করেছে, যার জন্য সে এখন হয়তো আরো ভালো করছে।’

যখনই উইকেট দরকার হচ্ছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স কাপ্তান ডেকে পাঠাচ্ছেন ২২ বছরের তরুণ পেসার রানাকে। মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া স্পিনারের কাজটাই পেসার মেহেদীকে দিয়ে করাচ্ছেন বলে জানান কায়েস, ‘আসলে দেখেন আমাদের দলে কিন্তু তেমন স্পিনার নেই উইকেট বের করে দেয়ার মতো। রানা ভালো করছে তাই ওকে আমার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বোলিং করাতে হচ্ছে।’

‘যখন একটা ভালো জুটি হচ্ছে তখন রানাকে আবার সেখানে বোলিং করাতে হচ্ছে। এমন একজন বোলার থাকলে অধিনায়কের জন্য সহজ হয়ে যায়। আজকে রুবেল এসে অনেক ভালো বোলিং করেছে। তার খেলারই কথা ছিল না, ওর ছেলে অসুস্থ ছিল। এরপরেও সে খেলেছে। শেষ ম্যাচে ওর বোলিংটা আমরা পাইনি, অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমার কাছে মনে হয় এভাবে যদি বোলিং করতে থাকে তাহলে অবশ্যই দল ভালো করবে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

রানবন্যার ম্যাচে পার্থক্য গড়লেন বোলার রানা

Read Next

আগে ব্যাটিংয়ে সিলেট থান্ডার

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
30
Share